বগুড়া ১-সৎ, শিক্ষিত এবং কাজ করার মতো নেতা খুঁজছেন তরুণ ভোটাররা - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:৫১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বগুড়া ১-সৎ, শিক্ষিত এবং কাজ করার মতো নেতা খুঁজছেন তরুণ ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

জেলার অন্যতম উপজেলা সোনাতলা-সারিয়াকান্দি নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ আসন। এ আসনে এবার জেন জি ভোটাররা পরিবর্তন চায়। তরুণ ভোটাররা তাদের ভোট দিতে না পারার বেদনা ভুলতে চায়। শিক্ষিত সৎ এবং কাজ করার মানসিকতাসম্পন্ন নেতা নির্বাচন করতে চায়। এছাড়াও নির্বাচনে নানা সমীকরণ, নানা হিসাব-নিকাশ চলছে আসন জুড়ে। কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে তা নিয়েও দলগুলো এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এজন্য জাতীয় রাজনীতির দিকে তাকিয়ে আছে অনেকে। এর মধ্যেও বিএনপি এবং জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে সরব দেখা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজের উপস্থিতি জানান দিতে নানাভাবে মাঠে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বিএনপি’র বেশ কিছু নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, মনি পঞ্চায়েত কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মহিদুল ইসলাম রিপন, জেলা ড্যাব’র সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. শাহ মো. শাজাহান আলী, জিয়া শিশু-কিশোর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোশাররাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও উপজেলা সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ উন নবী সালাম।

ভোটের বিষয়ে কথা হয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে। কাজী রফিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, বিগত সরকারের সময় গোটা বগুড়া বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। আমার আসনে তারা কোনো উন্নয়ন করেনি। আমি এমপি থাকতে নদীভাঙন নিয়ে কাজ করেছি। অসংখ্য ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছি। মানুষ আমার সময়ের কাজগুলোকে মনে রেখেছে। আমি আমার শেষ বয়সে এসে জনগণের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। তিনি মনে করেন, দল তাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আবারও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারবেন। বিএনপি থেকে মোশাররফ হোসেন চৌধুরী মনোনয়ন চান। জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত আছেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে উপস্থিত থেকেছি। দলের জন্য সব কিছু করেছি। আমি ধানের শীষ পেলে নিশ্চিত জয়লাভ করতে পারবো। আর সাধারণ মানুষের যে চাহিদা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যমুনা নদী শাসনের মাধ্যমে হাজার হাজার পরিবারকে রক্ষা করবো। প্রফেসর ডা. শাহ মো. শাজাহান আলী মানবজমিনকে বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার শিক্ষিত, যোগ্য এবং সৎ মানুষকে মনোনয়ন দেবেন। আমি আশাকরি এমন প্রার্থীর তালিকায় আমার নাম থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান আরেক নেতা মনি পঞ্চায়েত কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আলহাজ মহিদুল ইসলাম রিপন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এজন্য এলাকায় তার খ্যাতি রয়েছে। মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত তিনি। শীতের কম্বল, ঈদ উপহার, বাঁধ নির্মাণে অর্থ সহায়তা, চিকিৎসা ক্যাম্পসহ দলীয় ব্যানারে নানামুখী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ তার মতো একজন সৎ, যোগ্য মানুষকে এবার এমপি হিসেবে দেখতে চায়। তিনি মানবজমিনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আসনটি উপহার দিতে পারবো। এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিবেদিত করবেন বলে সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করেন।

মো. ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ এর আগে স্বতন্ত্র থেকে দু’বার নির্বাচন করেছিলেন। এবার তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, আমি ২০২৪ সালের ৫ই মার্চ বিএনপিতে যোগ দিয়েছি। এবার নির্বাচন যদি করি তাহলে দল থেকে মনোনয়ন চাইবো। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। অনেক আগে থেকেই এলাকায় সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত আছি। মানুষের ভালোবাসা আমাকে নির্বাচন করতে উৎসাহিত করে।

অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী হিসেবে দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বেশ আগে থেকেই মাঠে সরব আছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে যাচ্ছেন। জামায়াত নির্বাচনের মাঠে সরব। পাশাপাশি নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া জাতীয় ইস্যু নিয়েও সাধারণ মানুষের কথা বলছেন। নির্বাচন নিয়ে কথা হয় অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট আমলের নির্বাচন আর দেখতে চায় না। তারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজমুক্ত একটা সরকার চায়। আমি মাঠে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি এবারে মানুষ ইসলামী শাসনব্যবস্থা চায়। তারা মনে করেন ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েম হলে বাংলাদেশে শান্তি ফিরে আসবে।
আরেকজন সম্ভাব্য প্রার্থী কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান শ্যামল। তিনি একজন কৃষিবিদ। জাতীয় অর্থনীতিতে তার অবদান রয়েছে। তিনি দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের অন্যতম একজন। সোনাতলা-সারিয়াকান্দি আসনের মানুষদের জন্য তার টান রয়েছে। এর আগে স্বতন্ত্র থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাহাদারা মান্নানের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছিলেন। এবারো তিনি নির্বাচন করতে পারেন বলে এলাকায় আওয়াজ আছে। তবে তিনি কোনো দল থেকে নাকি আবারো স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবেন- তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি। তিনি মুঠোফোনে মানবজমিনকে বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ বেশি দরিদ্র। কারণ এখানে কৃষি ছাড়া কোনো শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থাকার পরেও পর্যটন জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি। এখানে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যারা দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে জনগণের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। আমি এলাকার সমস্যাগুলো খুব কাছে থেকে জানি। এলাকার পরিবর্তনের স্বার্থে আমাকে চাইলে অবশ্যই শামিল হবো।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ