বরিশাল ১বিএনপি’র স্বপন কুদ্দুসের কোন্দলে নির্ভার জামায়াত ইসলামী আন্দোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:২৮ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫ ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
সারা দেশে নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গেছে। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বরিশালে। বাদ নেই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। সবার মুখে শুধু নির্বাচনের গল্প। রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত মাঠ গোছাতে। আর সাধারণ মানুষ সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ করছেন। এর মধ্যে অন্যতম বরিশাল-১ আসন। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া নিয়ে গঠিত আসনটি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ। আর সেখানে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় দুই প্রভাবশালী নেতা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের মধ্যকার বাকযুদ্ধ ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। অপরদিকে, জামায়াত মাওলানা কামরুল ইসলাম খান এবং ইসলামী আন্দোলন মুহাম্মদ রাসেল সরদার মেহেদীকে একক প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। ’৭৫ পরবর্তী নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করে বিএনপি’র মোশাররফ হোসেন শাহজাহান। এরপর বিএনপি’র জহিরউদ্দিন স্বপন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। বাকি সময় একবার জাতীয় পার্টি জয়লাভ করলেও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ নিজের আসন বলে পরিগণিত করেন। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এ নেতার জন্মভূমি আগৈলঝাড়ায়। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০১৪ ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে যখন হাসানাত ভারতে ছিলেন তখন তারই প্রিয়ভাজন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুচ এমপি নির্বাচিত হন। এবার নির্বাচনে হাসানাত আব্দুল্লাহ পরিবারসহ দেশত্যাগ করায় তার কর্মীরাও কোণঠাসা হয়ে রয়েছে। আর সে সুযোগটা পুরোপুরি বিএনপি নিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু গোল বেধেছে বিএনপি’র দুই নেতার কোন্দলে। জহিরউদ্দিন স্বপন দু’বারের নির্বাচিত এমপি। অপরদিকে, আকন কুদ্দুসুর রহমানও মনোনয়ন দাবিদার।
সাম্প্রতিক একাধিক সমাবেশে তারা একে অপরকে ইঙ্গিত করে যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি গৌরনদীতে এক জনসভায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দলের মধ্যেই যদি মাদক ব্যবসায়ী, গডফাদার থাকে, তাহলে কি আমরা তা মেনে নেবো? গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় বিএনপি’র কোনো গডফাদার চলবে না। সময় হলে ডাক দেবো।’ এর পাল্টা জবাবে কুদ্দুসুর রহমান এক সমাবেশে বলেন, ‘আপনার পাশে জাতীয় পার্টি, পেছনে আওয়ামী লীগ। ভোটারবিহীন নির্বাচনের চেয়ারম্যান পিকলু গুহকে আপনি শেল্টার দেন। আপনার লজ্জা করে না? মৌচাকে ঢিল মারবেন না।’ তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় যারা বিএনপিকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল, তারা আজ আবার সরব হয়েছে। তারা অভিভাবক হতে পারে না।’ পুরো নির্বাচনী এলাকায় এই দুই নেতার কোন্দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, স্বপন-কুদ্দুসের দ্বন্দ্বে দল নির্বাচনীভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অনেকেই যারা দীর্ঘদিন এলাকায় ছিলেন না, তারা এখন বিভিন্ন দলের লোকজন দিয়ে সংগঠন ভারী করছেন। যা দলের জন্য অশনিসংকেত। অপরদিকে, বরিশাল-১ আসনে আগে থেকেই জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ মজলিসে মুফাচ্ছিরিন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বরিশাল জেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলনও তাদের প্রার্থী হিসেবে মুহাম্মদ রাসেল সরদার মেহেদীর নাম ঘোষণা করেছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এ দু’জন এলাকায় খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করলে বিএনপি’র জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিএনপি’র কোন্দল আর ইসলামী দলগুলোর ঐক্য বরিশাল-১ আসনে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ