বহিষ্কারের খড়্গ থাকায় শেষ পর্যন্ত সিলেটে প্রার্থী ‘হচ্ছেন না’ আরিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ১৩, ২০২৩ ২:২০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ১৩, ২০২৩ ২:২০ অপরাহ্ণ

ডেস্ক নিউজ
বহিষ্কারের খড়্গ থাকায় শেষ পর্যন্ত আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন না বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। মেয়র আরিফের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র থেকে এমন আভাস পাওয়া গেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ার কারণে তিনি প্রার্থী হলে সংগঠন থেকে বহিষ্কার হবেন। এ কারণে তার প্রার্থিতা নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে সম্প্রতি সংসদ সদস্যদেরও পদত্যাগ করানো হয়। যে কারণে বিএনপি নেতা বর্তমান মেয়র আরিফের সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ক্ষীণ। কিন্তু হঠাৎ করে তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে সিলেটে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা। এর কিছুদিন আগে আরিফ অসুস্থ হন। অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি কাজে ফিরলেও নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় দলীয় সিদ্ধান্ত।
ছাত্রদল থেকে উঠে আসা আরিফ এর আগে তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তিনি আশাবাদী ছিলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন। সে লক্ষ্যে ২ এপ্রিল লন্ডনে যান দলীয় হাই কমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার আশায়। যুক্তরাজ্য থেকে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে সিলেট ফিরেন ১৭ এপ্রিল। ফিরে এসে আরিফুল হক জানান, বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, তবে তিনি প্রার্থী হবেন কি না জানাবেন ঈদের পর। তার এ বক্তব্যের পর প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। ঈদের পরে জানান, লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খোলাসা করবেন। ১ মে শ্রমিক দলের সমাবেশে তিনি বলেন, সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডের নেতৃস্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ২০ মে রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ করে প্রার্থিতার বিষয়টি জনসমক্ষে জানাবেন।
এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আরিফুল হক প্রার্থী হন এটি তার অনুসারীরা চাননি। টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সামনে এবার ছিল হ্যাটট্রিক মিশন। কিন্তু সেটি মনে হয় আর হচ্ছে না।
সিলেট পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হয় ২০০২ সালে। প্রথম নির্বাচন হয় চারদলীয় জোট সরকার আমলে। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। পরে ২০০৮ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বার বিজয়ী হন কামরান। তৃতীয় নির্বাচন হয় ২০১৩ সালের ১৫ জুন। এ নির্বাচনে কামরানের সঙ্গে মেয়র পদে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বিজয়ী হন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করেন আরিফুল হক।
কামরানের মৃত্যুর পর থেকে মেয়র পদে আরিফুল হক চৌধুরীকে ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ করার মতো প্রার্থীর অভাব দেখা দেয়। গত ২ জানুয়ারি লন্ডন থেকে এসে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচনী মাঠ গরম হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিতে তিনি রাতদিন গণসংযোগ করে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান। এ ছাড়া নির্বাচনে আরও ৪ মেয়র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ