প্রতীক কেড়ে নিয়ে জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে: জি এম কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙল প্রতীক কেড়ে নিয়ে দলটির দলছুট নেতাদের নামে বরাদ্দ করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। গণ-অভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো অন্তর্বর্তী সরকারও জাপাকে এমন ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন জি এম কাদের। এ সময় জাতীয় পার্টির কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি দলীয় কার্যালয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের জোর করে নির্বাচনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও তেমন চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন থেকে আমাদের বাদ দিয়ে লাঙল প্রতীক নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যার মানে হলো, তারা দেখাবে জাতীয় পার্টি অংশ নিচ্ছে। কিন্তু আসলে তো জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ ধরনের কিছু করলে সেটা খুব সুফল বয়ে আনবে না।’
জি এম কাদের এ কথায় ইঙ্গিত করেন জাতীয় পার্টি থেকে দলছুট আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, মো. মুজিবুল হক চুন্নুদের দিকে। তারা এখন আলাদাভাবে দল গঠন করে লাঙল প্রতীক পেতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।
তাদের নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘তারা আগেও সরকারি দলের লোক ছিল। সরকারের প্ররোচনায় এখন তারা আবারও সরকারি দল হতে তৎপর। তারা দল ভেঙে চলে গেছেন। এখন তারা লাঙল প্রতীকের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু তারা জাপার মালিক হতে পারেন না। জাপার কাউন্সিল ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী লাঙল প্রতীকের মালিক আমরা।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি তা নিশ্চিত করতে না পারে তবে তা হবে প্রহসনের নির্বাচন। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সঠিক হবে বলে আমি মনে করি না।’
জাতীয় পার্টিকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিচ্ছে নানা পক্ষ। দলটির নেতাদের অভিযোগ, এতে সরকারের ইন্ধন রয়েছে।
জি এম কাদের সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা নিরপেক্ষ সরকার বলতে পারি না। এখন সময় এসেছে সরকারের নিজে থেকেই চলে যাওয়া ভালো। এখন একটি তত্ত্বাবধায়ক ধরনের সরকার গঠন করা উচিত। যারা নিরপেক্ষভাবে সামনের নির্বাচনটি পরিচালনা করবে।’
যারা জাতীয় পার্টিকে রাজনীতির মাঠ থেকে হটাতে চায় তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি শক্তিশালী পার্টি, জাতীয় পার্টি জনগণের পার্টি। তারা ভয় করে যেকোনো সময় জাতীয় পার্টি দাঁড়ালে তারা যথেষ্ট পরিমাণে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। সেটা হয়তো তাদের স্বার্থবিরোধী। যারা আমাদের স্বার্থবিরোধী মনে করছেন, তারা আমাদের মাঠে থাকতে দিতে চাচ্ছেন না। যারা পরাজিত হবে বলে মনে করছেন, তারা আমাদের সঙ্গে খেলতে রাজি হচ্ছে না।’
জাতীয় পার্টি সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে একসময় সোচ্চার হলেও জি এম কাদের এখন বলছেন, জাপা প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। কিন্তু তার জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ পদ্ধতি চালু করতে হলে প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ আর নানা সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের। তবে এই হট্টগোলের ভেতরে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হলে তা সুষ্ঠু হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাপা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ক্রিমিনাল চার্জ দিয়ে নানা মামলা দায়ের করে পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। দিন দিন দেশে অভুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দেশ দাঁড়িয়ে আছে। এভাবেই কি দেশকে তারা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়?’
জনতার আওয়াজ/আ আ