প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ফয়েজের ফেসবুক স্ট্যাটাস
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জুন ১৫, ২০২৬ ৪:২১ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
কূটনৈতিক পত্র দিয়ে আগাম অবহিত করার পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতীকালীন সরকারের আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।

রোববার রাতে তিনি নিজ আইডিতে পোস্টটি দেন। পাঠকদের সুবিধার্থে তা হুবহু তুলে ধরা হলো :
‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দার সাথে দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রতি প্রদর্শিত অসৌজন্যমূলক ও অমর্যাদাকর আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি পলিসি এন্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বহন করছেন।
এই ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক বলে বিবেচনা করার অবকাশ নেই। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও সাধারণ নাগরিক হিসেবে দুইবার ভারতীয় বিমানবন্দরে অনুরূপ হেনস্তার শিকার হয়েছি, যা এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত চরিত্রকেই প্রমাণ করে।
প্রিয় জাহেদ ভাই, আমরা আপনার পাশে আছি এবং আপনার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানাই। দেশের মর্যাদাই সর্বোচ্চ বিবেচনা।
এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ডাঃ জাহেদ দীর্ঘকাল ধরে ভারত-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবাদে শামিল ছিলেন এবং বিশেষভাবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, এই হেনস্তার ঘটনা সেই প্রেক্ষাপটেই বিচার করা সমীচীন। প্রতীয়মান হয় যে এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত হেনস্তা।
এই আচরণ ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচিত করে দেয়। আওয়ামী স্বৈরতন্ত্র, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান ইতোমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের উপদেষ্টা পর্যায়ের একজন প্রতিনিধির প্রতি কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রোটোকল না মানা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি যে ভারত সরকার এই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিক ও কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করবে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ফয়েজের ফেসবুক স্ট্যাটাস
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন।
রোববার সন্ধ্যায় ‘রহস্যজনক কারণে’ এ বাধার মুখে পড়েন তিনি। অথচ কূটনৈতিক পত্র দিয়ে আগাম অবহিত করার পরই সফর শুরু করেছিলেন জাহেদ উর রহমান।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।
জনতার আওয়াজ/আ আ