বগুড়ায় শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে আহত প্রায় শতাধিক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪ ৮:০২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪ ৮:০২ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন ও কোটা সংস্কারের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বগুড়ায় অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। একই সাথে সংঘর্ষে ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ছাড়া আন্দোলনের কারণে বগুড়ায় যাত্রীসহ দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেন ৬ ঘন্টা ধরে আটকা রয়েছে। সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসাে ট্রেনটি দুপুর ১২ টা ১৫ থেকে এ রিপোর্ট লেখা (৬টা ১৫মিনিট ) পর্যন্ত আটকে রয়েছে।
কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সকাল থেকে বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ চলছে। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে কয়েকজন পুলিশ, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ আহত হয়েছেন শতাধিক। যাদের মধ্যে বর্তমানে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে বর্তমানে ৩৬ ও বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। আহত ব্যক্তিরা পুলিশের ছররা গুলি, রাবার বুলেট আর ইট পাটকেলে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পুলিশের দুই জনের একজনের নাম সার্জেন্ট জিয়া। তার মোটরসাইলকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। এসময় ওই পুলিশের গায়ের পোশাক খুলে লাঠির অগ্রভাগে নিয়ে ঘুরায় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বেলা এগারোটায় শিক্ষার্থীরা মূল শহরের সাতমাথা অংশে আসতেই পুলিশী এ্যাকশন শুরু হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা সাতমাথা অংশ থেকে সড়ে গিয়ে বগুড়ার সবগুলো রাস্তা দখলে নেয়। তখন থেকেই গুলি, টিয়ারশেল, রাবার, বুলেট, কাদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, ছুড়ছে পুলিশ।
বিকেল পর্যন্ত আন্দোলকারীরা বগুড়া সদর থানার পশ্চিম এবং উত্তর পার্শের রাস্তাগুলো দখল করে আছে। সেই সাথে শহরের জেলখানা, পৌরসভা কার্যালয় এলাকাতেও অবস্থান করছে আন্দোলনকারীরা। দুপুরে ঘন্টাখানেক খাবার বিরতি ছিলো। তার পর আবারো রাস্তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিকেলে সাড়ে ছয়টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শহরের কলোনিতে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে।
এছাড়া আন্দোলনরত ১৫ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এঘটনায় শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর সুজন মিয়া।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত ৪৩ জন ভর্তি ছিলো। এদের অধিকাংশই রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন। তবে কারোরই মৃত্যু ঝুকি নেই।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৩৭ জন চিকিৎসা নেয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টাার সাজেদুর রহমান সাজু বলেন, রেলের ২১-২২ নং গেটে প্রতিবন্ধকতা করা হয়েছে। রেল লাইনে উপর আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সেলিম হোটেল, কাঠালতলা, থানার মোড় এলাকার রেল ঘুমটি ক্লিয়ার হলে ট্রেনটি যেতে পারবে। দোলনচাপা ট্রেনটি দুপুর সোয়া ১২টা থেকে যাত্রী নিয়ে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের অন্তত ১৫ জনের মতো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা টিয়ারশেল নিক্ষেপ, সাউন্ড গ্রেনেড এগুলোই বেশি ব্যবহার করেছি। শর্টগান বা রাবার বুলেট মাঝে মাঝে ব্যবহার করতে হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। হয়তো তারা বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে। সে সময় আমরা সেই স্থান নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ