পুঁজিবাদ ও মৌলবাদ রুখতে সংস্কৃতি চর্চাই একমাত্র পথ: সিরাজুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ছবি: খবরের কাগজ
প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী শক্তির উত্থান এবং পুঁজিবাদের আগ্রাসন রুখতে সাংস্কৃতিক জাগরণের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে পারলেই মানুষকে রাজনৈতিকভাবে পরাধীন করা সহজ হয়- এই সত্যকে পুঁজি করেই বর্তমানে সংস্কৃতির ওপর বারবার আঘাত আসছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমান সময়ের সংকট মোকাবিলায় রবীন্দ্রদর্শনকে পাথেয় করার আহ্বান জানান।
দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও শিক্ষা পদ্ধতির সমালোচনা করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা দান ছিল আমাদের দেশপ্রেমের অন্যতম অংশ। কিন্তু আজ আমরা তিন ধারার শিক্ষা পদ্ধতি দেখছি, যা সমাজকে বিভক্ত করছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের শ্রমে অর্জিত সম্পদ শাসকরা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের হাতে আজ কোনো সম্পদ নেই।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রথযাত্রা’ নাটকের উদাহরণ টেনে এই বিশিষ্ট চিন্তাবিদ বলেন, ‘ইতিহাসের রথ যখন আটকে যায়, তখন সব শ্রেণির মানুষ চেষ্টা করেও তা সচল করতে পারে না। রথ তখনই চলে যখন মেহনতি মানুষ এসে রশি ধরে টান দেয়। সভ্যতার অগ্রগতি এই মেহনতি মানুষের ওপরই নির্ভর করছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘রবীন্দ্রনাথ নিজেও আক্ষেপ করেছিলেন যে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনের খুব কাছে পৌঁছাতে পারেননি। আজকের দিনে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোই বড় চ্যালেঞ্জ।’
বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত রূপ বদলে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাঙালির সব অনুষ্ঠান শুরু হয় ভোরে পাখির গানে। কিন্তু আজ ২১ ফেব্রুয়ারির উদযাপন শুরু হচ্ছে মধ্যরাতে। থার্টি ফার্স্ট নাইটের প্রবল দাপটে পহেলা বৈশাখ আজ ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছে। ঘরে ঘরে যে সংগীতের চর্চা হতো, তাও আজ সংকুচিত হয়ে গেছে।’
সভ্যতার বর্তমান ক্রান্তিলগ্ন নিয়ে অধ্যাপক চৌধুরী বলেন, ‘পুঁজিবাদী উন্নয়নের যে পথ ধরে আমরা এগোচ্ছি, তা পৃথিবীকে মানুষ বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই চরম অগ্রগতির যুগেও আমাদের ভাববার সময় এসেছে, পৃথিবী কি ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকবে নাকি সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে?’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পুঁজিবাদকে বিদায় দিয়ে সামাজিক মালিকানার নতুন পৃথিবী গড়তে না পারলে মানুষের মনুষ্যত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’
ছায়ানট বা উদীচীর ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গানের শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের যে দাবি ওঠে, তা সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্ববিরোধী। এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।’
পিতৃতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে মায়ের মমতা ও লালন-পালন করার যে শক্তি, তাকেই পরিবর্তনের মূল শক্তি হিসেবে দেখেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। রবীন্দ্রদর্শনকে পাথেয় করে সমাজ পরিবর্তনের এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলক গান পরিবেশন করেন পরিষদের শিল্পীরা। সম্মেলক নৃত্যও পরিবেশিত হয় এ সময়। এ অধিবেশনে স্বাগত ভাষণ দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম, সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি মফিদুল হক৷
সংসদে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরল বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ পিএম
facebook sharing buttonmessenger sharing buttontwitter sharing buttonwhatsapp sharing buttonsharethis sharing button
সংসদে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরল বিএনপি
সংসদ অধিবেশন
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, নীতিগত দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের ফলে দেশের অর্থনীতি কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়। এতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অতীতের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, তা ২০২৩-২৪ সালে কমে দাঁড়ায় ৪.২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছায়। শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যেখানে কৃষি খাতে অতিরিক্ত শ্রম নিয়োজিত হলেও উৎপাদনশীলতা কম।
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তুলে ধরে বলা হয়, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন স্থবির রয়েছে এবং বাজেট ঘাটতি বেড়েছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বৃদ্ধি ও মূলধন ঘাটতি অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এ ছাড়া নতুন সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অর্থনৈতিক অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি নতুন সরকারের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে, জনগণের আস্থা ধরে রেখে একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
জনতার আওয়াজ/আ আ