বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কমিটি, ছাত্রদলে অসন্তোষ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৪৮, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কমিটি, ছাত্রদলে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬ ৩:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২৬ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ১২৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিও দেওয়া হয়।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনটির ভেতরে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, নতুন কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অন্তত ২০ জন সক্রিয় কর্মী স্থান পেয়েছেন। এই ঘটনায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলছেন, ঘোষিত কমিটিতে সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রলীগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। অতীতে তাদের ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা।

কমিটির কাঠামো অনুযায়ী সহসভাপতি রয়েছেন ২৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩৪ জন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক ১৬ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এটি যেন ছাত্রলীগের পুনর্বাসনের একটি প্রক্রিয়া। এতে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।’

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশারাফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কাছে পাঠানো ৮১ সদস্যের প্রস্তাবিত কমিটি উপেক্ষা করে কোনো আলোচনা ছাড়াই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আরিফ হোসাইন শান্ত বলেন, ‘ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কমিটি গঠনের সময় স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত নেওয়া হয়নি।’

সভাপতি মোশারাফ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কমিটি দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।’ তিনি জানান, তাদের পাঠানো তালিকার ৫ শতাংশ সদস্যও নতুন কমিটিতে স্থান পাননি। তার অভিযোগ, ‘কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কমিটি ঘোষণা করেছে। এটি অগণতান্ত্রিক ও গঠনতন্ত্রবিরোধী।’

এদিকে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নয়, জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কমিটিতে একাধিক বিবাহিত ও অছাত্র ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে, যা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি।

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তানজিলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তাসনিমের অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সালে ঢাকায় সংঘর্ষের এক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের তালিকায় তার নাম ছিল। জেলা কমিটিতেও অছাত্র অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনামুল হাসান তাসনিম। তিনি জানান, তিনি কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বরং দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিক মামলায় কারাবরণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ‘দলের জন্য ত্যাগের প্রমাণ আমি দিয়েছি।’

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ নাকচ করে বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, ‘স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেই কমিটি দেওয়া হয়েছে। নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’

তবে সংগঠনের একাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতা মনে করেন, কমিটি গঠনে স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরে বিভাজন ও আস্থার সংকট তৈরি করছে। তাদের অভিযোগ, নেতৃত্ব বাছাইয়ে যোগ্যতার চেয়ে অন্য বিবেচনাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ