প্রিজন ভ্যান থেকে হাদিসের দারস দিলেন মামুনুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৩ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৩ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

কারাগারে নেয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে মামুনুল হককে। ইনসেটে দারস দিতে দেখা যাচ্ছে তাকে – নয়া দিগন্ত
পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে ছাত্রদেরকে হাদিসের দারস দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। সেই সাথে তার অনুসারীদেরকে সত্যের ওপর অবিচল থাকার উপদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কারাগারে নেয়ার পথে এই দারস ও উপদেশ প্রদান করেন।
এদিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামুনুল হককে কারাগারে নেয়ার লক্ষ্যে পুলিশের প্রিজনভ্যান উঠানোর সময়ে একদল অনুসারীসহ মাদরাসার ছাত্ররা হাদিসের কিতাব নিয়ে হাজির হন।
তারা সকলেই মামুনুল হকের উদ্দেশে বলতে থাকেন, হুজুর আমরা কিতাব নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদের ছবক দেন, দারস দেন। আবার কেউ কেউ কান্না করে বলতে থাকেন, আপনার মুক্তির জন্য দোয়া করি।
তখন মামুনুল হক প্রিজন ভ্যান থেকে তাদের উদ্দেশে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্যের জয় একদিন হবেই। আমার মুক্তির দরকার নেই, সত্যের মুক্তি দরকার। সত্যের মুক্তির জন্য তোমরা দোয়া করো। তোমরা হিজরত করবে আল্লাহর পথে। ইনশাআল্লাহ সত্যের জয় হবেই হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ কে এম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, মামুনুল হক তার অনুসারীদের শক্ত থাকার কথা বলেছেন। সত্যের উপর অবিচল থাকার কথা বলেছেন। সত্যের একদিন জয় হবে; সত্য মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায় না এসব কথা বলেছেন।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ আদালতে আনা হয়েছিল মামুনুল হককে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। সেই সাথে আদালতপাড়াজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করে আসছিলেন। এ সময় পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রাখে। এরপর গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় মামুনুলকে। পরে এই ঘটনায় ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন মামুনুল হক।
জনতার আওয়াজ/আ আ