ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা, আহত ৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২ ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

দেশব্যাপী পুলিশের গায়েবি মামলা, গ্রেফতারের প্রতিবাদে ফরিদপুর মহানগর বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে হামলার আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ হামলা করেছে। এতে বিএনপির ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২, বিকেল ৪টার দিকে ফরিদপুর শহরের মুজিব সড়ক সংলগ্ন প্রেসক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতারা বলেন, পুলিশের সামনেই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম আব্দুল কাইউম। সমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল যথাক্রমে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সমাবেশ উপলক্ষে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে ছোট আকারের একটি মঞ্চ করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তখনো ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাননি। ওই সময় মঞ্চে ছিলেন স্থানীয় নেতারা। বিকেল ৩টা ৫৪ মিনিটের দিকে হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা অনুমানিক ৩০/৩৫ জন স্থানীয় আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা লাঠি ও ইট নিয়ে সভাস্থলে হামলা করেন।
হামলাকারীরা ব্যানার ছিনেয়ে নেন ও চেয়ার ভাঙচুর করেন। এ সময় হামলাকারীরা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। হামলাকারীদের অনেকের পরনে কালো গেঞ্জি ও মাথায় লাল রঙের হেলমেট ছিল। পরে পুলিশ হামলাকারীদের হটিয়ে দেন। ওই সময় পুলিশ শর্টগানের ১১টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে। ওই সময় পুলিশ সিজান নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। এ আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের ধস্তাধস্তি হয়।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ঘটনাস্থলে আসেন।
শামা ওবায়েদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত বিএনপির ১১জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তার প্রতিবাদে গত চার দিন আগে আমরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছি। পুলিশের তত্ত্বাবধানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এ হামলা করেছে। তারা পুলিশের সামনে গুলি করে ককটেল ফাটিয়েছে।
এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গ্রেপ্তার করা অনেককে। তারা ককটেল রাজনীতি শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা দেখেছি তারা বিভিন্ন জায়গায় ককটেল রেখে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ তারা ফরিদপুরে প্রেসক্লাবে ককটেল ফাটিয়ে আমাদের লোকদের ধরছে।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, এখানে আজ আমাদের যে সমাবেশ ছিল সেটা ছিল সাধারণ মানুষের ওপরে, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপরে সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে। ১১ জন নেতা মারা গেছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ ছোট সমাবেশ করতে এসে আমরা হামলার শিকার হলাম।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া বলেন, হামলায় দিলিপসহ তাদের অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ রিতু, কামাল, রাজীব ও সিজানসহ বেশ কয়েকজন তরুণ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ