বিএনপিকে বিরোধী দল হিসাবে বিবেচনা করি সাক্ষাৎকারে মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, মার্চ ১, ২০২৪ ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, মার্চ ১, ২০২৪ ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার বলেছেন, আমরা সারা বিশ্বে বিরোধী দলের সাথে আলোচনায় বিশ্বাসী। বাংলাদেশে বিএনপিও এ ক্ষেত্রে ভিন্ন কিছু নয়। অন্য দেশের বিরোধী দলকে আমরা যে চোখে দেখি, বিএনপিকে আমরা সেভাবেই বিবেচনা করি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের বার্তা ছিল আমরা অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করতে চাই। নাগরিক সমাজ যাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমরা সরকারের কাছে উত্থাপন করেছি।
বাংলাদেশে তিন দিনের সফর সম্পর্কে যমুনা টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আফরিন আখতার এসব কথা বলেন। গত ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল এইলিন লুবাখার। সাথে ছিলেন আফরিন আক্তার এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) সহকারী প্রশাসক মাইকেল শিফার। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি ঢাকা সফরে আসা প্রথম মার্কিন প্রতিনিধিদল।
সফরের প্রথম দিন আফরিন আক্তার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া তিনি শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। পর দিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারীর নেতৃত্বে পুরো প্রতিনিধিদলটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে। তবে সফরকালে সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে মার্কিন প্রতিনিধিদলের কোনো বৈঠক হয়নি।
এ সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা প্রেস ব্রিফিং করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু পোস্ট দেয়া হয়েছে।
যমুনা টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আফরিন আখতার বলেন, সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র অনেক কাজ করেছে। সামরিক খাতে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডলার সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সহায়তার পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জিসোমিয়া (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট) বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক নতুন ধাপে উন্নীত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয়েই এই চুক্তি সইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসাবে জিসোমিয়া চুক্তি সইয়ে আমরা আগ্রহী। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তে যা ঘটছে তা নিয়ে আমরা অবশ্যই খুবই উদ্বিগ্ন।
স্বাধীন গণমাধ্যম ও মুক্ত নাগরিক সমাজ গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হিসাবে উল্লেখ করে আফরিন আখতার বলেন, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও মুক্তসমাজ বিনির্মাণ আমাদের কাছে মুখ্য। এ দেশের সমৃদ্ধির পথে যুক্তরাষ্ট্র এক সাথে কাজ করবে। গণতান্ত্রিক পবিবেশ বজায় রাখতে আমরা কাজ করতে চাই। শক্তিশালী ও টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবেশ একটি মুক্ত এবং স্বাধীন দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকারী। জ্বালানি খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধানে আগ্রহী। পাশাপাশি এ দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। ঢাকার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা চায় ওয়াশিংটন।
আফরিন আখতার বলেন, বাংলাদেশ বিমানকে সামনে এগিয়ে নিতে এয়ারক্রাফট সংগ্রহের ক্ষেত্রে বোয়িং একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতকৃত বোয়িং নিরাপদ, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং একসাথে অনেক যাত্রী পরিবহনে সক্ষম। এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ এবং যন্ত্রাংশ সহজলভ্য। একই সাথে বোয়িং একটি টেকসই এয়ারক্রাফট। সার্বিক বিবেচনায় বোয়িং কেনা একটি ভালো সিদ্ধান্ত।
জনতার আওয়াজ/আ আ