ফরিদপুর-২যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন শামা ওবায়েদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুর-২ (সালথা, নগরকান্দা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ দ্বৈত নাগরিকত্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে শামা ওবায়েদের দাখিল করা হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি শামা ওবায়েদ যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ যুগান্তরকে বলেন, আপনারা জানেন আমি আগেও নির্বাচন করেছি। সেই সময়ে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তেমন বাধ্যবাধকতা ছিল না। তারপর আমি আগেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল করে নির্বাচন করেছি। এ বছর ফের যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হলে সেখানে আমার নাগরিকত্ব বাতিল করি। এবারের হলফনামায় সেটি বলা হয়েছে।
এছাড়া হলফনামা তথ্যে শামা ওবায়েদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন।
সেখানে বলা হয়েছে, তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি।
শামা ওবায়েদ হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে আয় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা ও সম্মানি ভাতা ৯৬ হাজার টাকা।
তিনি বিবরণীতে যে অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন, তার অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা, একটি জিপ গাড়ি ৩০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি হিসাবে তিনি তার হলফনামায় ৫০ তোলা সোনার কথা উল্লেখ করলেও তার কোনো মূল্য উল্লেখ করেননি।
হলফনামায় শামা ওবায়েদ স্থাবর সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তার অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা।
অবশ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ জমির কোনো মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি। তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অকৃষিজমি ৪৫০ শতাংশ, ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, যার মূল্য দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
২০১৮ সালে শামা ওবায়েদের দাখিল করা হলফনামায় মোট আয় ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা দেখানো হয়। বর্তমান হলফনামায় মোট আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। দুটি হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত সাত বছরের ব্যবধানে তার আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার
৭৫৪ টাকা। ২০১৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী শামার অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা। বর্তমানে অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে তার অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা।
শামার বর্তমান স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০১৮ সালের হলফনামায় মোট স্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে ১০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি কমেছে।
২০১৮ সালে শামার স্থাবর সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে দেখিয়েছেন ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমি, যার মূল্য তার জানা ছিল না। বর্তমানের হলফনামায় তিনি কোনো কৃষিজমি দেখাননি। তবে বর্তমানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমি দেখিয়েছেন, যা ২০১৮
সালের হলফনামায় উল্লেখ করেননি। যদিও এই জমির মূল্য তিনি দেখাননি। ২০১৮ সালে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তিনটি ফ্ল্যাট ৬ হাজার ৬১০ বর্গফুট, যার আনুমানিক মূল্য দেখান ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
২০১৮ সালে শামার নামে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে দুই ধাপে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ ছিল, ২০২৫ সালের হলফনামায় তিনি তার নামে কোনো ঋণ দেখাননি। ২০১৮ সালে বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া ৬০ তোলা স্বর্ণ আছে বলে জানিয়েছিলেন। বর্তমানে স্বর্ণের পরিমাণ ৫০ তোলা দেখিয়েছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ