বাংলার জয়যাত্রা জাহাজ আটকে দিল ইরান - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বাংলার জয়যাত্রা জাহাজ আটকে দিল ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ৩:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ৩:২৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় নোঙর তোলে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। প্রায় দেড় মাস আটকে থাকার পর এবার হরমুজ পার হওয়ার সময় জাহাজটিকে আটকে দিল ইরান।

জানা যায়, হরমুজ থেকে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে আগের স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জাহাজে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন ।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম রাত ৯টার দিকে এমটি জয়যাত্রার যাত্রা শুরুর কথা জানিয়েছিলেন। রাত ১টার দিকে হরমুজ থেকেই জাহাজ ফিরিয়ে দেয় ইরান।

আজ শনিবার সকালে তিনি জানান, হরমুজ পার হতে না পেরে পুনরায় নোঙর করেছে জাহাজটি।

এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজটি দুবাইয়ের কাছাকাছি স্থানে নোঙর করা ছিল। শুক্রবার রাতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর জাহাজের বিমা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বরাবর আবেদন করে বিএসসি। বিমার ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রওনা দিয়েছিল জয়যাত্রা।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় জাহাজটি নিরাপত্তাজনিত কারণে এতোদিন আটকে ছিল। এর আগে আরেকবার (১০ এপ্রিল) পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় যাত্রা শুরু করেছিল। সে সময় ইরানের নৌবাহিনীর অনুমতি না পাওয়ায় হরমুজ পার হতে পারেনি জাহাজটি। এবারও তাই ঘটল।

জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৮ হাজার টন সার বহন করছে। হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের পর এর পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন। হরমুজ পার হতে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে।

বিএসসি সূত্র জানায়, ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পৌঁছায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পরদিন ওই বন্দরের ১০ নম্বর জেটিতে ভিড়ে সেটি। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাস বিলম্বিত হয়।

পরে গত ১১ মার্চ জেবেল আলি বন্দরে জাহাজটির পণ্য খালাস শেষ হয়। এরপর এটির কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্যবোঝাই করার সূচি ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদে জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি। যুদ্ধবিরতি আলোচনার পর এটি সম্ভব হবে বলে মনে করেছিল তারা। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর মুখ পর্যন্ত গিয়েও ফেরত আসতে হয়েছিল। পরে যুদ্ধ বন্ধ না হওয়ায় অন্য বন্দর থেকে সার লোড করে নতুন গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে জাহাজটি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ