প্রতিটি গুলির হিসাব আপনাদেরকে দিতে হবে : গয়েশ্বর - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রতিটি গুলির হিসাব আপনাদেরকে দিতে হবে : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ১, ২০২২ ৮:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, আগস্ট ১, ২০২২ ৮:০৪ অপরাহ্ণ

 

দেশটার মালিক পুলিশ কিংবা সরকার নয়। এই দেশের মালিক আব্দুর রহিমের মতো জনগণ উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

হাজার হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। টাকার হিসাব চাইলে গুলি করে মানুষ মারবেন এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি।

সোমবার (১ অগাস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল এর উ‌দ্যোগে ভোলায় পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহতের ঘটনায় এক প্রতিবাদ সমা‌বে‌শে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে দোষারোপ করি, পুলিশ যে গুলি করছে। পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে কে? তাকে আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। এসপিকে বলতে চাই, আপনি পৈতৃক সূত্রে ভোলার মালিক হন নাই। চাকরি করতে গেছেন। সভা শেষে তারা মিছিল করতে চেয়েছে। মিছিল করা কোন অন্যায় নয়। এটা নাগরিক অধিকার। আপনি বাধা দেয়ার কে? আর বাধা দিতে গিয়ে আপনি গুলি করার কে? প্রতিটি গুলির হিসাব আপনাদেরকে দিতে হবে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, ঈশ্বর যে সকল পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দীর্ঘায়ু করো। কারণ আমরা নিজের হাতে তাদের বিচার করা না পর্যন্ত ওরা জীবিত থাকে। সরকারের নির্দেশ যদি না থাকতো তাহলে ভোলার এসপি ইতিমধ্যে সাসপেন্ড হতো। যারা গুলি করেছে তারা বিভাগে ক্লোজড হতো।

তিনি আরো বলেন, আমরা পুলিশকে নিয়ে এমন ভাবে কথা বলি যেন মনে হয়, ওরা আমাদের দুলাভাই। প্রজাতন্ত্রে সকল কর্মচারী আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে। কিন্তু তাদের টাকায় জনগণ চলে না। তারা যদি আমাদের সঙ্গে বে-আইনি করে তাহলে আমরা তাদের সঙ্গে সেরকম করতে পারব।

‘বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠের নেতা-কর্মীদের পাল্টা আঘাতের আহবান জানিয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।’

ভোলায় গতকালের ঘটনায় যারা গুলিবিদ্ধ এবং গুরুতর আহত তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ভোলায় কর্মীদের সমাবেশ ও মিছিলের মধ্যে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে হারিয়ে গেল আমাদের এক সহযোদ্ধা আব্দুর রহিম। ঢাকার দুইটি মেডিক্যালে এখন যারা চিকিৎসাধীন আছেন তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, মোবাইলে ছবি তোলা, ভিডিও করা আর শেয়ার দেওয়ার মধ্যেই নেতাকর্মীরা তাদের দায়িত্ব সারছেন। রহিমের মৃত্যুতে কেন তাৎক্ষণিক নেতাকর্মীরা সারাদেশে আগুন জ্বালিয়ে না দিয়ে নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে।

তিনি বলেন, আজকে সকালে গায়েবী জানাজায় ছিলাম এবং দেখলাম। একটি জানাজার অনুষ্ঠানে চারিদিকে শুধু ক্যামেরা। মানে ছবি তোলাটাই মূল কাজ। তার জন্য দোয়া করাটা মূল কাজ না। হাতে হাতে পকেটে পকেটে ক্যামেরা। ছবি তোলা, আর নেতাদের কাছে পাঠানো আর ফেসবুকে দেয়ার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করতেছি। এটিই একমাত্র প্রমাণ করে আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রতিদিন আসি, প্রতিদিন প্রতিশ্রুতি দেই, প্রতিদিন অঙ্গীকার করি কিন্তু কাজটা করি না। আজকে আমার দলের কর্মী মারা গেছে সে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল কি না জানি না। সে জিয়ার অনুসারী, সে খালেদা জিয়ার অনুসারী, সে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে কর্মসূচি পালনে মারা গেছে। আজকে এখানে কেন বেছে বেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের লোকেদের আসতে হবে? কে ঢাকা শহরের অন্যান্য নেতাকর্মীরা আসতে পারবে না। কেন ঢাকার একটি নির্ধারিত যায়গায় মিছিল হবে? কেন সারা ঢাকা, সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে না। এটা আমার মাথায় ধরে না। সিদ্ধান্ত দেন, নির্দেশ দেন, আমরা অনেক কিছু করবো। এটা রাজনীতির ভাষা না। যখন ঘটনা ঘটে তাৎক্ষনাত জানিয়ে দিতে হয় সারাদেশে। এই কাজ করার জন্য উপরের দিকে সিদ্ধান্তের জন্য তাকিয়ে না থেকে সাথে সাথেই মাঠের কর্মসূচিতে যাওয়া দরকার। যা হবে নগদ।

কারো নির্দেশের অপেক্ষায় বসে না থেকে যার যার জায়গা থেকে প্রতিবাদ,প্রতিহত করার ইঙ্গিত দিয়ে গয়েশ্বর আরও বলেন, আব্দুর রহিমের মতো মানুষ মারা যাবে, আর বক্তৃতা দেব, আর বসে বসে চিনা বাদাম খাবো। এটা হয় না। আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ একা নয়। সকল সংগঠনকে মাঠে নামতে হবে। তাদেরকে জবাব দিতে হবে। এরা রক্ত পিপাসু এদের সঙ্গে সুন্দর সুন্দর কথা সুন্দর বাক্য বিনিময়ের দরকার নাই। যেখানে হাত ছাড়া কথাই চলে না সেখানে হাতই ব্যবহার করতে হয়। আপনারা সব বোঝেন তাই যখন যেখানে ঘটনা ঘটবে সারা দেশে যে যেখানে আছেন মুহূর্তের মধ্য বেরিয়ে পড়বেন। আজকে আমাদের না পেয়ে ঘরের মানুষদেরকে ধরে নিয়ে যায়। সুতরাং এরা যদি নিয়মের বাহিরে আইনের বাহিরে কাজ করতে পারে, এদের সাথে আমার আইনের ভাষায় কথা বলার প্রয়োজনটা কি?

প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ