নেত্রকোণা ৫:ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি জামায়াত
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫ ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ৩১, ২০২৫ ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের ১৬১তম আসন নেত্রকোণা-৫। পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। মাঠ গোছাতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। সম্প্রতি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরইমধ্যে উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পল্লিতে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে কে পাবেন ধানের শীষের মনোনয়ন? এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। তবে, এবারের নির্বাচনে নেত্রকোণা-৫ আসনে লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি’র পাঁচজন প্রার্থী ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করছেন। আর এ আসনে জামায়াত এবং খেলাফত আন্দোলন তাদের একক প্রার্থীর নাম প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেছেন। তারাও নির্বাচনের পুরো মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- জেলা বিএনপি’র তিনবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলহাজ আবু তাহের তালুকদার, যুক্তরাজ্য বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আলহাজ বাবুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরান, বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মুহাম্মদ আলীর ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা। জামায়াতের একক প্রার্থী হলেন নেত্রকোণা জেলা জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ খান। এডভোকেট আলহাজ আবু তাহের তালুকদার নেত্রকোণা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি। পূর্বধলার ১১টি ইউনিয়নে তার ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। তিনি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বিগত দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপি’র দুঃসময়ে পূর্বধলায় দলের হাল ধরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। হাসিনার পতনের আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়। বিগত সময়ে এ আসনে ধানের শীষের নমিনী হিসেবে আবু তাহের তালুকদার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এদিকে, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ খান এলাকায় বেশ পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনীতিবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এডভোকেট। রমজান মাস জুড়ে এলাকায় অবস্থান করে ইফতার মাহফিল, ঈদ উপহার বিতরণ, ঈদ পুনর্মিলনীতে সরব ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছেন।
ওদিকে, বারবার কারা নির্যাতিত উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার। তিনি ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি। দেড় দশক ধরে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি’র নির্যাতিত নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার ওপর আওয়ামী লীগের হামলাসহ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বাসভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। তিনি পূর্বধলায় দলের দুঃসময়ে নেতৃত্বের হাল ধরে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আন্দোলনের অগ্রভাবে থাকায় বাবুল আলম একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। পূর্বধলা উপজেলায় ঘন ঘন মতবিনিময় সভা চালিয়ে যাচ্ছেন। তালিকায় আছেন ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় ছাত্রদল নেতা এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরান। তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ২০০২ থেকে ২০০৪ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য, ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত দেড় দশকে এ.এস.এম শহীদুল্লাহ ইমরান নেত্রকোণা ও রাজধানী ঢাকায় ১১টি মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি নির্বাচনী এলাকা পূর্বধলায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন।
এ ছাড়া, এ আসনে আলোচনায় রয়েছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মুহাম্মদ আলী ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী দম্পতির সন্তান ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুবুল আলম রানা। এলাকায় পিতার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রত্যয় তুলে ধরে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। এলাকায় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও পারিবারিক ভোট ব্যাংকের হিসাবে তিনি একজন বেশ শক্তিশালী প্রার্থী। পিতার রাজনৈতিক অনুসারীসহ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার রানা ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাকে নিয়ে বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ