পরিবারের কষ্ট বাড়িয়ে গেলেন লেবাননে নিহত ফরিদপুরের দিপালী - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পরিবারের কষ্ট বাড়িয়ে গেলেন লেবাননে নিহত ফরিদপুরের দিপালী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৪:৩৭ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মার চরে বাড়ি দিপালী খাতুনের (৩৪)। অনেক কষ্টে যোগাড় করা টাকায় সংসারে সুখ আনতে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে। সেখানে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। দিপালীর মৃত্যু পরিবারের সুখের বদলে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।

বাবা-মায়ের দেওয়া দিপালী নাম দিয়েই উজ্জ্বল করতে চেয়েছিলেন পরিবারে মুখ। সেই আশা স্বপ্নই থেকে গেল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরায়েলের ছোঁড়া মিসাইলের আঘাতে কর্মস্থলেই তিনি নিহত হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে তার মালিকের পরিবারের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত দিপালীর স্বজন ও জেলা প্রশাসন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত দিপালী খাতুন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চর শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে। বাবা বেঁচে থাকলেও মা তিন-চার বছর আগে বজ্রপাতে মারা গেছেন।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, দিপালী ২০১৫ সালে কাজের সূত্রে লেবাননে যায়। এরপর থেকে তিনি লেবাননে স্থায়ীভাবেই থাকতে শুরু করেন। সবশেষ ২০২৩ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে তিনি আবার লেবাননে চলে যান।

এদিকে বৃহস্পতিবার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধ বাবা মোফাজ্জেল বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

দিপালী খাতুনের ছোট বোন লাইজু খাতুন জানান, ‌গত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমার বড় বোন দিপালী খাতুন লেবাননে যান। সেখানে তিনি একটি বাসায় কাজ করতেন। সবশেষ ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে বোনের সঙ্গে শেষ কথা হয়। তারপর থেকে তাকে ফোনে ও ইন্টারনেটে পাইনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলেও তার মোবাইলের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান লাইজু খাতুন।

তিনি বলেন, আমার বোন লেবাননে যেখানে থাকতেন তার বাসার পাশে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে দেশে টাকা পাঠাতেন। বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩৭ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে বোনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।

দিপালীরা তিন বোন ও দুই ভাই। তিনি অবিবাহিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। ‌

চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খবরের কাগজকে বলেন, আমরা ঘটনা জানার পরেই সকালেই তাদের পরিবারের কাছে যাই। পরিবারের সদস্যরা দিপালীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। ‌ তিনিও আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে অতি দ্রুত তার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হবে।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, আমরা ঘটনা জানার পর থেকেই পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। আমরা কাগজপত্র পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেব।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ