ফেনী ৩-প্রস্তুত বিএনপি, শরিকের সুযোগ নিতে চায় জাসদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৬:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফেনী ৩-প্রস্তুত বিএনপি, শরিকের সুযোগ নিতে চায় জাসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৫ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জেলার তিনটি আসনের মধ্যে জটিল সমীকরণ ফেনী-৩ আসনে। বিএনপিতে দলীয় কোন্দল আর জোটবদ্ধ আন্দোলনের অবদান হিসেবে শরিক থেকে আসনটি দাবি করবে জেএসডি (রব)। ভোটের হিসেবে বিএনপি অন্য দলের তুলনায় বহু এগিয়ে থাকলেও বিরোধ মেটাতে না পারায় হতাশ নেতাকর্মীরা।
ফেনী-৩ আসনটির সীমানা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ছিল সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের সীমানা পরিবর্তন হয়ে ফেনী-২ আসন থেকে দাগনভূঞাকে কেটে ফেনী- ৩ আসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এ আসন দাঁড়িয়েছে সোনাগাজী উপজেলার একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে।
১৯৯১ সাল থেকে পরপর পাঁচবার বিএনপি সমর্থিত (ধানের শীষ প্রতীকের) প্রার্থী এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি’র ভোট বর্জনের সুযোগও কাজে লাগাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। সে নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির নেতা রিন্টু আনোয়ার। নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে থাকায় তিনি ভোট বর্জন করলে এমপি নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্যাহ। অবশ্য পরে রাজনীতি ছেড়ে দেন রিন্টু। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন না তিনি। সে হিসেবে রিন্টুকে একবার সংসদে দেখতে চান অনেকে।
২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে গেলেও আগের রাতে ভোটের কাছে হেরে যান ধানের শীষের প্রার্থী আকবর হোসেন। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে ১৪ দলের প্রার্থী হয়ে এমপি হন লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ২০২৪ এর নির্বাচনে ডামি প্রার্থী করিয়ে আগের রাতে ভোটগ্রহণ করে জয়ী হন মাসুদ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন মিন্টুর ছোট ভাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন। তিনি দাগনভূঞা পৌরসভার সাবেক মেয়র। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করলেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্র দখলের কাছে হেরে জয়ী হতে পারেননি। দলীয় ছাড়াও দুই উপজেলায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অবদানের ফল হিসেবে এ আসনের ভোটাররা মিন্টু পরিবারের একজনকে সংসদে দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রার্থী না হলে আকবর হোসেনকেই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহানা আক্তার শানু, সাবেক এমপি প্রয়াত মোশাররফ হোসেনের ভাই মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী মাবরুর হোসাইন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে আকবর হোসেন ব্যতীত এসব সম্ভাব্য প্রার্থীদের কোনো কার্যক্রম নেই এ আসনে। ফেনী বিএনপি’র ঘাঁটি দাবি করে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, তিনটি আসনে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেবে তার জন্য নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেএসডি’র (রব) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন জোটের মনোনয়ন নিতে চান। তিনি ২০১৮ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১৮ আসনে ভোট করেন। তবে ফেনী-৩ আসনে দলটির কোনো ভিত বা কার্যক্রম নেই। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (মামুনুল হক) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মুসা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ আলি মিল্লাতকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগরের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাইফুদ্দিন শিপনকে এখানে দলটির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এ আসনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও এমনটি মনে করেন না বেশির ভাগ নেতা। তাদের মতে বড় দলে পদ নিয়ে মান-অভিমান থাকতেই পারে। মনোনয়ন ঘোষণার পর ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যাবে বলেও মনে করেন তারা। আর সারা দেশের মতো ফেনীর মানুষও দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত উল্লেখ করে জুলাই বিপ্লবের পর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানান পেশাজীবীরা।বাংলাদেশ ভ্রমণ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ