নড়িয়ায় পুলিশের ধাওয়ায় প্রবাসীর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, মার্চ ২৩, ২০২২ ১২:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, মার্চ ২৩, ২০২২ ১২:২৯ অপরাহ্ণ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পন্ডিতসার দক্ষিণপাড়া জালুয়াহাটি এলাকায় পুলিশের ধাওয়ায় চান মিয়া হাওলাদার (৩৮) নামক এক ইতালি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছিলো বলে অভিযোগ করেছিল তাঁর পরিবার। বুধবার (২৩ মার্চ) ওই ঘটনায় চান মিয়ার ভাই কালু হাওলাদার বাদী হয়ে পুলিশকে বাদ দিয়ে ছয়জনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক ইকবাল হোসেন ও কনস্টেবল নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত চান মিয়াকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ করা হলেও মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়নি। মামলার আসামিরা হলেন তুহিন পেদা (৩২), রুবেল সরদার (৩০), লিজা বেগম (২০), জাকির (২৭), রাব্বি (২৬) ও জাহাঙ্গীর (২৮)। তাঁদের বাড়ি নড়িয়া উপজেলার নিতিরা ও নলতা এলাকায়।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়ার পন্ডিতসার দক্ষিণপাড়া জালুয়াহাটি গ্রামের চান মিয়া হাওলাদার ২০০৯ সাল থেকে ইতালির রোমে থাকেন। পার্শ্ববর্তী নিতিরা গ্রামের তুহিন পেদা ও নলতা গ্রামের রুবেল সরদারও তাঁর সঙ্গে ইতালিতে থাকেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ২৮ জানুয়ারি চান মিয়া দেশে বাড়িতে আসে। আর তুহিন ও রুবেল সরদারও সম্প্রতি দেশে আসে। ১৬ মার্চ চান মিয়া নড়িয়া উপজেলা সদরে গেলে তুহিন ও রুবেল তাঁকে (চান মিয়া) মারধর করে। গত সোমবার ঘরিষার বাজারে আবারও তাঁকে মারধর করে। ওই সময় চান মিয়ার স্বজনদের সঙ্গে তুহিন ও রুবেলের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই রুবেলের স্ত্রী লিজা আক্তার বাদী হয়ে চান মিয়ার বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি অভিযোগ করে। এ ঘটনা নিয়ে নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক ইকবাল হোসেন তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঙ্গলবার সকাল অনুমান ১১টায় চানমিয়াদের বাড়ি যায়। সেখানে যাওয়ার পর পুলিশ দেখে লোকজন ছুটোছুটি করে। চানমিয়া দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। পুলিশ আসামীদের পিছু ধাওয়া করে। চানমিয় কত দুর যাওয়ার পর এক পর্যায়ে পাশের বাড়ির বাগানের মধ্যে পরে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে মারা যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। চান মিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে নড়িয়া থানার ওসি অবনি শংকর কর মঙ্গলবার বিকেলে ওই গ্রামে গেলে সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ মিছিল করেন গ্রামবাসী। চান মিয়ার মৃত্যুর জন্য পুলিশকে দায়ী এমন শ্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এদিকে এ ঘটনায় বুধবার সকালে চান মিয়ার ভাই কালু হাওলাদার বাদী হয়ে পুলিশকে বাদ দিয়ে ছয়জনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তবে নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক ইকবাল হোসেন ও কনস্টেবল নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মৃত চান মিয়াকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ করা হলেও মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী কালু হাওলাদার বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ। আমার ভাই মারা গেছেন, তাঁকে আর ফিরে পাব না। আমরা পুলিশের বিরুদ্ধে লড়াই করে পারব না। তাই পুলিশ সদস্যদের বাদ দিয়ে মামলা দায়ের করেছি। নড়িয়া থানার ওসি অবনি শংকর কর কথা দিয়েছে “আমার ভাইয়ের হত্যার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
এ ব্যাপারে নড়িয়া থানার ওসি অবনি শংকর কর বলেন, মৃত চান মিয়ার ভাই লিখিতভাবে যে অভিযোগ থানায় দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বাদী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।
জনতার আওয়াজ/আ আ