ফুলপরীকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে : বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফুলপরীকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে : বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩ ৩:১৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩ ৩:১৮ অপরাহ্ণ

 

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়।

এর আগে গত রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করা হয়।

জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রীকে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের সত্যতা পাওয়া গেছে। শনাক্ত করা হয়েছে নির্যাতনকারীদের। এছাড়া মোট ১০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সাথে শতাধিক পৃষ্ঠার সংযুক্তি জমা দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এসব প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হবে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় প্রতিবেদনগুলো দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কমিটি গঠনের সাত দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে এ নির্দেশনা দেন আদালত।

আদালতের আদেশ অনুসারে তিন সদস্যের কমিটিতে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা, জেলা জজ মনোনীত বিচারবিভাগীয় একজন কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

এছাড়া কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এর আগে নির্যাতনের ভিডিও ধারণের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। একইসাথে রিটে জড়িতদের হাইকোর্টে তলব করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি ধারণ করা ভিডিও অপসারণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে ইবির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) হল প্রভোস্ট, প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা। তিনি পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্রী। এসময় তার সাথে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তাবাসসুমসহ আরো কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবিতে ভর্তির কয়েকদিনের মাথায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হন এক ছাত্রী। নেত্রীদের কথা না শোনার অভিযোগ তুলে ওই ছাত্রীর ওপর সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালানো হয়। অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনা কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন নেত্রীরা। ভয়ে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যান।

এ বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী গাজী মো. মহসীন ও আইনজীবী আজগর হোসেন তুহিন। তখন আদালত আইনজীবীদের লিখিত আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় রিটটি করা হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ