প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাক্ষাৎ চায় কারা নির্যাতিত প্রবাসীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৫ ২:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৫ ২:১০ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাত করার অনুমতি চেয়েছেন আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশ থেকে কারা নির্যাতিত হয়ে ফিরে আসা প্রবাসীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পুনর্বাসনে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন আরব আমিরাত ফেরত প্রবাসী খালেদ সাইফুল্লাহ।
তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাক্ষাতের অনুমতি না পেলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আগামী দিনে রেমিট্যান্স বন্ধের ডাক দেওয়ার হুশিয়ার দেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রবাসীদের ৬ দফা দাবি হলো- আরব আমিরাত সহ ক্ষতিগ্রন্থ প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, যেমন- যারা বিদেশ যেতে চায় সরকারি উদ্যোগে বিনা খরচে বিদেশ পাঠাতে ব্যবস্থা; যোগ্যতা অনুযায়ী দেশে চাকুরীর ব্যবস্থা করা; ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হতে চায় তাদেরকে ব্যাংক/যে কোন সংস্থার মাধ্যমে বিনা সুদে প্রয়োজনীয় লোন দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং বয়স্ক প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রকার সরকারি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা; সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ ফেরত প্রবাসীদের নো-এন্ট্রি দিয়েছে, সেই নো-এন্ট্রি তুলে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা; একই মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এখনো গ্রেপ্তার চলমান, তা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অতিদ্রুত গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া বন্ধসহ মামলা শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে এবং এখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে যেসব বাংলাদেশী প্রবাসী বন্দী আছেন তাদেরকে অতি দ্রুত মুক্ত করে নিয়ে আসা; প্রবাসীদের নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে যারা দিয়েছে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনৈতিক কনসাল জেনারেল বিএম জামাল সহ জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে অতি দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা; ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর মত একটি ট্রাস্ট গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের তালিকায় কারা নির্যাতিত প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং জুলাই বিপ্লবের বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া; প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ৭ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সমর্থনের কারনে গ্রেপ্তারকৃত প্রবাসীদের মুক্ত করায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভুমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আরব আমিরাত থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৯ জন দেশে ফেরত এসেছে এবং এখনো ধরপাকড় চলছে। শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা আরব আমিরাতে সফরে যাবেন। সেই সফরে প্রবাসীদের মামলা তুলে নেওয়াসহ নো-এন্ট্রি তুলে নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে ভুমিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রবাসী ফেরতদের নো-এন্ট্রি আইন তুলে নিয়েছে আরব আমিরাত সরকার। তাই সরকার উদ্যোগ নিলে নো-এন্ট্রি তুলে নিলে আবারও প্রবাসীরা আরব আমিরাতে যেতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্য খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, জুলাই বিপ্লবে প্রবাসীরা স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে মিছিল করে এবং রেমিট্যান্স বন্ধের কর্মসূচি পালন করেছিল। মিছিলকে কেন্দ্র করে অনেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মিছিলের সম্গে সম্পৃক্ত অথবা সম্পৃক্ত নয় এরকম অনেকের নামের তালিকা তৎকালীন কনস্যাল জেনারেল এম্বাসেডর জামাল এর মাধ্যমে সে দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে জমা দেয়। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলন আরো উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মুহাম্মদ, ফরিদ শাহিন, জাহাঙ্গীর, আমিনুল ইসলাম, সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিন বাবু প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ