প্রধানমন্ত্রী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৩:২৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬ ৩:২৮ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তি সহজে নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসল ক্ষতির তথ্য দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রায় তিন হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খাল পুনঃখনন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, সিলেটের বাসিয়া খালসহ বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সুরমা নদী থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ সুরমা ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক কারণে যেসব এলাকায় পানি জমে থাকে, সেসব জায়গায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেচ সুবিধা বাড়িয়ে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনের বিষয়টি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ধাপে ধাপে দেশের সব কৃষি জমির ম্যাপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন ফসল সবচেয়ে উপযোগী এবং লাভজনক সে তথ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত আবাদি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জমি ফেলে না রেখে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। এক এলাকায় একই ধরনের ফসল চাষ করলে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান, রোগবালাই দমন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটসহ সারাদেশে একটি কৃষি বিপ্লব সাধিত হবে বলে সরকার আশাবাদী।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ— ইতোমধ্যে পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল, প্রত্যেক কৃষকের জন্য ৫ কেজি বীজ, ডিএপি সার ১০ কেজি ও এমওপি সার ১০ কেজিসহ সর্বমোট ২৫ কেজি উপকরণ।
অনুষ্ঠানে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শওকত জামিল।
জনতার আওয়াজ/আ আ