প্রধান শিক্ষিকার স্বেচ্ছাচারিতায় অস্তিত্ব সংকটে বিদ্যালয় - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:১০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রধান শিক্ষিকার স্বেচ্ছাচারিতায় অস্তিত্ব সংকটে বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ১২, ২০২৩ ৪:১৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ১২, ২০২৩ ৪:১৪ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
অনিয়ম আর দুর্নীতি বলা চলে অনেকটাই হরিলুটের ময়দানে পরিণত হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাবড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষককের স্বেচ্ছাচারিতায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিদ্যালয়টি। খেয়াল-খুশি মতোই চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, তাদের কাছে অসহায় বাকি শিক্ষকরাও। অনিয়ম অভিযোগের অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া গেছে প্রধান শিক্ষিকা মারুফা আক্তারের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার প্রকল্প নামে প্রকল্পে চারটি কম্পিউটার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে একটি দোয়েল ব্যান্ডের ল্যাপটপ এবং পরবর্তীতে অন্য প্রকল্পে পাওয়া এইচপি ব্যান্ডের একটি ল্যাপটপ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানে পড়ে আছে একটি অকেজো কম্পিউটার। এইচপি ব্যান্ডের একটি ল্যাপটপ রয়েছে প্রধান শিক্ষিকার ব্যক্তি দখলে এবং বাকিগুলোর কোনো হিসেব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের নামে এক একর আবাদি জমি থাকলে জানেন না প্রধান শিক্ষিকাসহ অন্য শিক্ষকরা। তবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দাবি, সেই জমি পূর্বের প্রধান শিক্ষকের (বর্তমান প্রধান শিক্ষকের বাবা) দখলে রয়েছে।

অভিযোগের শেষ নেই
২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিদ্যুৎ বিলের বকেয়ার দায়ে বিদ্যালয়ের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) তথ্যমতে, নতুনভাবে সংযোগ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে চার মাসের বকেয়া বিল রয়েছে এক হাজার ৭৩০ টাকা। অথচ বিদ্যুতের সংযোগ নেই কোনো শ্রেণি কক্ষে বা অফিস রুমে। প্রতিটি শ্রেণি কক্ষের ফ্যানেরও কোনো হদিস নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২১-২২ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) দেওয়া ছয়টি সিলিং ফ্যান সেগুলো অদৃশ্য।

২০২২ সালে বিদ্যালয়ের পুরাতন চারচালা ঘর সংস্কারের ১৩০ বান টিন উধাও, বাজেয়াপ্ত বাথরুমের প্রায় ১০ হাজার ইটের সন্ধান আজও পায়নি ম্যানেজিং কমিটি। প্রতিষ্ঠানটিতে একই পরিবারের চারজন শিক্ষক-কর্মচারী। তন্মধ্যে একজন অবসরে, বাকিদের মধ্যে প্রধান শিক্ষিকা, সহকারী প্রধান ও অফিস সহায়ক পদে একজন করে কর্মরত।

এলজিএসপিসহ বিভিন্ন সময়ের চেয়ার, টেবিল, বেঞ্জ; যেগুলো স্টিলের বডিতে তৈরিকৃত মালামাল বিক্রয়ের অভিযোগও রয়েছে। প্রতিটি মালামাল বিক্রয়ের দরপত্র, বিজ্ঞাপন, নোটিশ, ম্যানেজিং কমিটির কোনো প্রকার সভার রেজুলেশন দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও ফরম পূরণ, সেশন চার্জ, স্কাউট ফি কোনোটিরই লেনদেনের আদায়ের রশিদ মিলেনি।

জ্ঞান চর্চা থেকে বিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থীরা
বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, প্রতিযোগিতা এবং সৃজনশীলতার পথ সুগম ও বিস্তৃর্ণ করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যবস্থা করছে। তবুও জ্ঞান চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে খগাবড়বাড়ী বালিকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগার বিজ্ঞান চর্চার জন্য উন্মুক্ত না হয়ে স্টক রুমে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানেন না বিজ্ঞানাগার কী? সেখানে কী সেখানো হয়? ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, ঠিকমতো ক্লাসই হয় না। ল্যাব তো দূরের কথা!

শিক্ষার্থী শিমুর দায় নেবে কে?
সারাদেশে করোনাকালীন সময়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদের অটোপাশের মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়। সেই সুবাদে শিমু আক্তারও অষ্টম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। সকল শিক্ষার্থীর ন্যায় রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২৫০ টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে দেন। নবম শ্রেণিতে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় এবং এসএসসি’র টেস্ট পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। ফরম পূরণের জন্য ১৭০০ টাকার পরিবর্তে ২৪০০ টাকা দেয় সে। ফরম পূরণের কথা নিশ্চিত করেন প্রধান শিক্ষক।

কিন্তু বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিতের চারদিন আগে শিমু জানতে পারে তার ফরম পূরণ হয়নি। প্রধান শিক্ষকের কাছে গেলে তিনি আবারও ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। শিমু ও তার অভিভাবক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নিকট অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পায়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ করলে আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে তাদের।

গত ৩০ এপ্রিল সবখানে দৌঁড়-ঝাঁপের পরেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত জেনে রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শিমু। পরিবারের সচেতনতায় শেষ রক্ষা হয় তার। পরদিন এই প্রতিবেদকের সামনে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে সে। অবুঝ মেয়ের কান্না দেখে মা রুবি আক্তার কাঁন্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার মেয়ের কিছু হলে কে দায় নেবে? কেনই-বা আমার মেয়েকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি? দরিদ্র পরিবারে কীভাবে আরও তিন বছর লেখাপড়া চালাবো? বলেই সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় বাকরুদ্ধ হয়ে যান!

শিক্ষক সংকটে পাঠদানে ধ্বস!
সরেজমিনে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একজন শিক্ষক গণিত বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। ছাত্রীরা বসে গল্প করছে। ওই শিক্ষককে জিজ্ঞেস করলে জানান, তিনি শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ের শিক্ষক। অন্য বিষয়ের শিক্ষক গণিত ক্লাস নিচ্ছেন এর কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, আসলে তিনি তো প্রতিবন্ধী মানুষ…। তাহলে এই প্রতিষ্ঠান তার চাকরির সুযোগ পাওয়া নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কারণ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শিক্ষা বিভাগ কী করছে?
একাধিক সংবাদ প্রকাশ ও অভিযোগ পাওয়ার পরেও কেন ব্যবস্থা নেয়নি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার? তিনিই-বা ওই শিক্ষকের কাছে দুর্বল? অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইতোপূর্বে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কোনো কাজে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র ও সনদের জন্য আসলে তাদেরকে প্রায় একমাস পরে আসতে বলেন তিনি। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এসব কাগজপত্র জরুরি হওয়া শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পালন করতে গিয়ে অফিস রুমের তালা ভাঙ্গতে হয় ওই কর্মকর্তাকে। তালা ভাঙ্গার কারণে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মহাপরিচালকের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে। এর পেছনেও ওই প্রধান শিক্ষিকার ইন্ধন রয়েছে।

শিমু আক্তারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা একাধিক কারণ দর্শোনোর নোটিশের কথা জানালেও আদতে কখনো কোনো নোটিশ পাঠানো হয়নি। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, আমরা একাধিকবার ফোনে এবং ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাইনি। আগামীকাল (৯ মে) তদন্তের স্বার্থে সরাসরি মাঠে যাব। গিয়ে যা পাব সবকিছু খোলাসা করবো।

তদন্তে কর্মকর্তারা কী পেলেন?
গত ৯ মে সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার টিম বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত। প্রথমে ভুক্তভোগী শিমু আক্তারের লিখিত অভিযোগ, তার বাবার লিখিত অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের লিখিত জবাব, সহকারী প্রধান শিক্ষকের লিখিত জবাব এবং সহকারী শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন তারা। প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষককে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যেই তাকে বাকি সকল সংযুক্তি এবং ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে সকল কর্মকান্ডের প্রতিবেদন চেয়েছেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানান, আমরা যে সকল জবাব, বাকি শিক্ষার্থীর তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণাদি পেয়েছি তাতে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ৯০ ভাগেরও বেশি নিয়মের বাইরে রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপরেও সকল দিক বিবেচনা করে দেখবো কী করা যায়।

মহাপরিচালক সম্পৃক্ত হলেন যেভাবে
প্রধান শিক্ষিকা জানান, তিনি ঢাকাতে অবস্থানকালীন কোনো এক প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখান থেকে ডিজি’র সঙ্গে পরিচয় এবং ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা অফিসের তালা ভাঙ্গার সময় সেই সুবাদে উনাকে বিষয়গুলো অবগত করেন এবং শিক্ষা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিজি সাহেবে আমাকে (প্রধান শিক্ষিকা) বলেছিলেন, ওই কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করবো নাকি চাকরিচ্যূত করবো? আমি বলেছিলাম, ‘শুধু একটু শাসনে রাখেন। বদলি বা চাকরিচ্যূত করার প্রয়োজন নেই।’

আট মাসের চার সভায় প্রধান শিক্ষিকা অনুপস্থিত
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিলন হক জানান, আমার আগে পকেট কমিটির মাধ্যমে সভাপতিত্ব করতে প্রধান শিক্ষককের ভাসুর (স্বামীর বড়ভাই)। এখন যে কমিটি আছে আমরা সকলে যুদ্ধ করে এসেছি। আট মাসে চারটা সভা করেছি কিন্তু প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকে না। বিদ্যালয়ে আগে শিক্ষার্থী ছিল না আমার এসে মানুষের বাড়িবাড়ি গিয়ে ছাত্রী নিয়ে এসেছি। বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী আছেন।

আমি ওনাকে সকল বিষয়ে তাগিদ দিয়েছি। শিমুর বিষয়ে সকল ধরনের সহায়তা করতে চেয়েছি কিন্তু তিনি আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আমি উনাকে শোকজের জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকালের মধ্যে নোটিশ করবো।

সকল বিষয়ের উত্তরে কি বলবেন মারুফা আক্তার
আমি অনেক জেদ করে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে এসেছি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজের ভাই ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষায় আমার ফলাফল ভালো থাকলেও বাবা (পূর্বের প্রধান শিক্ষক) আমার ভাইকে নিয়োগ দেন। অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে এখানে বসেছি। জমির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে কয়েক দিন আগে মানুষের কাছে শুনেছি। কিন্তু সেটাও তো মানুষের কাছে বন্দক হিসেবে রয়েছে। আসলেই কি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জমি বন্দক হয়? তিনি বলেন, আমি জানি না? তবে পূর্বের প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে ভালো জানেন।

আসলে আপনার ওপর এত অভিযোগের জবাবে কি বলবেন -এমন প্রশ্নে তিনি জবাব দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, অনেকটা সত্য হলেও এ বিষয়ে অনেকে অবগত রয়েছে। শিমু আক্তারের রেজিস্ট্রেশন করেননি কেন? উত্তরে জানান, একই শ্রেণিতে দুইজন শিমু আক্তার নামে আছে। করোনাকালীন সময়ে একজনের বিয়ে হয়ে যায়। আর সেজন্য সেই শিমুর রেজিস্ট্রেশন করিনি কিন্তু পরে জানতে পারি আসলে এই শিমু বাদ পরে গেছে।

একই শ্রেণিতে দুজন শিমু থাকার বিষয়ে তিনি শতভাগ নিশ্চিত বলে জানালেও বাস্তবে একজন শিমু আক্তার এবং অন্যজন শিমা আক্তার। ওই শিক্ষিকার মতের প্রেক্ষিতে হলেও প্রশ্ন থেকে যায় যে, কোন শিমু বাদ পড়েছেন তার বাবা-মায়ের নাম ও ক্লাস রোল কি শিক্ষকরা জানতেন না? এছাড়াও রেজিস্ট্রেশন না হওয়া শিমু যে দীর্ঘ দুই বছর ক্লাসে উপস্থিত ছিল, অর্ধ-বার্ষিকী ও বার্ষিকী পরীক্ষায় অংশ নিল তাতেও কি বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে পড়েনি? নাকি এখন দায় এড়ানোর মিথ্যে কৌশল হিসেবে এই তথ্য উপস্থাপন করছেন তারা? রেজিস্ট্রেশন না হলে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা, টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হলো এসব ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে কোন জবাব মেলেনি।

কিন্তু তিনি বলেন, লেবু নামের একজন সকল কাজ করে দিতে পারেন তাই তার কাছে বেশ কিছু টাকা দিয়ে করে নিতে চেয়েছি। পরে তো শিমুর পরিবার বেশি টাকা দেয়নি। তাই ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তিনি আরও বলেন, আসলে বিদ্যালয়ের তো উন্নয়ন করতে মন চায় কিন্তু বড় সমস্যা হলো আর্থিক সংকট। যার কারণে কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ভালো কিছু করলেও অনেকের চোখে সহ্য হয় না। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ফ্যান চালাতে চাই কিন্তু ফ্যানগুলো চালাতে হলে তো বিদ্যুৎ বিল আসবে, সেগুলো কোথায় থেকে দিব। শিক্ষার্থী বেশি না আসার কারণে ২০০৯ সাল থেকে সেশন চার্জ নিতে পারিনি। অফিসিয়াল খরচ তো প্রতিদিনই আছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ