পতনের ভয়ে অবৈধ সরকারের পা কাঁপছে : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১০, ২০২৩ ৩:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১০, ২০২৩ ৩:০৫ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
পতনের ভয়ে অবৈধ সরকারের পা কাঁপছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সরকার প্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি এত জুলুম অত্যাচার নির্যাতন করেছেন বিরোধী দলের নেতাদেরকে রক্ত ঝরিয়েছেন তারপরও আপনি ক্ষমতায় থাকবেন এটার সম্ভাবনা নাই। আপনার পতন অবশ্যম্ভাবী। চারদিকে বিদায়ের ঘন্টা বাজছে। আপনার সিংহাসন আপনার সরকারের পা কাঁপছে আপনার সরকার হুরমূর করে পড়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বরিশাল বিভাগের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন উদ্যাগ্যে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়ার প্রতিবাদ এবং বিএনপির সহ সাংগঠনিক আকন কুদ্দুসের মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে শেখ হাসিনা আটক করেছে কারণ তারা বাহিরে থাকলে শেখ হাসিনার ময়ূরের সিংহাসন ধরে টান দেয় কিনা এই এই আতঙ্কের কারণেই বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে আটক করে রেখেছে।
বিএনপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা ২০১৪ নির্বাচনের আগে আই সি টি অ্যাক্ট আইন, ১৮ নির্বাচনের আগে করলেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এবার সামনে যে নির্বাচন তার আগে করলেন সাইবার নিরাপত্তা আইন। এগুলো করেছে আশঙ্কা থেকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের পার্থক্য কি? আমি তো কোন পার্থক্য দেখি না। ৬০টি ধারা তার মধ্যে দুই একটি ধারা পরিবর্তন করেছে তার মধ্যে কি তুই আগে নদীর পানি খেতে পারতি এখন নদীর পানি খেতে পারবি না পুকুরের পানি খাবি এই পার্থক্য ছাড়া আর কোন পার্থক্য নাই।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, সাংবাদিকরা বেতন পায় কত? ধরেন ৫০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া দিবে, একটা বাচ্চা থাকলে তার স্কুলের টিউশন ফ্রি দিবে। এখন যদি কোন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিউজ করে সন্ত্রাস তো সব আওয়ামী লীগেরই লোকজন করে তাহলে তাকে জেলে যেতে হবে না হলে অর্থদণ্ড দিতে হবে ২৫ লাখ টাকা। এখন এই টাকা সে পাবে কোথায়?দদডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার আইন একই জিনিস। ঘটনা তো একই নতুন বোতলে পুরাতন বিষ। পাঠ্যসূচি একই আছে শুধু মোলাটা পরিবর্তন করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ভেবেছে কি গোটা জাতি বোকা আর তিনি একাই চালাক। মানুষ মনে হয় কিছু বুঝে না।
রিজভী বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের নামে কেন সাজা দিয়েছে তা আমরা জানিনা? সবাই জানে। ভয় থেকে এই সাজা দেয়া হয়েছে। আপনি শেখ হাসিনা এত উন্নয়নের কথা বলেন তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে এত ভয় কিসের? এত আতঙ্ক কেন? আপনার নেতাকর্মী এমপি মন্ত্রীরা উন্নয়নের কথা বলে মাইক ফাটিয়ে দিচ্ছে অথচ সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা তত্ত্বাবধায়কের কথা বলে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো পার্মানেন্ট সরকার না শুধু নির্বাচনকালীন সরকার। এই তত্ত্ববোধক সরকারের কথা বললে এত ভয় কিসের এত আতঙ্ক কিসের আপনার? আপনি যদি এতই জনপ্রিয় হন আপনার আমলে যদি এতই উন্নয়ন হয়ে থাকে তাহলে এই ভয়টা কেন? কারণ ওই উন্নয়নের নামে মেঘা প্রজেক্টর নামে যে অর্থ লুটপাট করেছেন পাচার করেছেন তা আপনি ভালো করেই জানেন দেশের জনগণও জানে এখন বিদেশিরাও জানে সেটা নিয়েও বিভিন্নভাবে কথা বলছে। এই কারণেই আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রাজি না।
বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘আপনি হাসিনা বিচার বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ নিজের লোক দিয়ে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে আপনি এক লাফ দিতে বললে তারা তিন লাফ দেয়। দেশের জনগণ বুঝে আপনার যে নীল নকশা সেই নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচনের আগে বিএনপির কত নেতাকে সাজা দেওয়া যায়। বিচার বিভাগ ও প্রশাসন সে নীল নকশা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনার হয়তো এ দেশের ইতিহাস জানা নাই। আপনার চারপাশের পুলিশ প্রশাসন আপনার মনে হবে তারা আপনাকে রক্ষা করছে। কিন্তু যখন পতনের সময় আসবে তখন এদের কাউকে কিন্তু পাবেন না। ডানে বামে সামনে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পাবেন না।
এসময় তিনি বেগম খালেদা জিয়া, আকন কুদ্দুস সহ যারা রাজবন্দী সবার মুক্তি দাবি করেন।
আফম রশিদ দুলাল হোসেনের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, কেন্দ্রীয় নেতা বিলকিস জাহান শিরিন, মীর সরাফত আলী সপু, মুনির হোসেন, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু,আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ