পোস্টারবিহীন নির্বাচন: হ্যান্ডবিলেই নির্বাচনি প্রচারে চিরচেনা রূপের পরিবর্তন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:০০, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

পোস্টারবিহীন নির্বাচন: হ্যান্ডবিলেই নির্বাচনি প্রচারে চিরচেনা রূপের পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৪:২৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ ৪:২৫ অপরাহ্ণ

 

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের মতো ঢাকা-২০ ধামরাই আসনেও চলছে পোস্টারবিহীন নির্বাচন। নির্বাচনি প্রচারণায় নেই ব্যানার-ফেস্টুন। একমাত্র হ্যান্ডবিল এবং মাঝে মধ্যে প্রার্থীদের পক্ষে সরাসরি গণসংযোগের মাধ্যমেই চলছে প্রচার। ফলে নির্বাচনের কোনো চিরচেনা আমেজ চোখে পড়ছে না।

চায়ের দোকানে নেই তেমন নির্বাচনি আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক। দেয়ালে দেয়ালে পোষ্টার, গাছে গাছে তারকাঁটায় গাঁথা ব্যানার কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি বা বাঁশের খুঁটিতে লাগানো ফেস্টুন কিছুই নেই। রাস্তায় চলাচল করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনের দৃশ্য একেবারেই ভিন্ন। নেই পোস্টার লাগানোর জন্য আগুনে গলিয়ে আঠা তৈরির ঝামেলা কিংবা পোস্টারের ছড়াছড়ি। পাড়া-মহল্লায়ও দলে দলে মিছিলের চিত্র তেমন চোখে পড়ে না।

সড়ক, মহাসড়ক কিংবা পাড়া-মহল্লা সব জায়গাতেই একই চিত্র। তাই বলা যায়, এবারের নির্বাচন যেন ব্যানার-পোস্টার ও ফেস্টুনবিহীন। নির্বাচন এলেই যে চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ত, এবারের নির্বাচন তার পুরোপুরি উল্টো। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই যেন আমেজহীন নির্বাচন চলছে। তবে পোস্টার-ব্যানার না থাকায় নির্বাচনি আমেজ কিছুটা কম হলেও চারপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই এই পরিবেশকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কারণ পোস্টার ও ব্যানারে পরিবেশ নষ্ট হয়। পাশাপাশি একেকটি গাছে শতাধিক তারকাঁটা লাগানো হতো ব্যানার বা ফেস্টুন টানানোর জন্য, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশনায় অপ্রচলনশীল পোস্টার ও প্রচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে চিরচেনা রূপের হঠাৎ করেই পরিবর্তন এসেছে।

এমনকি প্রার্থীদের রাস্তাঘাটের মোড়ে রঙিন ব্যানারও দেখা যাচ্ছে না; রয়েছে শুধু সাদাকালো ব্যানার। এটি নির্বাচনের এক ভিন্ন রূপ।

বাধ্য হয়েই প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক), পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ, মাইকিং, দোকানপাট ও বাজারে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাচ্ছেন এবং ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে নিজ নিজ দলের প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে পোস্টার না থাকায় একদিকে সুশীল সমাজ এবারের নির্বাচনের প্রশংসা করলেও অন্যদিকে কিছু সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বয়স্ক ও সাধারণ জনগণের জন্য পোস্টার না থাকায় নির্বাচন সম্পর্কে জানার সুযোগ কিছুটা কমে গেছে। ফলে প্রার্থীরা এখন ডিজিটাল প্রচারের পাশাপাশি নিয়মিত উঠান বৈঠক ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা-২০ ধামরাই আসনটি ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ১৪৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন।

জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন, ১০ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আশরাফ, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আহসান খান আছু এবং সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মশাল প্রতীকের প্রার্থী আরজু মিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

ধামরাই পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘পোস্টার ছাড়া নির্বাচনি আনন্দ কিছুটা কম থাকলেও ঝামেলা অনেক কম। কে কার পোস্টারের ওপর পোস্টার লাগাবে এ নিয়ে আর বিবাদ নেই। নির্বাচনের পর হাজার হাজার পোষ্টার পড়ে থাকে, এতে পরিবেশও নষ্ট হয়।’

রুস্তম আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘পোস্টার-ফেস্টুন ছাড়া নির্বাচন তেমন জমজমাট না হলেও পরিবেশ সুন্দর থাকবে। তারকাঁটা না থাকায় গাছও নষ্ট হচ্ছে না, কোন্দলও নেই। মানুষ ধীরে ধীরে এমন নির্বাচনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।’

প্রার্থীদের একাধিক কর্মী জানান, পোস্টার-ফেস্টুন না থাকলেও নিয়মিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং মাইকিং চালানো হচ্ছে। তাদের মতে, পোস্টার না থাকলেও নির্বাচনে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।

পোস্টারবিহীন নির্বাচন একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে ভোটের চিরচেনা রূপ পরিবর্তনের ফলে ভোটার উপস্থিতিতে কোনো প্রভাব পড়ে কি না সেদিকেই এখন স্থানীয়দের দৃষ্টি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ