বরিশাল-২ লাকি হিসেবে গণ্য করা আসন, অভিকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি! - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১:৫৬, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বরিশাল-২ লাকি হিসেবে গণ্য করা আসন, অভিকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫ ২:৫০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বানারীপাড়া আর উজিরপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে খরস্রোতা সন্ধ্যা নদী। তীরের এই দুই উপজেলা নিয়েই গঠিত বরিশাল-২ আসন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই উজিরপুরের প্রায় অর্ধেকই প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত যেসব দলের প্রার্থী জয় পেয়েছেন, সেই দলটিই সরকার গঠন করেছে। সেই হিসেবে বরিশাল-২ আসনকে ‘লাকি আসন’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই লাকি আসনের এমপি হতে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে এই আসনের সাধারণ ভোটাররা দলীয় প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিগত ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

বরিশাল-২ আসনটি একসময় ছিল বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলা নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণের সময়ে বরিশাল-২ আসনটি গঠিত হয় বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা নিয়ে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে।

এর আগে বরিশালের সঙ্গে পিরোজপুরের সংযুক্ত (বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি) আসন থাকার সময় ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে সৈয়দ শহিদুল হক জামাল নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের এ কে ফয়জুল হক এবং ২০০১ সালে শহিদুল হক জামাল দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। উজিরপুর থেকে ১৯৯১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির গোলাম ফারুক অভি এবং ২০০১ সালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নির্বাচিত হন। সেই থেকেই এই আসনের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী বেছে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

সেই বিবেচনায় বানারীপাড়া-উজিরপুর উপজেলাতে আলোচনায় রয়েছেন নব্বইয়ের দশকে জাতীয় রাজনীতির আলোচিত নাম গোলাম ফারুক অভি। আর তাকে ঘিরেই দুশ্চিন্তায় রয়েছে দুই উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাইসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বরিশাল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গোলাম ফারুক অভি। সপ্তম জাতীয় সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। তখন বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল এই আসন। পরে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বর্তমান কাঠামো হয়। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে সারা দেশে আলোচিত হন অভি। বিশেষ করে উজিরপুর উপজেলার বহু বিচ্ছিন্ন এলাকা সেতু-কালভার্ট ও সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আসে তার সময়েই। সে কারণেই এখনো তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়।

২০০২ সালের আলোচিত মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলার প্রধান আসামি হওয়ার পর দেশ ছাড়েন গোলাম ফারুক অভি। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কানাডায় অবস্থান করছিলেন। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিন্নি হত্যা মামলায় খালাস পান গোলাম ফারুক অভি। এরই মধ্যে দেশে ফেরার জন্য কানাডায় বাংলাদেশের দূতাবাসে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন।

অভির অনুসারীরা বলেন, দেশে ফিরে তিনি অন্য যেকোনো দল থেকে অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো দেশে ফেরা।

এদিকে এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, বাসদের তরিকুল ইসলাম তারেক এবং এনসিপির দুজন এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এনসিপির দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন বরিশাল মহানগর শাখার সদস্যসচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং এনসিপির ঢাকা পল্টন শাখার সদস্য অ্যাডভোকেট আলী আকবর তালুকদার।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সহ-সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ১৫ বছর ধরে বানারীপাড়া ও উজিরপুরের নেতা-কর্মীদের কার্যত আগলে রেখেছিলেন এবং দুই উপজেলাতেই তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তার অনুসারীদের দলবাজি, চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষের কারণে সেই জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। পরে চাঁদাবাজির অনুমতি দেওয়া, চেয়ারপারসনকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে বিএনপিতে যোগদান এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়ন প্রতিযোগিতা নিয়ে দলীয় বিভক্তি তীব্র হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গোলাম ফারুক অভির প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন বিএনপির জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দুই উপজেলায় সান্টুর নাম ব্যবহার করে হাতে গোনা কয়েকজন নেতা যে মাত্রায় চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দখলদারত্ব চালিয়েছেন, তিনি তা রোধ করেননি। ফলে মানুষের মধ্যে তার প্রতি ভীতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া কমিটি গঠন নিয়েও তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গোলাম ফারুক অভি কিংবা বিএনপি ঘরানার শক্তিশালী ইমেজসম্পন্ন কেউ প্রার্থী হলে বিএনপির জন্য জয় পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

এদিকে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং বাসদ মনোনীত প্রার্থীরা দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং জনসভা-পথসভা করছেন। পাশাপাশি এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারে মাঠে রয়েছেন। এনসিপির প্রার্থীরা সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের কাছে বিগত সরকারের অপশাসন, দুর্নীতি এবং জুলাই গণহত্যার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিএনপির নেতা-কর্মীদের দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, হত্যা, দখলদারত্ব ও বিশৃঙ্খলার কথাও তুলে ধরছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ