বা গে র হা ট ৩মাঠে বিএনপি’র ৪-জামায়াতের এক সম্ভাব্য প্রার্থী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বা গে র হা ট ৩মাঠে বিএনপি’র ৪-জামায়াতের এক সম্ভাব্য প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, নভেম্বর ২, ২০২৫ ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

 

বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনটি শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও চিতলমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। অন্যদিকে, মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপি’র ৪ প্রার্থী মাঠে সরব রয়েছেন।

বাগেরহাট জেলার চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কেটে নেয়ায় শরণখোলা ও মোড়লগঞ্জের ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাগেরহাট-৪ আসনটি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও নির্বাচন কমিশন তাতে সাড়া দেয়নি। প্রার্থীরা জানান, কচুয়া উপজেলাটি এ আসনে নতুন করে সংযুক্ত করায় ওই উপজেলার ভোটারদের সঙ্গে শরণখোলা-মোড়লগঞ্জের প্রার্থীদের এখনো সখ্যতা তৈরি হয়নি। ফলে তারা কিছুটা ভাবনায় পড়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী ভোটের মাঠে না থাকায় এ নির্বাচনকে নিয়ে তাদের প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ঘোষিত ৩১ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেটে নিজের ছবি ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছেন। তারা মোটর শোভাযাত্রা, সমাবেশ, পথসভা ও উঠান বৈঠকে সময় পার করছেন।

নির্বাচন ঘিরে চায়ের দোকান, রেস্টুরেন্টে পছন্দের প্রার্থী নিয়ে ভোটাররা আলোচনায় মশগুল থাকছেন। মনোনয়ন চাওয়া প্রার্থীরা তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি জনসম্মুখে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী বাগেরহাট জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম। গত ৬-৭ মাস ধরে তিনি ও সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এই আসনে নির্বাচন করবেন- এমন প্রত্যাশা নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন, তাই তার ক্লিন ইমেজ রয়েছে বলে ভোটাররা তাকে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনটি উপজেলায় তিনি যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন, তাতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচিত হয়ে শরণখোলা, মোড়লগঞ্জ ও কচুয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ২০১৮-২০২০ সালে উপ-নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়া কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা, তিনিও এ আসনের দলীয় টিকিট পেতে পারেন। এ ছাড়া, বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তাঁতিদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনির ও বিএনপি নেতা এডভোকেট অলিয়ার রহমান। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা ওমর ফারুক নূরী প্রার্থী হবেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। এদিকে, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের কেউ এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন কিনা- তা জানা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য একক প্রার্থী থাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা সুবিধাজনক স্থানে আছে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এক্ষেত্রে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়ে কিছুটা সংশয়ে দলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক ও প্রার্থীদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে দল যাকে প্রার্থী করবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন বলেও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলছেন। এসব বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, ত্রয়োদশ নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এ বিষয়ে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয় এবং আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে শিক্ষা, পর্যটন, নদী শাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবো। বিএনপি’র জেলা কমিটির সদস্য গাজী খায়রুজ্জামান শিপন বলেন, দল ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং ২০২০ সালের উপ-নির্বাচনে তাকে নমিনেশন দিয়েছিল। তার ধারণা, এবারো তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন।

জামায়াত ইসলামের বাগেরহাট জেলা শাখা সদস্য এবং জামায়াত মনোনীত বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মাঠে ময়দানে কাজ করে চলছি। আমরা আশাবাদী এবার শরণখোলা, মোড়লগঞ্জ ও কচুয়াবাসী আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। জনগণের জন্য যতটুক সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ