নৌকার পক্ষে থাকতে কোরআন ছুঁয়ে জনপ্রতিনিধিদের শপথ করালেন এমপি ওমর ফারুক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৩ ৭:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৩ ৭:১৭ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
নৌকার পক্ষে থাকতে কোরআন ছুঁয়ে জনপ্রতিনিধিদের শপথ করিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। গতকাল শনিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে এ শপথ করান তিনি। এ সময় তিনি নিজের মোবাইলে পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ করার দৃশ্য ভিডিও করে রাখেন। এমন একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা নিয়ে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ভিডিওতে দেখা যায়, পবিত্র কোরআন হাতে নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা বলেন, ‘আজকে আমি পবিত্র কোরআন নিয়ে বলছি। প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে কোনো দিন যাব না। সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় সব কার্যক্রম পরিচালনা করব ইনশাআল্লাহ। নৌকার সঙ্গে বেইমানি করব না।’
কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী পৌর মেয়র ও গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে সভাপতি করেছেন। আমরা শেখ হাসিনার পক্ষে থাকব এজন্য কিছু নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যানরা ঐক্যবদ্ধ হয়। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করব এটাই আমাদের ওয়াদা। তার দাবি, তারা নিজেরাই কোরআনে হাত রেখে শপথ নিয়েছেন। এখানে কেউ কিছু বলেননি বা জোর করেননি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাতে গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, গোদাগাড়ী পৌর মেয়র ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস, মাটিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা, দেওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলসহ তানোর ও গোদাগাড়ী বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রকে কোরআনে হাত রেখে শপথ করানো হয়েছে।
এ সময় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। কিন্তু ভিডিও প্রকাশের পর রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয়। তবে এ নিয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনীল সরকার মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানি না। তবে পবিত্র কোরআন সবার ঊর্ধ্বে। এটা নিয়ে শপথ করতে পারে কী বা পারে না সেটা নিয়ে মন্তব্য করব না। কারণ রাজনীতি করতে হলে অনেক সময় অনেক কথা বলা লাগে। তিনি কোন মাইন্ডে কাজটা করেছেন আমি তার মন্তব্য করতে পারব না। এটা উনার ব্যাপার। তাকে প্রশ্ন করেন। আমি মন্তব্য করতে পারব না।’
তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘এই কাজগুলো রাজনৈতিক কোনো বিধানের মধ্যে পড়ে না। আমি মনে করি, রাজনৈতিকভাবে যারা দেউলিয়া জায়গায় তারা এসব কাজ করে।’ কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, আমি কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করাইনি। এটি তারাই করেছে। তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে চেয়েছে। আমরা সবাই বলেছি, হ্যাঁ থাকা দরকার। আমি তাদের বললাম- ভাই, এর আগে তো এরকম হয়েছে কিন্তু কথা তো ঠিক থাকেনি। তখন তারাই প্রস্তাব দিয়েছে যে, আমরা আপনার সামনে কোরআন ছুঁয়ে সবাই শপথ করব। পরে তারা কোরআন ছুঁয়ে শপথ করেছেন। আমি সবার ভিডিওটি করে রেখেছি। কারণ হলো- তাদের বলেছি, বাবা তোমরা যারা উল্টে যাবা তাদের তখন এই ভিডিওটি দেখাব। সামনে যদি আন্দোলন হয়, সামনে নির্বাচন আছে। এজন্য তারা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে এমন উপলব্ধি করানোর জন্য এটি তারা করেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যেই কিছু আছে যারা দিনের বেলা আওয়ামী লীগ সাজে, রাতের বেলা অন্যদল করে। তাদের জন্য এটি সমস্যা এবং চুলকানি।’
জনতার আওয়াজ/আ আ