প্রিয় বাংলাদেশ আজ কারামুক্তপুরো বাংলাদেশটাকেই বন্দি করে ফেলা হয়েছিল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:০৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রিয় বাংলাদেশ আজ কারামুক্তপুরো বাংলাদেশটাকেই বন্দি করে ফেলা হয়েছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৭, ২০২৪ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৭, ২০২৪ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

 

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
প্রিয় বাংলাদেশ আজ কারামুক্তপুরো বাংলাদেশটাকেই বন্দি করে ফেলা হয়েছিল।
আয়নাঘর মুক্ত আজ প্রিয় বাংলাদেশ
বিরোধী মতের মানুষকে আয়নাঘরে আটকে রাখা হতো।
আজ উন্মুক্ত হয়েছে গণতন্ত্রের দ্বার
আজ মুক্ত –স্বাধীন প্রিয় বাংলাদেশ ।
প্রিয় বাংলাদেশের সাহসী ছাত্র-জনতাকে বীরোচিত অভিনন্দন।
প্রিয় দেশবাসী
আপনাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে গণহত্যাকারী হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
প্রমান হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ কখনো পরাভব মানেনা।
পরাজয় মানেনা। মানতে পারেনা। মানবেনা।
বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি বাংলাদেশকে দমিয়ে রাখতে পারবেনা। ইনশাআল্লাহ।
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আর ২০২৪ এর মুক্তিযুদ্ধ।
উভয় যুদ্ধেই জনগণের একটিই বার্তা।
সেটি হলো, শর্ত দিয়ে স্বাধীনতা হয়না।
স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ স্বাধীনতা অর্জন কিংবা স্বাধীনতা রক্ষায়..
কোনো শর্ত মানেনা। মানতে রাজি নয়।

গনহত্যাকারী হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমি
যত মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রত্যেকটি মানুষের অনুভূতি প্রকাশের প্রথম উচ্চারণ ছিল একটি ‘.বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে বলছি। দেশ এবং জনগণকে স্বাধীন করতে গিয়ে চোখে মুখে বুকে গুলিকে আলিঙ্গন করা আবু আবু সাঈদ কিংবা মুগ্ধের মতো
হাজারো ছাত্র ছাত্রী তরুণ তরুণীকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে।

আহত হয়েছেন অসংখ্য অগণিত মানুষ। গণতন্ত্রের বিজয়ের ইতিহাসে এই মানুষগুলো অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ছাত্র-জনতার এই বিপ্লবে দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন।
গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি,
একজন মা যেমন তার সন্তানকে কোলে নিয়ে রাজপথে শামিল হয়েছেন,একইভাবে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতি কর্মী,
কৃষক শ্রমিকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন।৫২, ৭১ কিংবা ৯০ এর মতো দেশের ছাত্র সমাজ বিজয়ের নতুন আরেকটি অমর ইতিহাস রচনা করেছে।
ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আরেকটি বিজয় দেখেছে বাংলাদেশ। আমি বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে
দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে অভিনন্দন জানাই।

হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার গৌরবকে কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।
দেশকে গণতন্ত্রে উত্তরণের চলমান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতে
সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্ৰশাসনের প্রতি আহবান, শক্তহাতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করুন।
প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
ধর্ম বর্ণ পরিচয়ের কারণে কেউ যেন নিরাপত্তাহীনতায় না থাকে,
সবার আগে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষের দলগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই,
ষড়যন্ত্রকারীদের এই নৈরাজ্যের কাছে আমরা হার মানতে পারিনা।
আমি বিশেষ করে এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে
সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহবান

আপনারা যিনি যেখানে বসবাস করেন,
সেখানে আপনার বন্ধু কিংবা পাড়া প্রতিবেশী
তিনি মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান
ধর্মীয় পরিচয় যার যাই হোক/
বিশ্বাস যার যাই হোক
তার নিরাপত্তায় আপনি ‘ঢাল’ হিসেবে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
আমাদের মনে রাখতে হবে,
বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী
প্রত্যেকজন মানুষের একটাই পরিচয়,
‘আমরা বাংলাদেশী’।

আরো একটি বিষয়ের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
একটি সভ্য এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ অপরিহার্য।
পুলিশ জনগণের শত্রু নয়।
তবে গণহত্যাকারী হাসিনা, বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকার জন্য
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে জনগণের শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
তবে আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি বিশ্বাস করে,
পুলিশের ভেতর চিহ্নিত একটি চক্র ছাড়া
অধিকাংশ পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্য চাকুরীবিধি মেনেই
দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।

হাসিনার পলায়নের পর বর্তমানে খুব সুকৌশলে
একটি চক্র পুলিশের মনোবল ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
পুলিশকে অকার্যকর করে দেয়া গেলে
দেশকে অস্থিতিশীল করা সহজ।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা সহজ ।

অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের
আমি হুশিয়ার করে দিতে চাই,
পুলিশ কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী
আজ থেকে এই মুহূর্ত থেকেহামলা কিংবা নৈরাজ্য বন্ধ করুন।
এমনকি কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে
কোনো অপকর্ম করতে চাইলে
তাকে ধরেও আইনের হাতে সোপর্দ করুন।
কোনো পুলিশের বিরুদ্ধে কারো সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে যথানিয়মে অভিযোগ দায়ের করুন।
দেশবাসীর প্রতি আমার বিনীত আহবান
কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না।
প্রতিহিংসা প্রতিশোধে লিপ্ত হবেন না।
বিচারের ভার নিজ হাতে তুলে নেবেননা।
কেবল দৃষ্টান্ত অনুসরণ নয়/ নিজেই দায়িত্বশীলতা এবং মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।
প্রিয় দেশবাসী
অতীত সমালোচনা কিংবা নৈরাজ্যের বদলের নৈরাজ্য
কোনো সমাধান হতে পারেনা।
বরং বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
শাসন প্রশাসনকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্যে
নিয়োগ কিংবা প্রমোশনে
মেধার মূল্যায়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে।
দেশকে আমদানি নির্ভ কিংবা বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা বের করে আনতে হবে।
দেশীয় উৎপাদন এবং উৎপাদনে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়াতে হবে.
দেশে কর্মসংস্থান তৈরী করে বেকার সমস্যার সমাধান করতে হবে,
গার্মেন্টস, শ্রম, ঔষধ, আউটসোর্সিং সহ সম্ভাবনাময়
খাতগুলোকে নিয়ে রপ্তানি বাজারের আওতা বাড়াতে হবে।

প্রযুক্ত নির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে
দেশে বিদেশের শ্রম বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো
দক্ষ এবং মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাকে ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং বাস্তবসম্মত
করার লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতির উপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে
দেশে কিংবা প্রবাসে এমন অনেক বাংলাদেশী রয়েছেন,
যারা জ্ঞানে বিজ্ঞানে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।
তবে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিজ্ঞজনদের এমন অনেকেই
সংশ্লিষ্ট হতে চাননা।
সুতরাং, এইসব গুণী মানুষদেরকে
রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতি প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করতে
জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ চালু করা হবে।
রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গুণগত পরিবর্তন
আনতে না পারলে
সফল বিপ্লবের কাঙ্খিত ফল মিলবেনা।
সাড়ে বারোকোটি ভোটারের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে/
গত ১৫ বছর ধরে জনগণের উপর স্বৈরশাসন চাপিয়ে দিয়েছিলো।
গণহত্যাকারী হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে
হাজারো শহীদের রক্তেরঞ্জিত বিপ্লবের প্রথম ধাপ সফল হয়েছে।
ছাত্র জনতার এই রক্তঝরা বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্য
একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।
তাই বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে
জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে
ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
হাসিনা পতনের রক্তেরঞ্জিত বিপ্লবকে
সার্থক এবং সফল করে আসুন
নাগরিক হিসেবে আমরা আরো দায়িত্বশীল আচরণ করি।
বিভেদ বিরোধ হিংসা প্রতিহিংসা নয় আসুন সবাই মিলে
রাষ্ট্র ও সমাজে মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্
সাম্য -মানবিক মর্যাদা-সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করি।
নতুন প্রজন্মের জন্য দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহীমূলক একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
সবশেষে আমি সারাদেশে
আমার দলের নেতাকর্মী সমর্থক শুভার্থীদের উদ্দেশ্যে
বলতে চাই,
আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে
তারুণ্যের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ
আমরাই গড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ।
সবাই যার যার এলাকায় জনগণের সঙ্গে থাকবেন,
জনগণকে সঙ্গে রাখবেন।
কারণ
জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস্য

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ