ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের শঙ্কা : জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৫৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের শঙ্কা : জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ১, ২০২৫ ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, আগস্ট ১, ২০২৫ ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

 

ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির বিভেদের সুযোগ নিয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আবারও ফিরে আসতে চাচ্ছে। এজন্য গণ-অভ্যুত্থানের এক বছরের মাথায় এসে সরকার ও রাষ্ট্রকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। বুধবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত দলটির মাফিয়াচক্র এ বিষয়ে একাধিক মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী হামলার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তাদের হিট অ্যান্ড রান গ্রুপ আগস্টকে টার্গেট করে মরণকামড় দিতে ভয়ংকর সব পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে হটাতে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে এখন একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভোটের মাঠে যতই মতবিরোধ থাকুক না কেন, ফ্যাসিস্ট হটাও ইস্যুতে সত্যিকারার্থে ঐক্যবদ্ধ না থাকলে সবাইকে বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে। তাদের মতে, বাংলাদেশের মূল ভিত্তিকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলটা ছিল খুবই সুপরিকল্পিত।

বিষয়টি যে উদ্বেগজনক, সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে, এ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটানোর সুযোগ তারা পেল কী করে? প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে প্রশাসনের সর্বস্তরে আওয়ামী লীগ তাদের লোকজন প্রতিষ্ঠিত করেছে; কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর কি তাদের চিহ্নিত করে অপসারণ করা হয়েছে? উত্তর হচ্ছে, না। ফলে শত্রুর দোসরদের সঙ্গে রেখে শক্র মোকাবিলা যে এককথায় অসম্ভব, তা আবারও প্রমাণিত হচ্ছে। মূলত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সমূলে উচ্ছেদ করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল, তার অনেক কিছুই করতে আমরা দেখিনি, যে কারণে দেশকে নৈরাজ্যের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক গোপালগঞ্জের ঘটনা কিংবা আন্দোলনকারী পরিচয়ে সচিবালয়ে সহিংসতার চেষ্টার ঘটনাকে উল্লেখ করতেই হয়। এসব ঘটনায় যেভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তি তাদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে; বোঝাই যাচ্ছে, সামান্য সুযোগ মিললেই তারা দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পিছপা হবে না। কাজেই তাদের প্রতিরোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকতে হবে। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকেও দেশের স্বার্থে হুঁশিয়ার থাকতে হবে। সরকারেরও উচিত হবে শক্তভাবে নৈরাজ্যকারীদের প্রতিরোধ করা। শর্ষের ভেতরে থাকা ভূতদের খুঁজে বের করে দ্রুত তাদের নিষ্ক্রিয় করা। ভুলে গেলে চলবে না, দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তা মোকাবিলার দায়িত্ব প্রথমত সরকারের এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের।

দেশকে আবারও আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ যে নেই, তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল, গণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি, ছাত্রসমাজ, জনসাধারণ-সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদীদের যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। দেশপ্রেমিক জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে অতীতের ঘটনাগুলো মোকাবিলা করেছে, আগামী দিনেও এ জায়গায় সবাই এক থাকবে, এ অঙ্গীকার করতে হবে। আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু দেশের কল্যাণের স্বার্থে অভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ