পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, মে ৬, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, মে ৬, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতভর বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী কলকাতা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেলেঘাটায় তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৪৫) একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার পর নিজ বাসার সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধাওয়ার মুখে পড়ে তিনি ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিচে পড়ে যান। তবে তার পরিবারের দাবি, তাকে ঘর থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য জানান, হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং আশপাশের লোকজন ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেনি। যদিও এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

এর কয়েক ঘণ্টা পর শহরের উত্তর-পূর্বে নিউ টাউনে তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডল (৪৬) নিহত হন। পুলিশ জানায়, একটি দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের সময় তাকে ধাক্কা ও লাথি মারা হলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

মধু মণ্ডলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় এক অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও তার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিজেপি সমর্থকরা।

এদিকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বেহালা, কালীঘাট ও শ্যামপুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয়ে হামলা, পতাকা ছেঁড়া এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকায় এক কাউন্সিলরের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের কার্যালয় দখল বা ভাঙচুর করে সেখানে বিজেপির পতাকা উত্তোলনের ঘটনাও ঘটে। কলেজ স্ট্রিটে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পোস্টার ছেঁড়া ও ছাত্রকর্মীদের ওপর হামলার জেরে সংঘর্ষ বাধে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অনলাইনে গুজব বা ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

কলকাতার বাইরে সহিংসতা আরও বিস্তৃত আকার নেয়। শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে উদয়নরায়ণপুরে বিজেপি কর্মী যাদব বার (৪৫)-কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সম্ভাব্য ব্যক্তিগত বিরোধের দিকটি উল্লেখ করে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কলকাতা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নানুর এলাকায় তৃণমূল কর্মী আবির শেখ (৪৫)-কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার পরিবার এ ঘটনার জন্য বিজেপি কর্মীদের দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি। দলটির দাবি, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন কর। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে একটি বাড়ি থেকে গুলি ছোড়া হয়, যা তার পায়ে লাগে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হন। আহত দু’জনকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ