বান্দরবান সীমান্তে আজও গুলির শব্দ, আতঙ্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ১:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ১:৪১ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী ও আরকান বিদ্রোহীদের মধ্যে চলা গুলির শব্দে আজও কেঁপেছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা। এতে স্থানীয়দের মাঝে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সীমান্তের কয়েকটি এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে বোমার ও গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরকান বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে কয়েকবার বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে গোলা পড়েছে। এতে একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজনের আহত হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। ফলে নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড কোনারপাড়া ও তমব্রু সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভয়ে সীমান্ত লাগোয়া কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে আত্মীয়দের বাসায় চলে গেছে। গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমে আসায় গতকাল শনিবার কেউ কেউ ঘরে ফিরলেও সকাল পর্যন্ত ফের গোলাগুলির শব্দ শোনায় তারা আবারও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
গত শুক্রবার রাতে যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া মর্টার শেল ও গুলির খোসা এসে পড়েছে বান্দরবান নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রুং সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে। এতে গুলিতে সাদিয়া নামে আট বছর বয়সী এক শিশু ও ইকবাল নামে ১৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা কিশোর নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন পাঁচজন। এরপর থেকেই চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে। উপায় না পেয়ে প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়েছেন প্রায় ৪০ পরিবার।
ঘুনধুম ইউনিয়নের বাসিন্দা অনুময় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কয়েকদিনের মতো রোববারও সীমান্তে বোমা ও গুলির শব্দ শুনেছেন তিনি। ওপারে রাতদিন গোলা-বোমার আওয়াজে বাংলাদেশের স্থানীয়দের নির্ঘুম রাত কাটছে বলে জানান তিনি।
ঘুনধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার দিল মোহাম্মদ ভুট্টো জানান, মিয়ানমারে গুলির শব্দে এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে আছে। সীমান্তের স্থানীয়রা জমিতে কৃষিসহ কোনো কাজেই যেতে পারছেন না। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আজ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে মিটিং করতে যাচ্ছেন বলেও জানান এই প্রতিনিধি।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে জনগণকে নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়। আর আমরা জরুরি সভা আহ্বান করেছি। সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে সেখানকার বসবাসকারীদের নিরাপদ রাখা যায়। সরকার জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
জনতার আওয়াজ/আ আ