প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো : কাদের - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:১৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২ ৭:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২ ৭:০১ অপরাহ্ণ

 

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলছেন, আপনারা প্রতিদিনই সরকারের পতন দেখতে পাচ্ছেন। প্রতিদিই বলেন সরকার পালিয়ে যাবে। কোথায় পালাবো? আমাদের দেশ বাংলাদেশ। পালানোর ইতিহাস আমাদের নেই। প্রয়োজনে দেশের মাটিতে জেলে যাবো। আওয়ামী লীগ পলাবার দল নয়।

বৃহস্পতিবার ( ১১ আগস্ট) রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক জরুরি সভায় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পালাবার দল আপনারা (বিএনপি) আপনাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোথায়? তিনি টেম্স নদীর তীরে বসে কীভাবে দেখেন- ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন! যিনি জরুরি সরকারের কাছে মুছলেকা দিয়ে এখান থেকে পালিয়ে গেছেন। আর আপনারা আওয়ামী লীগকে পালানোর কথা বলছেন।

আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা (বিএনপি ও সমমনা দলগুলো) যেভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, রাজপথ মনে আমরা ভুলে গেছি। আমরাও আছি। অচিরেই রাজপথে দেখতে পাবেন। শোকের মাসে হয়তো আমরা কিছু কিছু প্রোগ্রাম করছি না।

তিনি আরও বলেন, অপপ্রচার, মিথ্যাচার, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমাদেরও প্রতিবাদ করতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে হবে। সেই জন্য আমরা আগামী ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবসে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটা বিক্ষোভ সমাবেশ আমরা করতে চাই। আগামী বুধবার বিকেল চারটায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্ত্বরে সবাই মিলিত হবো। কিছুক্ষণ সমাবেশ করার পর আমরা মিছিল সহকারে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পর্যন্ত আসবো। এই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নে পালন করা হবে।

এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই প্রস্তুত আছেন? আছেন মাঠে? খেলা হবে, মোকাবিলা হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিরোধী কর্মসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটাতো গণতন্ত্রের বিষয়। আমরা তাদের বাধা দেব কেন? তারা যদি এই আন্দোলনের সঙ্গে সহিংসতার উপাদান যুক্ত করে। আগুন সন্ত্রাস নিয়ে মাঠে নামলে আমরা নিরব হয়ে ববে থাকবো? ঘরে বসে থাকবো? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি আঙুল চুষবে? প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। রাজপথে মোকাবিলা হবে।

বিএনপি মহাসচিব ময়ুর সিংহাসন দেখছেন দাবি করে তিনি বলেন, এটা সোনার হরিণ। দিন যায়, রাত যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়, বছর যায় কিন্তু সোনার হরিণ ময়ূর সিংহাসনের দেখা আজো দেখলাম না। তাদের এই স্বপ্ন রঙিন খোয়াবের মতো কর্পূরে উড়ে যাবে। আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নামবে। খালি মাঠে গোল হবে না। ফাঁকা মাঠে গোল হবে না।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জোটের শরিকরা আন্দোলনকে কীভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জোটের শরিকদের দলগতভাবে কর্মসূচি দেয়ার অধিকার আছে। তারা করতে চাইলে করবে। এটা তো কোনো কথা না। আমাদের জোট তো ইলেকশন অ্যালায়েন্স । সেটা তো কৌশলগত জোট। সেখানে আদর্শের কোনো বিষয় নেই। তাহলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমরা কেন জোট করেছি? এসব ব্যাপারতো ভাবতে হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, এটা সরকারের ব্যাপার। এটা দলীয় মিটিংয়ে আলোচনা হয়ে করে না। সরকারিভাবে এটা সিদ্ধান্ত হয় এবং এখানে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়রে প্রধান কিন্তু প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সারা দুনিয়ার পরিস্থিতি বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সবকিছু জেনেশুনে এটা করা হয়েছে …আমরা আগেই বরেছি এটা আমরা বাধ্য হয়ে নিরুপায় হয়ে করেছি। মানুষকে আমরা কষ্ট দিতে চায়নি। কিন্তু আমাদের সামনে অন্য কোনো বা বিকল্প কোনো পথ ছিলো না। এটা প্রধানমন্ত্রী বলেছে বিশ্বাবাজারে তেলের দাম কমলে ঠিক তখনেই আমরা তেলের দাম কমাবো। দেশে চারবার আমরা দাম কমিয়েছি। এই উদাহারণ নেই।

কাদের বলেন, ‘আজকে বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে এই পরিস্থিতি হয়েছে। যখন স্বাভাবিক সময় আসবে তখন আমাদের প্রমিজ থেকে পিছিয়ে যাবো না।’

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মুল্য কমলে আমরাও এখানে সমন্বয় করবো। এটা বলার পরও আজকে বিএনপিসহ তাদের দোসররা আজকে মাঠে নেমেছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যচার করছে, বিষেধাগার করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে নানান কথা বলছে। ৮ হাজারেরও বেশি টাকা বাংলাদেশ ভর্তুকি দিয়েছে। আর কতো ভর্তুকি? তারপরও আমাদে নেত্রী বরেছে, আপনারা একটু ধৈর্য্য ধরুন। আমার তো মনে হয় এই সংকট থেকে তিনি মুক্তি দিতে পারবেন। সেই আত্মবিশ্বাস আমাদের নেত্রীর রয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের সংকট সাময়িক। এই সংকট কেটে যাবে। এবং এই সংকট উত্তরণের জন্য সবকিছুই প্রধানমন্ত্রী করে যাচ্ছেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, বিপ্লব বড়ুয়া, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম, সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছারসহ সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের নেতারা।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ