পুলিশের অনুমতি নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, প্রশ্ন রিজভীর - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পুলিশের অনুমতি নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, প্রশ্ন রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, জুলাই ৩০, ২০২৩ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, জুলাই ৩০, ২০২৩ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক

পুলিশের অনুমতি নিয়ে কি স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয়েছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। রবিবার (২৯ জুলাই) রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সভা-সমাবেশে পুলিশের অনুমতির বিষয়ে সংবিধান কি বলে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এটা সম্পূর্ণরূপে সংবিধান বিরোধী। বিরোধী রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করতে পুলিশকে অবহিত করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো রাষ্ট্রের, তারা তো শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নয়। আজকে রাজনৈতিক দলকে পুলিশের অধিনস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা রীতিমতো উদ্ধতপূর্ণ। আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবে কর্তৃত্ববাদী। আওয়ামী লীগের বায়োলজিক্যাল প্যার্টানে সত্য বলে কিছু নেই।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসি কোন নির্বাচনের কথা বলছেন? রাতের তামাশার নির্বাচন? রাতের তামাশার নির্বাচন দেশে আর হবে না। ঐ ধরনের নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। এদেশের জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলেয়ে তামাশার নির্বাচনকে প্রতিহত করবে। পুলিশ র‌্যাব না থাকলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের সামনে ৫ মিনিটও দাঁড়াতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির এক দফার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ও শতকরা ৮০ ভাগের বেশি জনগণ। আজ শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ‘স্টেপ ডাউন শেখ হাসিনা’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে ভাইরাল হয়েছে।

‘‘স্টেপ ডাউন শেখ হাসিনা’ লিখে পোস্ট দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদসহ শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী। দেশের জনগণসহ বিশ্ব দরবারে বারবার প্রমাণিত হয়েছে রাতের সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিএনপির এক দফার আন্দোলনের সমর্থনে গত ২৮ জুলাইয়ের মহাসমাবেশে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছিল।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গতকালকে ঢাকার প্রবেশমুখে বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে নারকীয় হামলা চালিয়েছে এবং তাদের হামলা ও গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন দলে জেষ্ঠ্য নেতা বাবু গয়েশ্বের চন্দ্র রায়, আমান উল্লাহ আমানসহ ৭ শতাধিক নেতাকর্মী। লাঠিপেটা করতে করতে আটক করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদকে।

‘গতকালের সরকারি বাহিনীর সহিংস আক্রমণের খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর কৌশল নেয় আওয়ামী দুরাচার সরকার। এখন বিএনপির বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়ার জন্য নানা ফন্দি-ফিকির করলেও জনগণ এসব আমলে নেয়নি। বরং সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের খবরই জনগণের মুখে মুখে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জন্মগতভাবেই বিশ্বাস করে অশান্তি, হিংসা আর হানাহানি। ক্ষমতায় আসার জন্য জনগণের নিকট নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েই জনগণের সাথে একের পর বিশ্বাসঘাতকতা করতে থাকে। বিরোধী দল, বিরোধী মতো তথা গণতন্ত্রের প্রতি এক ধরণের ক্রোধ থেকেই শেখ হাসিনার মনে প্রত্যহ জন্ম নেয় প্রতিহিংসা। গতকাল ঢাকার প্রবেশ মুখে বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। অশান্তির ঘেরাটোপে দেশের জনগণকে ঠেলে দেয়ার জন্যই সরকারের ধারাবাহিক নৃশংসতার কোন অন্ত নেই। সেটিরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের পালকের মধ্যে যুবলীগ, ছাত্রলীগকে নিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবিরাম গুলিবর্ষণ, বেধড়ক লাঠিচার্জ, মুহুর্মুহ টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং পাইকারি হারে গ্রেফতারের এক ভয়ঙ্কর জুলুম ও নিপীড়ণ নামিয়ে আনা হয় দলীয় কর্মসূচির ওপর। এর উপর আজ ১১টি মামলায় এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নিপুণ রায় চৌধুরী, শওকত হোসেন সরকার, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, তানভীর আহমেদ রবিনসহ ৫৪৯ জনের নামে গায়েবি মামলা দেয়া হয়। বিরোধী দলকে নির্মূল করতে রাষ্ট্রযন্ত্র এখন শেখ হাসিনার মূল হাতিয়ার। আইনের শাসনের সার্বজনীন মূলনীতিকে পদদলিত করে শেখ হাসিনার প্রাইভেট বাহিনীতে পরিণত করার ফলেই পুলিশ, আইন আদালত ও প্রশাসনকে গণতন্ত্রের কসাই হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভিসানীতির ভয়ে নয়, মানবিক কারণে বিএনপি নেতাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, তাহলে শত শত নেতাকর্মীর রক্ত ঝরালেন কোন মানবিক তাগিদে, শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করলেন কোন মানবতাবোধ থেকে? আজ প্রায় ছয়শ’র মতো নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন কোন মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে? আপনারা ক্ষমতা ধরে রাখতে অসহিষ্ণুতা, সীমাহীন লুট আর উদ্ধত রাষ্ট্রশক্তিকে আশ্রয় করে বিরোধী দলের ওপর নামিয়ে আনেন হিংসার বিকৃত আক্রমণ। এই কারণেই স্বভূমির সীমানায় কোন গণতন্ত্রকামী মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের লুটেরা নীতির কারণে আজ মাফিয়া ও সিন্ডিকেটের দুষ্টুচক্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মেগা দুর্নীতির ভাবধারা থেকে উৎসারিত অবৈধ সরকার ক্ষমতার লোভ সামলাতে না পেরেই হিংসা, হানাহানি আর রক্তপাতের কর্মসূচির মধ্যে আজীবন ক্ষমতায় থাকার সুখস্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। আজকে তথাকথিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, আগামী অক্টোবরে তফশিল ঘোষণা এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। তবে এই স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না, শেখ হাসিনা আরেকটি ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচন করার সুযোগ পাবে না।

তিনি আরও বলেন, এক সর্বনাশা বিভীষিকা মানুষের মনে সঞ্চার করার জন্যই মনুষ্যত্বহীন, অমানবিক, অশুভ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গতকাল বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে বর্বরোচিত হামলা করে আহত, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে অসংখ্য নেতাকর্মীর নাম জড়িত করায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি। আহত নেতৃবৃন্দের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

এ সময় তিনি সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা মামলার বিবরণ তুলে ধরেন। রিজভী জানান, ২৯ জুলাই অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আহত হয়েছে প্রায় ৬৫০ জন, গ্রেফতার প্রায় ২৫০ জন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী এ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ফোরকান আহমেদ, মশিউর রহমান বিপ্লব, এ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, কৃষকদলের যুগ্ম-সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ