বিএনপির পদযাত্রায় সংঘর্ষ ছয় জেলায় ৪৮০৭ নেতাকর্মীর নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৮ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৫৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপির পদযাত্রায় সংঘর্ষ ছয় জেলায় ৪৮০৭ নেতাকর্মীর নামে মামলা, গ্রেপ্তার ৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৩ ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ছয় জেলায় মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির ৪ হাজার ৪৫৩ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গায়েবি অভিযোগে হয়রানি করতেই এসব মামলা ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা।

ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ হাজার ৩৯১ জনকে। তাদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হালুয়াঘাট থানার এসআই আতোয়ার আলী ৩৬ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই বিএনপি নেতাকে। ফুলপুরে ৭৩ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারাকান্দায় আওয়ামী লীগ কর্মী নাজিম উদ্দিন ১৯ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ৮০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গৌরীপুরে মামলায় ১৮ জনের নাম ও অজ্ঞাতনামা ৯০ জনকে আসামি করলেও গ্রেপ্তার নেই। ঈশ্বরগঞ্জে এসআই আশরাফুল আলম বিএনপির সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীরসহ ২৮ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ৭০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নান্দাইল থানার এসআই হাসানুর রহমান বিএনপির ৩১ নেতার নামে ও অজ্ঞাতনামা ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৯ নেতাকর্মীকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় পুলিশ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা করে।

অন্যদিকে গত ২৯ আগস্ট গফরগাঁও থানার তেজপাতা মার্কেট এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভালুকা থানার এসআই কাজল বিএনপির ৩১ নেতাকর্মীর নামে ও অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা, পূর্বধলা ও মদন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক মামলা করেছে। এর মধ্যে পূর্বধলায় ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৫০০ জনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে মামলা হয়। গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৩ বিএনপি নেতাকর্মী। কলমাকান্দায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা হলেও গ্রেপ্তার নেই। মদনে সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মামুন মিয়াকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গতকাল শনিবার মামলা করেন এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান সিরাজ।

মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার বলেন, পুলিশ তিনটি ককটেল উদ্ধারের কথা উল্লেখ করে মামলা করেছে। অথচ আমাদের কর্মসূচিতে এমন কিছু ঘটেনি। এমনকি পুলিশ বাধাও দেয়নি। এ গায়েবি মামলার নিন্দা জানাই।

রাজশাহীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল থেকে যুবলীগের সম্মেলনের ব্যানার ও ফেস্টুন ছেড়ার অভিযোগ এনে বিএনপির অজ্ঞাতনামা নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন যুবলীগ নেতা আব্দুল করিম। তিনি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নাহিদ আক্তার নাহানের ভাই। পুলিশ বিএনপির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তারা হলেন রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পিয়ারুল হায়দার আবু (৪২) ও মহানগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন (৪২)।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা বলেন, ‘যুবলীগ নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়ার ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীরা জড়িত নন। গায়েবি অভিযোগ এনে সারাদেশেই মামলা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশ। এটিও তেমনই গায়েবি মামলা।’

গাইবান্ধায় বিএনপির ৩৬ নেতাকর্মীর নামে ও অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে শনিবার সন্ধ্যায় মামলা করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনজন। জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিকের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ করে ১৫ নেতাকর্মীকে আহত করল পুলিশ। এখন তারাই হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করল। আমরা এ মিথ্যা ও গায়েবি মামলার নিন্দা জানাই।

পটুয়াখালীর দশমিনা থানার এসআই মেহেদি হাসান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ছাত্রদল কর্মী জুয়েল ও রনি এবং শ্রমিক দলের কর্মী মো. আকবরকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে বিএনপির তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি রেজভী উল কবির জমাদ্দারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত ৮ মার্চ হামলার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মাগুরার মহম্মদপুরে বিএনপির ১০১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও ১ হাজার ৪০০ জনের বিরুদ্ধে শনিবার সকালে মামলা করেন এসআই বাদশা মিয়া। পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আগস্টে ২৭ রাজনৈতিক মামলায় আসামি ১২ হাজার

আগস্টে সারাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২৭টি রাজনৈতিক মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ১২ হাজার ১২৮ জনকে। গতকাল মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তুলনামূলক বিশ্লেষণে আগস্টে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি তার আগের মাসের তুলনায় অবনতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৭৪টি ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত ও ৮৭৮ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল ও বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষে। এতে আরও বলা হয়, আগস্টে ৩৮ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চার মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর গণপিটুনিতে পাঁচজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন রাজশাহী ও বরিশাল ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ, দশমিনা (পটুয়াখালী), মহম্মদপুর (মাগুরা), মদন ও কলমাকান্দা (নেত্রকোনা), ভালুকা (ময়মনসিংহ) ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি]

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ