বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দেশনায়ক তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৩৬, রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দেশনায়ক তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

ড. মোহা: তোজাম্মেল হোসেন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের রয়েছে এক গৌরব গাথা ইতিহাস। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে দেশে চরম সংকট আর নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে দেশের হাল ধরে বাংলাদেশকে নুতনভাবে গড়ে তুলে তলাবিহীন ঝুডির কালিমা মুছে বিশ্ব দরবারে সম্মানজনক আসনে আসীন করেন। দেশবিরোধী কুচক্রী মহল আর আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রে অকালে তাঁকে প্রাণ দিতে হয়! পরবর্তীতে দেশের হাল ধরেন তাঁর সুযোগ্য সহধর্মিনী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের মাধ্যমে দীর্ঘ নয় বছর সৈরাচার বিরোধী যুগোপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে আবারও দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ষড়যন্ত্র পিছু হটেনি, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আর সুদূর প্রসারী চক্রান্ত করে ওয়ান ইলেভেন তৈরি করে দেশের তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে দেশপ্রেমিক নেতৃত্বশূন্য করার প্রচেষ্টা করা হয়; কিন্তু সফল হতে পারেনি। অবশেষে মইনুদ্দিন- ফখরুদ্দিন সরকার তাঁদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বেগম খালেদা জিয়া দেশে অবস্থান করেন আর তারেক রহমান চরম অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চলে যান।
লন্ডনের উন্নত চিকিৎসায় একটু সুস্থ হওয়ার পর থেকেই তিনি দল গোছানোর কাজে আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশ আবারও চরম সংকটে। গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত, জনগণ বাকরুদ্ধ। গুম, খুন, হামলা- মামলা করে সরকার বিরোধী শক্তিকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভোট আর ভাতের অধিকার হারিয়ে দেশের মানুষ আজ চরম বিপাকে। এহেন নাজুক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য আপামর জনসাধারণ আজ দেশের সর্ববৃহৎ ও আস্থাভাজন দলের ক্যারিশমেটিক লিডার, দেশ নায়ক তারেক রহমানের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে দিনাতিপাত করছে।
১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল প্রধানত তিনটি মূলনীতিকে ধারণ করে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং গণতন্ত্র। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই এদেশের মানুষ উক্ত তিনটি অধিকার থেকেই বঞ্চিত হয়। গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে সকল পত্রপত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। এক ব্যক্তির হাতেই দেশের সকল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে, একপর্যায়ে দেশে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। লুটতারাজ, ব্যাংকডাকাতি, চুরি, রাহাজানি ইত্যাদির ফলে দেশে চরম নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভার গ্রহণ করার পর দেশের গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। একদলীয় বাকশাল থেকে জাতি মুক্তি লাভ করে। অল্প দিনের মধ্যেই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। দেশকে স্বনির্ভর করা এবং নব্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে বিশ্বের বুকে সম্মানজনক স্থানে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জিয়ার নেতৃত্বে দেশ যখন সম্মুখপানে এগিয়ে চলছিল তখনই আধিপত্যবাদী শক্তি আর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারিরা দেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এদেশের জননন্দিত ও গণ মানুষের নেতা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। জিয়ার শাহাদাতের কিছুদিন পরেই ১৯৮২ সালের ২৪মার্চ উচ্চাভিলাসী সেনাপ্রধান এ এইচ এম এরশাদ বন্ধুকের নলের জোরে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন।
শহিদ জিয়া কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি’র নেতাকর্মীর প্রবল চাপ আর অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। দলের তৎকালীন সুযোগ্য মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে সাথে নিয়ে তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ নয় বছর আন্দোলনের ফলে এরশাদ সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিএনপি বিজয়ী হয় এবং আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয। আবারো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের মানুষ ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরে পায়। দেশ আবারও এগিয়ে যায় সম্মুখ পানে। শহিদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, ১৯ দফা কর্মসূচিসহ তাঁর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়িত হতে থাকে। এই স্থিতিশীল অবস্থা বেশিদিন টেকেনি। নানা চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে ২০০১ সালে আবারো বেগম খালেদা জিয়া সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়কালে বিরোধী দল কথায় কথায় হরতাল ডেকেছে আর বাঁধার সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে দেশিবিদেশি ষড়যন্ত্র মিলিতভাবে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি করে। ২০০৮ সালে অবৈধ চক্রান্তের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। এই সরকারের প্রধান টার্গেট ছিল জিয়া পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন করা। এই পরিবারকে জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত ক্যান্টনমেন্টের মইনুল হোসেন রোডের বাড়ি থেকে ন্যাক্কারজনকভাবে উচ্ছেদ করা হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিদেশে চিকিৎসারত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিতে থাকে। শেষে বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ৭০ উর্ধ্ব বয়সী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন দিন জেলে রাখা হয়। বর্তমানে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে এবং সাজাও দেয়া হয়েছে, যেন দেশে ফিরে সরকার বিরোধী নেতৃত্ব দিতে না পারে।
বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের দুইটি নির্বাচনই চক্রান্ত প্রহসন ও প্রশ্নবোধক। ৩ মেয়াদে ১৪ বছরে বর্তমান সরকার দেশের সর্ববৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ অন্যান্য সকল বিরোধীমতকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে দমন পীড়ন করে আসছে। বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যা, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীর নামে হাজার হাজার গায়েবী মামলা, যার নজির বিশ্বের কোথাও নেই। লাখো কোটি টাকা বিদেশে পাচার, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি দলের লোকদের সেকেন্ড হোম তৈরি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইনভেস্টমেন্ট। গ্যাস, জ্বালানি তেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি, পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট, সীমান্তে বাংলাদেশীদের নির্বিচারে হত্যা, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্নের পথে। আর গণতন্ত্র তো শুরু থেকেই নির্বাচিত।
দেশ ও জাতির এই নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিতে পারে একমাত্র দেশ নায়ক তারেক রহমান। কারণ তাঁর মহান পিতা মাতা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আর গণতন্ত্রের জন্য চরম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বৃদ্ধ মা বেগম খালেদা জিয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পাহাড়ের মত দৃঢ়ভাবে দাড়িয়ে আছেন। তাছাড়া জনাব তারেক রহমানের রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। কিছু জন্মসূত্রে আর কিছু নিজ প্রচেষ্টায়। তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হঠাৎ করেই পাননি। তৃণমূল থেকেই তাঁর রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবা মেজর জিয়া যখন যুদ্ধের ময়দানে তখন মাত্র ছয় বছর বয়সে মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ছোট ভাই আরাফাত রহমানসহ পাকবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। মুক্তিপান ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে। ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন ২২ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালে জন্মভূমি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদ গ্রহণের মাধ্যমে। ১৯৯৩ সালের জুন মাসে সম্মেলনের মাধ্যমে বগুড়া জেলা বিএনপি’র সদস্য মনোনীত হন। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া যে পাঁচটি করে আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন, সে আসনগুলোর দেখাশোনা করার দায়িত্ব অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে পালন করেন তারেক রহমান। ১৯৯৯ সালে বনানীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সচিবালয় হিসেবে ‘হাওয়া ভবন’ ভাড়া করা হয়। এই ভবনের কার্যক্রম শুরুর কিছুদিন পরেই তারেক রহমানকে এর কোঅর্ডিনেটর করা হয়। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল অপরিরিসীম। সারাদেশের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি, মেনিফেস্টো ইত্যাদি কাজ হাওয়া ভবন থেকেই শুনিপুণভাবে মনিটরিং করেন তারেক রহমান। ২০০২ সালের ২২ জুন বিএনপি’র স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে তাঁকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত করা হয়। তারেক রহমান দলের দায়িত্ব পেয়ে পিতার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দল গোছানোর জন্য এবং দলের আদর্শ তৃণমূলের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য সারাদেশে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা শুরু করেন। শেষে তৃণমূল নেতাদের নিয়ে ছয়টি বিভাগে আলাদা আলাদাভাবে সম্মেলন করেন এতে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে সাধারণ মানুষের মেলবন্ধন ঘটে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক স্তরের গণমানুষ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অকপটে মনের কথা বলতে পারে এবং নির্ভয়ে মতামত দেয়ার সুযোগ পায়। নিজেরা সরকারের অংশীদার হতে পেরে গর্ববোধ করেছেন। দেশের জনগণ তারেক রহমানের মাঝে অনেক দিনের হারানো প্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানকে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিলেন। অল্প দিনের ব্যবধানে তারেক রহমান দেশের সকল নির্যাতিত নিপীড়িত গণমানুষের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হন। হাওয়া ভবনকে তারেক রহমান মূলত দেশ ও জাতির উন্নয়নের গবেষণা সেলে পরিণত করেছিলেন। তারেক রহমানের অপ্রতিরোধ্য উত্থানে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা ভীত হয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে কিছু রাজনৈতিক দল, কিছু জ্ঞান পাপী বুদ্ধিজীবী এবং কিছু সংবাদ মাধ্যম যুগোপতভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণা শুরু করে এবং পরিকল্পিতভাবে দেশে বেশ কিছু অঘটন ঘটানো হয়। এভাবে জোট সরকারের শেষের দিকে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক সেনা সমর্থিত সরকার।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপি’র পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে তারেক রহমানকে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তিনি দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদে নির্বাচিত হন এবং তাঁকে দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপি’র সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ার পর থেকে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইতোমধ্যেই তিনি বিএনপিসহ এর সকল অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রমকে সুসংগঠিত করেছেন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে। দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে যোগসূত্র তৈরি করেছেন। বিদেশের মাটিতে থেকেও তিনি দলের কাজ করে যাচ্ছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোন কার্পণ্য নেই। দীর্ঘ ১৫ বছর শত চেষ্টা করেও কেউ দলে ভাঙ্গন ধরাতে পারেনি বা একজন নেতাকেও সরকারি দলে যোগদান করাতে পারেনি এটাই বিএনপি তথা তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমান আধুনিক চিন্তা চেতনা মনষ্ক এক ভিশনারি ব্যক্তিত্ব। তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি অনেক প্রশস্ত। রাজনীতির জন্য তাঁর মনশীলতা তাঁকে এক অনন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে। তাই হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব আজ তাঁর সন্ধে অর্পিত হয়েছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ তাঁর দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আর ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির আশায় তাঁর দিকনির্দেশনা ও কার্যকরি কর্মপরিকল্পনা প্রত্যাশা করছে। আমরা আশা করি, এই কাজে তিনি সফলকাম হবেন, ইনশাআল্লাহ। জনগণ প্রস্তুত রয়েছে।
লেখক — ভাইসপ্রেসিডেন্ট, ইউট্যাব, সাবেক সভাপতি, শিক্ষক সমিতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ