ফয়সালকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৩ ৩:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ৯, ২০২৩ ৩:০৮ অপরাহ্ণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া বাংলাদেশী ছাত্র ফয়সাল বর্ণবাদী আক্রমনের শিকার অভিযোগ করে সচেতন নাগরিক সমাজ। তারা বলেন, ‘সে কাউকে হত্যা করতে গিয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। ফয়সালকে আত্নসমার্পন করানোর সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ সেটা করেনি। ফয়সালকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।’
সোমবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে আমেরিকান পুলিশ কর্তৃক প্রবাসী বাংলাদেশী ছাত্র ফয়সাল হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। মানবন্ধনটি আয়োজন করে সচেতন নাগরিক সমাজ।
এ সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া বলেন, ‘ফয়সালকে আত্মসমর্পণ করানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু পুলিশ সেটা করেনি। ফয়সাল বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছে। এর আগে আমরা দেখেছি জর্জ ফ্লয়েডকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার সর্বজনীন। এর কোন সাদা কালো রং থাকতে পারে না। মানবাধিকারে আফ্রিকা, ইউরোপ বা বাংলাদেশ হতে পারে না। পৃথিবীর যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উঠে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করে। অথচ মার্কিন পুলিশের হাতে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তার সর্বশেষ শিকার আমাদের ফয়সাল। আমরা অনুরোধ করছি মানবাধিকার নিয়ে ব্যবসায় করবেন না, রাজনীতি করবেন না।’
প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া বলেন, ‘সারা বিশ্ব মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উঠলে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু নিজ দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কথা বলেন না, দেখেও না দেখার ভান করেন। আমরা বিশ্বাস করি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সিলেক্টিভ হতে পারে না। আজকে এই সমাবেশ থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি ফয়সাল হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হোক এবং তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।’
আমেরিকান পুলিশ দ্বারা ২০ বছর বয়সি বাংলাদেশী ছাত্র ফয়সালকে গুলি করে হত্যা করা বিষয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেখানে জাতী সংঘের সদর দপ্তর রয়েছে এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। সেখানে বাংলাদেশী এক নাগরিক তার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাই কেবল না। মাত্র ২০ বছর বয়সি বাংলাদেশী এই ছাত্র ফয়সালকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমেরিকান পুলিশ যখন তাকে গুলি করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তার হাতে একটি চাকু ছিল। একজনের হাতে সামান্য একটা চাকু থাকবে আর তাকে গুলি করে হত্যা করবে এর প্রয়োজন আমরা দেখি না। সে যে অন্য কাউকে হত্যা করতে গিয়েছে বা পুলিশকে আক্রমন করেছে তার কোন প্রমান নাই। ওয়াশিংটন পোস্ট গত ৫ জানুয়ারি খবর দিয়েছে প্রতি বছর অন্তত এক হাজার মানুষ আমেরিকান পুলিশের দ্বারা নিহত হয়। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশের কারো বিচার হয়না।’
সকল দুতাবাস কে এই হত্যা কান্ডের বিষয়ে জানানো উচিত উল্লেখ করে সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমাদের যে দুতাবাস রয়েছে। পাশাপাশি পুরো বিশ্বের আমাদের যতগুলো দুতাবাস গুলো রয়েছে তাদের সকলের কাছে অনুরোধ জানাবো এই হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে শাস্তির আয়তায় আনা। পাশাপাশি আমাদের দেশে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে উন্নত দেশের দুতাবাস গুলো যে ভাবে হাজির হয়। আমাদের দুতাবাসের যারা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারাও ঐ সব দেশের দূতাবাস এ গিয়ে প্রতিবাদ জানান। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক এমন কোনো ঘটনা হোক তা আমরা চাইনা। যদি হয় এর বিচার দাবি করি।’
এ সময় মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
জনতার আওয়াজ/আ আ