বাঁশ-কঞ্চির শহিদ মিনারে বুনো ফুল দিয়ে আদিবাসী শিশুদের শ্রদ্ধা - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৭:৩০, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাঁশ-কঞ্চির শহিদ মিনারে বুনো ফুল দিয়ে আদিবাসী শিশুদের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ণ

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
ছবি : প্রতিনিধি
স্থায়ী শহিদ মিনার না থাকায় বাবুডাইং আলোর পাঠশালার আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে তৈরি করে শহিদ মিনার। এই শহিদ মিনারের বেদীতে মনের মাধুরী মিশিয়ে আলপনা আঁকে শিক্ষার্থীরা।

একুশের সকালে প্রভাত ফেরি শেষে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে নিজেদের তৈরি শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায় তারা। দিনটিকে ঘিরে উৎসবের আমেজ থাকে বিদ্যালয়জুড়ে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলায় ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা তাদের বানানো শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে ভাষা আন্দোলনে শহিদদের স্মরণ করেছে।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে প্রভাত ফেরি বের করা হয়। গ্রামের পথ ঘুরে শোভাযাত্রাটি আবারও বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়।

এরপর প্রথমে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে একে একে শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানায়।

শিক্ষকরা জানান, ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক সপ্তাহ আগে থেকেই দূর থেকে মাটি এনে শহিদ মিনারের বেদী তৈরি করে। বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে তৈরি করা হয় শহিদ মিনার। বিদ্যালয়ের মাটির ভবনের দেয়াল লেপে-পুছে ঝকঝকে তকতকে করে তোলে। এরপর মাটির দেয়াল ও শহিদ মিনারের বেদীতে মনের মাধুরী মিশিয়ে আলপনা আঁকে শিক্ষার্থীরা। শেষে শহিদ মিনারটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলে। ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিজেরাই তৈরি করে ফুলের ডালা।

রুমালি হাঁসদা বলেন, ‘প্রতিবছরই হামি এ অনুষ্ঠানে আসি। সব অনুষ্ঠান থাইক্যা হামার এ অনুষ্ঠানটাকে আলাদা মনে হয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। হামারঘে কোল ভাষায় গান হয়। দেখে মন ভইর‌্যা যায়।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘নিজেরাই শহিদ মিনার বানায়। শহিদ মিনার ও মাটির দেয়ালে আলপনা করে। শিশুরা হাতে হাতে নানা জাতের ফুল নিয়ে প্রভাত ফেরিতে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অংশ নেয়। শহিদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া, ধৈর্য্যসহকারে আলোচনায় সভায় অংশ নেওয়া; এমন দৃশ্য দেখে খুবই অভিভূত হয়েছি। ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এমন আয়োজন দেশের আর কোথাও খুব বেশি চোখে পড়ে না। শিক্ষার্থীদের এমন দেশপ্রেম আমাদের আশা দেখায়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর জানান, বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় স্থায়ী কোনো শহিদ মিনার নেই। অথচ ২০০৮ সালের পর থেকে প্রতি বছর ঘটা করে এখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহিদ দিবস পালন করা হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা শহিদ মিনার তৈরি করে। শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত করে এবং বেদিতে আল্পনা আঁকে। শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফুর্তভাবে এসব করে ভাষা আন্দোলনের শহিদ স্মরণ করেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ