প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০১, শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সামনে রেখে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নফাঁস হতে দেওয়া হবে না। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ সভার আয়োজন করা হয়।


সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক দূর করতেই সরকার একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আর্কাইভে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ খাতে বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। কোনো কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার সংরক্ষিত ফুটেজ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘যত দিন দায়িত্বে থাকব, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করে যাব।’ মতবিনিময় সভায় তিনি দাবি করেন, পাবলিক পরীক্ষায় নকলের সংস্কৃতি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন।

শিক্ষকদের পেশাগত সমস্যা ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও চাপমুক্ত পরিবেশ
নিশ্চিত করাও জরুরি। পরীক্ষা পরিচালনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মামলা জটিলতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ঘিরে প্রায় ৩০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এসব জটিলতার মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালিয়ে নিতে হবে।

মাদরাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মে ও জুন মাসের বকেয়া বেতন আগামী জুলাই মাসে একসঙ্গে পরিশোধ করা হবে। তিনি বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ১৭ হাজার মাদরাসা শিক্ষকের বেতনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে ১০০ কোটি টাকা জনতা ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে। ফলে যেসব শিক্ষকের হিসাব ওই ব্যাংকে রয়েছে, তারা বেতন পেয়েছেন। অন্যদের বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইউনুসের সভাপতিত্বে সভায় বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুস, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনসহ প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ