ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনেকের পছন্দ হয়নি, কারণ নির্বাচন হলেই তাদের বিপদ - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:০২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনেকের পছন্দ হয়নি, কারণ নির্বাচন হলেই তাদের বিপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ১৮, ২০২৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ১৮, ২০২৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

 

ছবি: সংগৃহীত
জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণায় অনেকের পছন্দ হয়নি। কারণ, নির্বাচন হলেই তাদের বিপদ।” বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত সদস্য নবায়ন ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা বলেছিলাম ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে হবে। আর ইউনূস সাহেব বলেছিলেন এপ্রিলে নির্বাচন দেবেন, তাই না? তিনি (তারেক রহমান) আলোচনার মাধ্যমে ওই ডিসেম্বরে থাকেননি, ফেব্রুয়ারিতে চলে গেছেন। ইউনূস সাহেবও পিছিয়ে ফেব্রুয়ারিতে এসেছেন। এটাকেই বলে রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “রাষ্ট্রনায়ক জনগণের শান্তির কথা চিন্তা করে। কোনো বিভেদে না গিয়ে, সংঘর্ষ এড়িয়ে এই দুই নেতা—অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমান—আমাদের একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা অনেকের পছন্দ হয়নি, কারণ নির্বাচন হলেই তাদের বিপদ।”

তিনি বলেন, “এখন নির্বাচন নেই, তাই তাদের অনেক গুরুত্ব আছে। কিন্তু যখন নির্বাচন হয়ে যাবে, তখন জনগণের ভালোবাসার দলই তো ক্ষমতায় আসবে। তখন তাদের গুরুত্ব কতটা থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে। যে কারণে তারা নারাজ হয়েছে এবং গতকালের এক বৈঠকে তারা হাজিরও হয়নি।”

‘আমরা কি ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পছন্দ করছি না?’—এমন প্রশ্ন ছুড়ে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে ‘পছন্দ করছি’ সাড়া পাওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসকে করতালির মাধ্যমে অভিনন্দন জানানোর আহ্বান জানান। সঙ্গে সঙ্গে মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একই শিক্ষা দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “এখন আমাদের তরুণ নেতা যিনি আমাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সফল হয়েছেন এই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সরাতে—তিনি এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একটি নতুন কাঠামোয় নতুন বাংলাদেশ গড়ার। এই স্বপ্ন আমাদের সবাইকে ধারণ করতে হবে। আমরা পরিবর্তন চাই, বিচারহীনতা চাই না, দুঃশাসন চাই না।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছু বোঝে না। তারা দেশকে ধ্বংস করেছে। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করতে করতে ওদের সব শয়তানি আমরা বুঝে ফেলেছি।”

তিনি বলেন, “ওরা হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে হত্যা করেছে, গুম করেছে, বাড়ি-দোকান দখল করেছে। এসব আমরা ভুলে যাচ্ছি। আমি এসব বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছি, যাতে ভুলে না যাই।”

তিনি বলেন, “আমরা রাজনৈতিক দল। আমাদের কাজ হলো জনগণের সেবা করা—শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি ও উন্নত জীবনের ব্যবস্থা করা।”

এই লক্ষ্য পূরণে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রণীত ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

ফখরুল বলেন, “অনেকেই ভাবছেন আওয়ামী লীগ নাই, মাঠ ফাঁকা। কিন্তু আসলে মাঠ ফাঁকা নয়। মানুষ মাঠে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও এমনটাই হয়েছিল। তখন হাসিনা বলেছিলেন—বিএনপি বেশি হলে ১০টা সিট পাবে। কিন্তু সেই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। কারণ, জনগণের ভালোবাসা ছিল।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকের সদস্য নবায়নের সময় দেখে-শুনে করতে হবে। যাতে কোনো আওয়ামী লীগ সদস্য না থাকে। আওয়ামী লীগের কেউই ভালো না—এটা পরীক্ষিত। তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না।”

তবে তিনি বলেন, “যারা রাজনীতি করেনি, ভালো মানুষ, তাদের দলে নেওয়া যাবে। আওয়ামী লীগের যারা খারাপ, মাফিয়া, দখলদার, ডাকাত—তাদের দলে নেওয়া যাবে না। তবে নিরপেক্ষ এবং সৎ মানুষদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তুরাগ থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হারুন রশিদ খোকন। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএস জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এম কফিল উদ্দিন, আফাজ উদ্দিন ও এবিএম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ