পদ্ধতি আমাদেরকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে আঁখি তুমি ক্ষমা করোনা - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:০৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পদ্ধতি আমাদেরকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে আঁখি তুমি ক্ষমা করোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০২৩ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জুন ২০, ২০২৩ ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

 

ইয়াকুব আলী প্রথম বাবা হবেন।তার প্রিয়তমা স্ত্রী আঁখিকে দেশের নামকরা গাইনি চিকিৎসক ডাঃ সংযুক্তা সাহার অধীনে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করান।গত ৯ জুন শুক্রবার প্রসব বেদনা শুরু হয় আঁখির।তাৎক্ষণিকভাবে ডেলিভারি করতে যান ডাঃ মিলি।
ডাঃ মিলি ওই প্রসূতির পেট কাটতে গিয়ে মূত্রনালি ও মলদ্বার কেটে ফেলেন।সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়ে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।অজ্ঞান অবস্থায় সিজার৷ করে বাচ্চা বের করার পর বাচ্চার হার্টবিট কমে গেলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে। এরপর ১০ দিন আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হলেও বাঁঁচেননি প্রথমবারের মতো মা হওয়ার স্বপ্ন দেখা মাহমুদা রহমান আঁখি। আধুনিক যুগে ঢাকার অভিজাত এলকায় অবস্থিত সেন্ট্রাল হসপিটালে এই ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার ফলে মা-সন্তান কেউ কারো মুখ দেখার আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।ইডেন কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল মাহমুদা রহমান আখিঁ।মহান স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও ডিজিটাল বাংলাদেশে কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিন মা ও শিশু ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারায়।
সেন্ট্রালের মা- মেয়ের আলোচিত খুনি নারী ডাক্তার ৩ হাসপাতাল মিলে দিনে ২০০ রোগি দেখতেন, ২৪ ঘন্টায় ১২ থেকে ১৫ টি ডেলিভারি করতেন, প্রতিদিন তার আয় ১০ লাখ টাকা।তাদের মাথায় টাকার যানজটে আটকে ছিল। এভাবে আর কত মৃত্যু হয়েছে কে জানে?

যে ঘটনা ভাইরাল হয় সে ঘটনা সবাই জানলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনাটি আড়ালে থেকে যায়।এই মৃত্যু কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বরং হত্যাকান্ড।ব্যাঙের ছাতার মতো দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক। যারা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করেনা।মাঝে মাঝে জরিমানা দিলেও দেখা যায় ক্ষমতার অপ ব্যাবহার করে নতুন করে শুরু করে অবৈধ চিকিৎসা ব্যাবসা।বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো আরো ভয়াবহ। কিছু অসৎ চিকিৎসকদের মোটা অংকের কমিশন দিয়ে নাকের ডগায় চালানো হচ্ছে এসব ব্যাবসা।কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারি চিকিৎসকরা নিজেরাই বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান খুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। এটি একটি সেবাখাত।কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই সেবাখাতকে একশ্রেণীর অসাধু মানুষ হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাবসায়ীখাতে পরিনত করেছে। অনেক সময় সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করে তাকে আইসিসিইউতে রেখে কিংবা রুগী মৃত্যুবরন করছে তারপরও তাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টার নামে ইমোশনাল ব্যাকমেইল করে রুগির পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট এর চেয়েও অনেক ভয়াবহ সিন্ডিকেট এখন চিকিৎসা সিন্ডিকেট। এযেন দেখার কেউ নেই। আমাদের কাছের কেউ ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুবরন করলে আমরা প্রতিবাদ করলে আর সেই প্রতিবাদ যদি ভাইরাল হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ প্রতিবাদে অংশ গ্রহণ করলে তাদেরকে মোটা অংকের টাকা ধরিয়ে দেয়।তখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেমে গেলে সাধারণ মানুষ ভুলে যায়।তখন আরো ভয়াবহভাবে ঐ প্রতিষ্ঠান নতুনমাত্রায় ব্যাবসা শুরু করে।রক্ত সিন্ডিকেট আরো ভয়াবহ। ফেইসবুকে হাজারো পেইজ কিংবা গ্রুপ রয়েছে যারা মানবতার শ্লোগান দিয়ে রক্ত সংগ্রহ করেন আর অধিকাংশ গ্রুপের মহান ব্যাক্তিরা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।যারা ভুক্তভোগী তারাই জানেন প্রয়োজনে এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে নিজের জীবনের সব রক্ত পানি হলেও পানির মতো টাকা খরচ না করতে পারলে রুগীকে বাঁচানো যায়না।সর্বক্ষেত্রে সিন্ডিকেট এখন ওপেন। তারা অনেক বেশি শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর।সিন্ডিকেটের সদস্যরা সব সময় সরকারি দলের ফ্লেভারের মধ্যে থাকেন। তারা বড় বড় অন্যায় করলেও আইনের ফাঁকফোকড় দিয়ে বের হয়ে যায়। কেন বার বার ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এটি আমার সম্পূর্ণ ব্যাক্তিমত প্রদান করার চেষ্টা করছি,এটি খুব স্পর্শকাতর বিষয় তবু্ও বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা সমুচিত ভাবতে পারছিনা।যদিও লেখায় উনিশ বিশ হলে সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়বো।তবুও যদি কারো ঘুম ভাঙ্গে।আমার কাছে মনে হয় গোড়ায় গলদ,চিকিৎসক সাধারণভাবে খুব মেধাবীরা হয়।বাংলাদেশে চিকিৎসক হওয়ার পদ্ধতি কি?পাবলিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে ডাক্তার কিংবা ইন্জিনিয়ার হতে হলে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে।তাই গরীব ঘরের মেধাবীরা অনেক মেধা থাকলেও নবম শ্রেণিতে উঠলেই তাকে অনেকটা জোর করে বিজ্ঞান, কমার্স এর পরিবর্তে আর্সে দেওয়া হয়।আর যারা এই বাঁধা অতিক্রম করে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে ডাক্তার কিংবা ইন্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন মা বাবা দোখেন।সেই সন্তান পাবলিকে চান্স পেলে ১২থেকে ১৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়।আর যদি কোন কারনে সরকারি মেডিকেল কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পায় তখন তার যদি অদম্য ইচ্ছা থাকে তার ডাক্তার হতে হবে।তখন তার খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা।গরীব বাবার এই টাকা যোগার করতে জমি বেচা লাগে।বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়াসুদে লোন নেওয়া লাগে,আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে ধার কিংবা সহযোগিতা নিতে বাধ্য হতে হয়।লেখাপড়া চলাকালীন সময়ে ঐ ছাত্রকে বার বার শুনতে হয়, আমাদের সবকিছু শেষ করে তোকে ডাক্তার বানাচ্ছি। অনেক টাকার ঋণ।মনে থাকে যেন বাবা?সে সত্যি সত্যি যখন ডাক্তার হয়ে যায় তখন তার প্রয়োজন তাকে কসাই বানিয়ে ফেলে। ব্যাতিক্রম নেই তা নয় আছে। তারা ইতিহাস হয়ে থাকেন।পদ্ধতির কথা বলছিলাম।কে দায়িত্ব পালন করবেন? আর কত লাশ হবে এইভাবে। একজন ডাক্তার কিংবা ইন্জিনিয়ার তৈরি করতে রাস্ট্র সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয় তাহলে যিনি ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার হবেন তিনি দেশপ্রেমিক হবেন।দেশের মানুষের জন্য তার শতভাগ কমেটমেন্ট থাকবে।আর কোন সরকারি ডাক্তার তার চাকরি চলাকালীন সময়ে বেসরকারি হাসপাতালের মালিক,অংশীদার হতে পারবেন না।বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসা দিতে পারবেন অন্য কিছু নয়।চিকিৎসা নীতিমালা ঢেলে সাজাতে হবে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি বরদাশত করা হবেনা।হাসপাতালের সামনে দালালদের দৌরাত্ম দূর করতে হবে।ভূয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিযোগ্য সাজা দেওয়ার ব্যাবস্হা গ্রহণ করতে হবে।প্রত্যেক শিশুর নিরাপদে পৃথিবীতে আসার অধিকার রয়েছে। আর এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দায়ভার রাষ্ট্রের।এখনো সময় আছে দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে দেশপ্রেমিক নেতা ও নেতৃত্বের প্রয়োজন। আসুন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো যদি কালোটাকার মালিক, ব্যাবসায়ী,লুটেরা,দখলবাজ,মাদকসম্রাট, অসৎ ব্যাক্তিদের দলীয় নমিনেশন না দেয় তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব। অসৎ নেতা ও নীতির পরিবর্তন সময়ের দাবি।
লেখকঃ
মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসা
চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ