বরগুনা ১-বিএনপি’র সামনে চ্যালেঞ্জ একাধিক ইসলামিক দল - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৪:৪০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বরগুনা ১-বিএনপি’র সামনে চ্যালেঞ্জ একাধিক ইসলামিক দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫ ২:০৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫ ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশের দক্ষিণে অবস্থিত জেলা বরগুনা। রয়েছে দু’টি জাতীয় সংসদীয় আসন। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বরগুনা-১। সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত হয়েছে। যা দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ হিসেবেও পরিচিত। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাল্টে গেছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে অবস্থার উন্নতি হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর। এরই মধ্যে বেজেছে নির্বাচনের ঘণ্টা। এজন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে বেশ সরব। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত বিএনপি’র ৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আর একক প্রার্থী ঘোষণা করে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে জামায়াত। তবে ভোটের দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনও। যদিও জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন- দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলার সাবেক সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, কেন্দ্রীয় সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ-উজ-জামান মামুন মোল্লা, সাবেক সহ-সভাপতি ফজলুল হক মাস্টার, জেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সালে ফারুক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. রেজবুল কবির এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান। এরমধ্যে নজরুল ইসলাম মোল্লাকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান তালুকদারের সঙ্গে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিএনপি মতিউর রহমান তালুকদারের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। এরপর নজরুল মোল্লা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এ ব্যাপারে মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সারাজীবন বিএনপি’র রাজনীতি করেছি। ছাত্রদল করেছি, দীর্ঘদিন জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলাম। জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও চার বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। শেখ হাসিনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মাঠে সক্রিয় ছিলাম। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দিন-রাত সাধারণ মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি। আশাকরি দল নিশ্চয়ই আমার এসব কাজের মূল্যায়ন করবে।

এদিকে, ফিরোজ-উজ-জামান মামুন মোল্লা বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। চাঁদাবাজি-দখলবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছি। স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেছি। যোগ্যতা বিবেচনায় দল আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আমি আশা করছি। এ জেড এম সালে-ফারুক বলেন, জীবনের মূল্যবান সময় বিএনপি’র পেছনে ব্যয় করেছি। গত ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকারের মামলা হামলার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। একাধিকবার জেল খেটেছি। রাজপথে থেকে সকল আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। কখনো পিছপা হইনি। আশা রাখছি দল আমাকে নিরাশ করবেন না। আরেক বিএনপি নেতা ফজলুল হক মাস্টার বলেন, এক এগারোর সময়ে প্রায় আট মাস ডিটেনশনসহ এক বছর জেল খেটেছি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়েছি। মার খেয়েছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের কঠিন সময়ে সকল প্রোগ্রামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অংশগ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় গণসংযোগ করেছি। সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে আছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

বিএনপি নেতা মো. রেজবুল কবির বলেন, ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপি’র একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। একদিনের জন্যও দলের বাইরে কিছু চিন্তা করিনি। বরগুনা সরকারি কলেজে দু’বার জিএস নির্বাচিত হয়েছি। সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের আমলেও সর্বাধিক ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দিনরাত মানুষের জন্য কাজ করেছি। সার্বিক বিবেচনায় দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচিত হবো ইনশাআল্লাহ। এ ছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান শেষ পর্যন্ত এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলেও দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী প্রায় ছয় মাস আগের জেলা আমীর ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনকে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তিনি এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। তিনি বলেন, জনগণ এখন ইসলামী দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছি। যেখানে যাচ্ছি জনগণের আকুণ্ঠ সমর্থন পাচ্ছি। আশা করছি আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে আসনটি উপহার দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ। তবে, ভোটের দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন। বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। আসনটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী দলটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহ। যদিও আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তাদের তেমন কোনো তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়নি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ