প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৪ নারী পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬ ১১:২৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
দেশে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সরাসরি ও সহজভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে কোনো পরিবার যদি যৌথ বা একান্নবর্তী হয় এবং সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হয়, তাহলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত উপকারভোগী পরিবারগুলো মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে নগদ অর্থের পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে ওই পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য ভাতা বা সহায়তা গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারবেন।
তিনি জানান, উপকারভোগী পরিবার নির্বাচন করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষার অবস্থা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে পরিবারগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।
মন্ত্রী জানান, শুরুতে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নির্বাচিত নারীপ্রধান পরিবারকে একটি করে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ