বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি সফল করতে বড় প্রস্তুতি বিএনপির
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একের পর এক কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির পাশাপাশি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলনে সোচ্চার হওয়া এবং ঐকমত্য পোষণ করছে।
সরকার পতন এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতঃপূর্বে গঠিত হয়েছে কয়েকটি জোট। এসব জোটের দাবি একটায় সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারসহ ১০ দফা দাবি আদায়। আর সে সুযোগে এসব দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
দশ দফা দাবি আদায় ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকাসহ উপজেলা ও মহানগরে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিল করবে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে দলটি।
এর আগে দলটি ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিল ও ১১ জানুয়ারির গণঅবস্থান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি মনঃপূত হয়নি বিএনপির। এ নিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচিতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় এবং ১৬ জানুয়ারির (সোমবার) কর্মসূচি সফল করতে দফায় দফায় মিটিং করা হয়েছে। সর্বোচ্চ উপস্থিতির জন্য দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এই নির্দেশনা অনুসারে সর্বোচ্চ লোক সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তবে জানা যায়, বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যেসব সমমনা দল ও জোট রয়েছে তাদের উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। জোটগুলোর উপস্থিতি নিয়ে সরকারি দলের পক্ষ থেকেও কটূক্তি করা হচ্ছে। এতে অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এজন্য কারো উপর ভরসা না করে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ উপস্থিতির মাধ্যমে বড় শোডাউন করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, কারো উপর নির্ভর করে বিএনপি মাঠে নামেনি। আমরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে আহ্বান করেছি, যারা আসবে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাবো। যারা দেশের পক্ষে কথা বলবে গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলবে, তারাই আমাদের বন্ধু, তারাই আমাদের সমমনা দল। এখানে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী নয়, সবাইকে নিয়েই এগোতে চাইছে দলটি। দলীয় বা একক- যেভাবেই আসুক সেটা দেখার বিষয় নয়। তারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলছে কিনা, দেশের পক্ষে কথা বলছে কিনা, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে কিনা, এটাই দেখার বিষয়। বিএনপি গুরুত্ব দিচ্ছে ঐক্যকে।
জানা যায়, বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে ৭ দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ৪ দলের বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য, এলডিপি এবং গণফোরাম রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ১৫ সংগঠনের সমমনা গণতান্ত্রিক জোট। এটি কোনো রাজনৈতিক জোট নয়। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় প্রেসক্লাব-কেন্দ্রিক আলোচনা সভা, মানববন্ধনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল ঢাকা মেইলকে বলেন, আগামীকাল সোমবার সারাদেশেই বিএনপির কর্মসূচি রয়েছে। এজন্য দেশব্যাপী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ গণমাধ্যমে বলেন, ১০ দফা দাবি আদায় এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবারের কর্মসূচির জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা কারও ওপর নির্ভর করে মাঠে নামিনি, নিজেদের ওপর নির্ভর করে মাঠে নেমেছি। আমাদের সাথে জনগণ রয়েছে।
আব্দুস সালাম আজাদ আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এই সরকারের পদত্যাগ চাই। যদি সরকার পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা অশান্তির পথে যাব। আগে আমরা অশান্তির পথে হাটতে চাই না। এই অবৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছি- শান্তির পথে এসে খুন, গুম, হত্যা বন্ধ করুন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিন, কথা বলার অধিকার দিন। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে ফিরে আসুন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনুন, নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। এটা আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি করছি। সরকার যদি অশান্তি সৃষ্টি করে, তখন আমরা সেই পথে হাঁটতে বাধ্য হবো, জনগণের স্বার্থে দেশের স্বার্থে।
জনতার আওয়াজ/আ আ