নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষাই গণআন্দোলন সফল করতে পারে - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:০৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষাই গণআন্দোলন সফল করতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৩১, ২০২২ ১:৫৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৩১, ২০২২ ১:৫৩ অপরাহ্ণ

 

আবুল কালাম মানিক

বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে উপনীত হলেও তা চ‚ড়ান্ত রূপ পরিগ্রহ করতে নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। একতা, নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য ও অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষাই গণআন্দোলন সফল করতে পারে। এ দফায় তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে এমনটা ভাবার যৌক্তিক কোনো কারণও নেই। বিভিন্ন সমাবেশে নেতারা বলছেন, এই আন্দোলন প্রজাকে রাজা বানানোর এক কঠিন ব্রত। তাই রাজপথে সরব রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে প্রধান শক্তি বিএনপিকে সদা সতর্ক থাকতে হবে যেকোনো অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার ব্যাপারে। হঠকারী সিদ্ধান্ত-কর্মসূচি কিংবা পারস্পরিক দোষারোপ যাতে আন্দোলনের ক্ষতি করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে বিশেষ করে দলীয় নেতৃত্বকে খুবই সতর্ক ও আন্তরিক হতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সবাইকে আস্থায় নিয়ে সর্বাত্মক গণআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিএনপি আস্থার সঙ্কটে ভুগছে। একই সময়ে ২০ দলীয় জোট সঙ্গীদের সাথে দলটির দূরত্বও কমছে না।

বিভিন্ন সময়, ‘দলে ও জোটে সন্দেহের চোখ বিএনপির, নেতা-কর্মীদের নানামুখী তৎপরতা ঠেকাতে ব্যস্ত বিএনপি, ভিন্নমতে ক্ষুব্ধ বিএনপি’- ইত্যাদি শিরোনামে সংবাদপত্রে প্রকাশিত পিলে চমকানোর মতো প্রতিবেদনগুলো দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে। এই বিশ্বাস-অবিশ্বাসের টানাপড়েন নিরসনে আজো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও মতামত থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেশ আগেই বিনা ভোটে জাতীয় সরকার গঠনপ্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী কিছু ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দল ও বড় দলের কিছু ছোট নেতা বিগত তিন বছর যাবৎ নানা তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। তারা দেশ-বিদেশে দেন-দরবারে ব্যস্ত। এসব নেতা সর্বাগ্রে সরকারে আসীন হয়ে নির্বাচনসহ বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান চান। তাদের তৎপরতা রাজপথের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপির সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন প্রস্তাবের পরিপন্থী। আন্দোলনরত বিরোধী দলগুলোর মৌলিক এই মতপার্থক্য রাজপথে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালনে প্রতিবন্ধক হিসাবে দেখা দিয়েছে। বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে নানামুখী বিতর্কিত তৎপরতায় লিপ্ত থাকার কারণে বিরোধী শিবিরে অবিশ্বাস-সন্দেহ নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তাছাড়া, ২০১৮ সালের বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সরকার পতনের লক্ষ্যে বিদেশের মাটিতে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠানের খবর প্রকাশ পাচ্ছে। বিনা ভোটে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় তৎপর বিভিন্ন দলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা এসব বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। পত্র-পত্রিকায় অংশগ্রহণকারীদের নাম প্রকাশ পেলেও সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একই পন্থা অবলম্বন করছে বিএনপিও। বিদেশে এসব বৈঠক আয়োজনের নেপথ্য কারিগর হলেন মাসুদ করিম নামের লন্ডন প্রবাসী এক বাংলাদেশী। তার সাথে পশ্চিমা একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সখ্য রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়। তার আরেক নাম এনায়েত করিম। তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে বিএনপি সরকারের আমলেই জেল খাটেন। একসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন। মাসুদ করিমের সাথে নেপাল-থাইল্যান্ডে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের একাধিক বৈঠক হওয়ার খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। অলি আহমদ অবশ্য বলেছেন, তিনি মাসুদ করিমকে চেনেন না। তবে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান ও পেশাজীবী নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘তিনি মাসুদ করিমকে চেনেন।’ তিনি বলেন, মাসুদ করিম একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তার ভালো আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আছে।’

রাজপথে যখন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পুলিশ একবারেই দাঁড়াতে দিচ্ছিল না ঠিক তখন কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হাইকোর্টের সামনে কয়েক শ’ লোক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে আদালতসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। নজিরবিহীনভাবে দায়িত্বরত পুলিশ নীরব ছিল। একইভাবে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মোড়-মুক্তাঙ্গন এলাকায় সহস্রাধিক লোকের আকস্মিক অবস্থান গ্রহণ এবং সমাবেশ থেকে সরকার পতনের ডাক দেয়া হয়। চলতি বছরের ২৭ মার্চ পেশাজীবী সমাজের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কয়েক হাজার লোক দিনব্যাপী অবস্থান গ্রহণ করলে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। হাইকমান্ডের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই বিএনপির এক নেতা এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। অপর দিকে, হাই কমান্ড নিজস্ব দলীয় চ্যানেলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের এসব কর্মসূচি বর্জনের নির্দেশ দেয়। উল্লিখিত সব কর্মসূচিই ছিল মারমুখী। কিন্তু রহস্যের ব্যাপার হলো, পুলিশ একটি কর্মসূচিতেও বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেফতার কিংবা কারো বিরুদ্ধে মামলাও করেনি।

উল্লিখিত কঠোর কর্মসূচিগুলো সফলভাবে পালনের ফলে এক শ্রেণীর বিএনপি নেতা-কর্মীর মধ্যে সরকার পতন আন্দোলনের ব্যাপারে মূল নেতৃত্বের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ব্যাপারে সংশয় ও দোদুল্যমানতা দেখা দেয়। তবে দলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালনকারী বিএনপি নেতাদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে হাইকমান্ড। বিএনপি নেতৃত্বের দৃঢ়বিশ্বাস সরকার ও সরকারের সমর্থক গোষ্ঠী তাদের দূর থেকে মদদ দিচ্ছে। এই মহলটি দীর্ঘদিন যাবৎ জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে সংশয়, অবিশ্বাস ও বিভাজন সৃষ্টিতে তৎপর। এদের মূল লক্ষ্য সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন। তাই তারা কৌশলে সরকারের পক্ষ হয়ে সরকার হঠানোর নামে মূলত বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

সরকার পতনের আশায় দেশের মাটিতে পুলিশের পূর্বানুমতিহীন নির্র্বিঘ্ন কঠোর রাজপথের কর্মসূচি এবং বিদেশের মাটিতে ঘনঘন বৈঠক বিএনপি হাইকমান্ডের জন্য উদ্বেগ ও হতাশার কারণ। চলতি মাসে ব্যাংককে এ ধরনের একটি বৈঠকের আভাস দিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো। ১৭ আগস্ট প্রথম আলো বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদের এক সাক্ষাৎকার ছাপে। সাক্ষাৎকারের উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সরকার পতনের লক্ষ্যে চলতি আগস্ট মাসেই ব্যাংককে একটি বৈঠক হতে পারে। প্রতিবেদক উল্লেখ করেন, এ ধরনের বৈঠক আগেও কয়েকবার হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মেজর (অব:) হাফিজ বলেন, ‘আমার এ ধরনের কোনো বৈঠকে যোগদানের সুযোগ হয়নি। বাইরে মিটিং করে কেউ সরকারের পতন ঘটাবে এরকম শক্তিমান পুরুষ তো আমি দেখি না। বিএপির মতো বড় দল যেখানে খাবি খাচ্ছে, সেখানে অজানা-অচেনা একটা গ্রুপ গিয়ে সরকারের পতন ঘটাবে, এটা সম্ভব না। এটা একবারেই কল্পকাহিনী।’ হাফিজ বলেন, ‘কেউ ব্যাংককে বৈঠক করে সরকার ফেলে দেবে, এটা আউট অব কোয়েশ্চেন। এটা টাকা-পয়সা কামানোর ধান্ধাও হতে পারে।’ তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, ‘সব কিছুই সম্ভব যদি জনতা রাজপথে তাদের শক্তি ও সরব উপস্থিতি প্রমাণ করতে পারে। বর্তমান সরকারকে রাজপথে উৎখাত করা কঠিন কাজ।’

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিলে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া কঠিন নয় যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে বিএনপির বিকল্প একটি রাজনৈতিক শক্তি দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা কার্যত বিনা বাধায় এগিয়ে যাচ্ছে। মধ্যম সারির বিতর্কিত এসব নেতার দলীয় অনুমোদনবিহীন তৎপরতা আন্দোলনমুখী নেতা-কর্মী ও জনতার জন্য যে ভুল বার্তা দিচ্ছে তা দেশে গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতার পালাবদল দুরূহ করে তুলছে।

গণআন্দোলনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এই তৎপরতার বিশদ বিবরণ প্রকাশিত হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এ পর্যন্ত পাঁচটি বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায়। তিনটি ছাপা হয়েছে দৈনিক প্রথম আলোতে, একটি দৈনিক সমকালে ও আরেকটি দৈনিক দেশ রূপান্তরে। প্রথম আলোর ৩১ মার্চ ২০২২ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ দলের একাংশ পেশাজীবী সমাজের ব্যানারে সমাবেশ করে সরকার পতনের ডাক দিয়েছে। বিগত ২৭ মার্চ রোববার ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির’ দাবিতে বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশ হয়। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও এক পেশাজীবী নেতা এই সমাবেশের আয়োজক। এই সমাবেশ থেকে তিনি সরকার পতনের ডাক দেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনীতিবিদরা যদি ব্যর্থ হয়, তা হলে পেশাজীবীরা গণ-অভ্যুত্থানের দায়িত্ব নেবে।’ এই সমাবেশে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। তবে, লে. জেনারেল (অব:) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর অংশগ্রহণ অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। আয়োজকরা এমন ধারণা দিয়েছিলেন যে, লাখ লাখ লোক এই সমাবেশে যোগ দেবে এবং এখান থেকে পটপরিবর্তনের সূচনা হবে। এই সমাবেশকে বিএনপি নেতারা দলে অবিশ্বাস ও বিভাজন বাড়ানোর অপপ্রয়াস হিসাবে গণ্য করেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় হঠাৎ সরকার পতনের ডাককে ‘চক্রান্ত’ হিসাবে আখ্যা দেন।

‘দল ও জোটে সন্দেহের চোখ বিএনপির’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রথম আলোর ২১ মার্চ ২০২১ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাংকক ও কাঠমান্ডুতে একাধিক বৈঠকে ৪০ নেতার অংশগ্রহণ, ঢাকায় হঠাৎ জমায়েত, দোয়া অনুষ্ঠান ও এ ব্যাপারে সরকারের নির্লিপ্ততা বিএনপিকে ভাবাচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০১৯ সালের এপ্রিল ও মে মাসে দেশে-বিদেশে একাধিক বৈঠক হয়। বিএনপি, ২০-দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হকের ছাত্র অধিকার পরিষদের অন্তত ৪০ নেতা ব্যাংকক ও কাঠমান্ডুর ওইসব বৈঠকে অংশ নেয়। হেফাজতে ইসলামের এক নেতা এমন একটি বৈঠকে অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাজধানীতে অবরোধ কর্মসূচি পালনের অভিযোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজ করা হয়েছে। দলের হাই কমান্ড এ ধরনের অঘোষিত কর্মসূচিকে হঠকারী ও আত্মঘাতী বলে মনে করে। ফলে, রাজধানীর মুক্তাঙ্গনের মতো আরো কয়েকটি পয়েন্টে অবরোধের পরিকল্পনা থাকলেও তা ব্যর্থ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণীতে পত্রিকাটি বলে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী পরিষদের আলোচনা সভা শেষে বেলা সোয়া ২টার দিকে প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী মুক্তাঙ্গনে জড়ো হয়। বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও এর আশপাশ থেকে একই সংখ্যক নেতা-কর্মী মাথায় ক্যাপ ও হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে সেখানে আসে। এতে হেফাজতে ইসলামের শতাধিক নেতাকর্মী যোগ দেয়। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও এক পেশাজীবী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের পদধারী উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। তদানীন্তন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া কিছু সময়ের জন্য উপস্থিত থেকে চলে যান। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হলেও পুলিশ সমাবেশ অনুষ্ঠানে বাধা দেয়নি।

‘ভিন্নমতে ক্ষুব্ধ’ শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তরের ২১ এপ্রিল ২০২২ তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠন, কিন্তু বিএনপির কয়েকটি মিত্র দলের লক্ষ্য হলো নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার। ভিন্নমত পোষণকারী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা জড়িত। হাইকমান্ড মনে করে, তারা সরকার পতনের নামে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ