পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ ও বিচারের দাবি বাম নেতাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ৯:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬ ৯:০৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী ও দাসত্বের দলিল’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট। একইসঙ্গে এই চুক্তির নেপথ্য কারিগর হিসেবে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের অপসারণ ও বিচারের দাবি তোলা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে জোটের নেতারা এসব দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বাক্ষরিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ এবং নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক ও জোটের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ চুক্তির আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ বছরে ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। অথচ মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্কের বোঝা দাঁড়াবে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বোয়িং থেকে বিমান কেনার চুক্তিতে জনগণের ওপর ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
সমাবেশে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট খোদ এই ধরনের রিসিপ্রোকাল শুল্ককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। মালয়েশিয়া ইতোমধ্যেই তাদের চুক্তি বাতিল করেছে। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও পিছু হটেছে। তাহলে বাংলাদেশ কেন এই দাসত্বের চুক্তি বয়ে বেড়াবে?’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কড়া সমালোচনা করে নেতারা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তিনি এই চুক্তির মূল হোতা ছিলেন। এখন তাকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।’
বক্তারা অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন ওয়াশিংটনের ‘ভেটো’ ক্ষমতার অধীনে চলে গেছে, যা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অভিলম্বে এই সাম্রাজ্যবাদী চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ না করলে বাম-প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে নিয়ে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলন ও জাতীয় গণ-প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা এবং সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্কাফী রতনসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।
জনতার আওয়াজ/আ আ