বিএনপির বরেণ্য রাজনীতিবিদগণের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৪ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৪ ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

বেলাল উদদীন সরকার তুহিন
সময় গেলে সাধন হয়না। এটা প্রবচন। বরেণ্য মানুষের চিন্তা ভাবনা বিশাল। সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী, জনসাধারণ, সাংগঠনিক কার্যাবলি নিয়ে কাজ করেন তাঁরা।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ভাই একজন বিএনপির ভ্যানগার্ড। সাহসী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সোনালী ফসল; তিনি ছিলেন রাকসু’র ভিপি; জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। তাঁর সাংগঠনিক আলোকরশ্মি এখন দীপ্ত পদচারণায় কর্মিরা উচ্ছসিত। রিজভী ভাই কে আমি দেখেছি, যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য থাকার সময়ে। ১৯৯৭-২০০০ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর থাকার সময়ে দাফতরিক কাজে উনার মেধা অনুযায়ী গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। যখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন, এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ঝলমল করছে। এটাই বাস্তবতা। কারণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয় রিজভী ভাই এর চৌকস, সাহসী, সৃজনশীল রাজনীতির প্রতি গভীরভাবে আস্তাশীল।
বিএনপি পরিচালনার জন্য, সহজ কথা, রিজভী ভাই এর মতো ১০ জন নেতা দরকার। কাজের সেকশন অনুযায়ী বিভক্ত করে দিলে বিএনপিতে অসাধারণ সাহসী, সাংগঠনিক নেতা রয়েছে।
আমার একজন প্রিয় নেতা ছিলেন মরহুম ফজলুর রহমান পটল ভাই। সত্যি কথা। চমৎকারভাবে বলতে পারতেন। তিনি ছিলেন রাকসুর সাবেক ভিপি। সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী। বিশিষ্ট পার্লামেন্টেরিয়ান। মেধাবী নেতা হিসেবে সর্বজন জ্ঞাত ছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্বশীলতা ছিলেন অতুলনীয়। নাটোরের আজকের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ভাই তার আবিস্কার।
পটল ভাই এর ইন্টারভিউ করেছিলাম বিটিভির এক অনুষ্ঠানের জন্য। নাম ছিলো প্রতিশ্রুতি। কী শব্দ চয়ন। ইতিহাসের বাক পরিবর্তন নিয়ে অসাধারণ বক্তব্য দিতে পারতেন। ইদানীং পটল ভাই এর মেয়ে এডভোকেট পুতুল এর সরস, চমৎকার বিনয়ী আচরণ, টকশো দেখে পটল ভাই এর কথা মনে পড়ে। পটল ভাই ছিলেন জাত পলিটিক্যাল নেতা। তিনি তরুনদের প্রমোট করতেন মনখোলে। পদ- পদবি শূন্য পূরণ দেখেছি। গতিশীলতা দেখে ভালো লাগতো।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বাড়ি, এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে মৃত, বহিষ্কৃত, দল করতে চায় না; তাদের কে বাদ দিয়ে অন্য সময়োপযোগী নেতাদের কে জায়গায় দিলে, দলের জন্য ভালো হয়।
যেমন: বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য মরহুম উকিল আবদুস সাত্তার, বহিষ্কৃত বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য একরামুজ্জামান, উপদেষ্টা সদস্য মরহুম কাজী আনোয়ার হোসেন, আরেকজন বিদেশে চলে গেছেন। শয্যাশায়ী বিএনপির ভাইস- চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, বিএনপির সহ তথ্য বিষয়ক শাকিল ওয়াহেদ সুমন এখন আর বিএনপির পরিচয় দেয় না। বিদেশে চলে গেছেন। ঐসব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখন নেতৃত্ব দেবার মতো চৌকস, গতিশীল, ছাত্রদলে গৌরবময় নেতারা গড়ে ওঠেছেন। তাদের কে পদায়ন করা হলে দল উপকৃত হবে। আমার মনে হয়, সারা বাংলাদেশে এধরণের অবস্থা বিরাজমান।
কিছু দিন হয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়াকে। তিনি অল্প কয়েকদিনে রাজনৈতিক সাংগঠনিক দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে তৃণমূল পর্যায়ে সারা জাগিয়েছেন।
দেখলাম, তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হবার পরও তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ইউনিয়ন যুবদলের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। এতে তৃণমূলের তারুণ্যের মধ্যে একটা রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।
বিভিন্ন মিডিয়া প্রকাশ পেয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় দলীয় পদবি ১৩৫ টি শূন্য রয়েছে। এইসব জায়গায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান মহোদয় আগ্রহশীল, মেধাবী, রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত রয়েছে; তাদের কে পদায়ন করলে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।
আবার বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপির পরিচয় দিতে চায় না। এনিয়ে বিনিয়ে, সরকারের প্রশংসা করে। চলমান এম পি, মন্ত্রীদের সাথে সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ এর জন্য প্রশংসা করে। আবার তা ফেইসবুকে প্রকাশ করে। বেহায়া কাকে বলে, কত প্রকার কি কি?
আমার মনে হয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর পরিবারের সম্মানিত নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান নেতৃত্ব বিকশিত করার বিষয়ে বেশ উদার। মর্যাদার আসনে বসিয়ে কাজ আদায় করে নিতে চান। এতে উনার কোনো কৃপাণতা নেই। একজন গ্রামের নেতার খোঁজ খবর নেবার চেষ্টা করেন।
কিন্তু, ফাঁক কোথায়? ধীর লয়ে সিদ্ধান্ত কেন আসছে। বিএনপি ও অংগসংগঠনসমূহে আহবায়ক কমিটি, ছোট্ট করে কমিটি গঠন, নতুন নেতৃত্ব বিকশিত করা, এরজন্য বিএনপির বরেণ্য রাজনীতিবিদগণ লিডার কে পরামর্শ দেবার বিষয়ে কৃপাণতা দেখাচ্ছেন।
অথবা সাহস করে সত্যি কথা বলতে পারছেন না। অথবা কোথাও কোনো মতলব আছে।
একটা পরিবারে বিএনপির জাতীয় স্হায়ী কমিটির সদস্য থাকার পর অন্য সদস্যদের কেন্দ্রীয় পদবি দরকার নেই। কেবল ছেলে, মেয়ে, ছেলের বউ, ভাই, বোন, বিয়াই, বিয়াইন কে কিভাবে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদবি দেওয়া যায়, এটা করা সমীচীন নহে।
একজন কৃষকের সন্তান সংসদে যাবে, কেন্দ্রীয় নেতা হবে, দেশ পরিচালনায় সম্পৃক্ত হবেন এটা ছিলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর মূল আদর্শিক চিন্তা।
সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার যখন দল পরিচালনা করতেন, তখন তাদের নিকটজন বহুদূরে রাখতেন। কাছে ঘেষতে দিতেন না। আমি ওবায়েদ ভাই এর সাথে সাংগঠনিক সফরে যাবার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি একবার
বিক্রমপুর গেলেন। এক বিশাল শোডাউন করে জনসভা করলেন। গাড়িতে বললেন, এই সভার নেপথ্যে কে ভূমিকা রেখেছিলেন। এধরণের দু চারজন নাম জানলেন।
পরবর্তীতে জাতীয় স্হায়ী কমিটির সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তাদের কথা বললেন। দেশনেত্রী নির্দেশ দিলেন, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদবি দেবার জন্য। ঐ নেতারা কিন্তু কোনো তদবির করেন নি।
ওবায়েদ ভাই এতে খুশি হতেন। তিনি এখন জাতীয় নেতা।
দলের জন্য সাংগঠনিক কার্যাবলি করার মেধা রয়েছে, তাদের খোঁজে বের করাই কাজ হলো দেশবরেণ্য নেতাদের।
যৌথ নেতৃত্ব (collective leadership), Subjective factor, objective factor) বিবেচনার আলোকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে গতি ফিরে আসে। কোয়ালিটি লিডারশীপ এ সংখ্যা বড় বিষয় নয়।
ভারতের কংগ্রেস, বিজিপি পরিচালনার জন্য বিশাল Kitchen Cabinet রয়েছে। দলের সোল টীম হিসেবে কাজ করে। পদ অনুযায়ী কাজের সিলবাস থাকে। কেবল মূল লিডার এর কাছে রিপোর্ট পেশ করেন।
রাজনীতিতে এখন Case Study Method চালু হয়েছে। বিপুল কর্মিদেরকে পরিকল্পনা মাফিক পরিচালনা করার বিকল্প নেই।
বহুমাত্রিক রাজনীতির মূল চিন্তা ভাবনা হলো অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির চর্চা। গণতন্ত্রের মৌলিক ধারণা হলো দায়িত্বশীলতা জবাবদিহিতা, সাংগঠনিক দায়িত্বশীলতা আনয়ন করা। রাজনৈতিক দলের দাফতরিক সহায়তা, দাফতরিক কলা কৌশল, বাস্তবায়ন, সৃজনশীলতা, মনিটরিং, একটা বিষয়ে অবগত আছেন, এদের কে দিয়ে কাজ সমাধান করা হলে চমৎকার ফল পাওয়া যায়।
অবহেলা, ঠিলে, ওএসডি, বন্ধা সিদ্ধান্ত, অকারণে বসিয়ে রাখা দলের জন্য সর্বনাশ ডেকে নিয়ে আসবে।
রাজনীতি অবশ্যই Higher Mathematics. ভুল হলে মার্কস সীটে আসবে শূন্য। ইতিহাসে তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। ইতিহাস কিন্তু গল্প নয়। তদন্তমূলক ঘটনা হলো ইতিহাস। এখানে কল্পিত কাহিনির সুযোগ নেই।
শিল্প কারখানা, বিভিন্ন সরকারি কারখানা, বেসরকারি কারখানা যারা পরিচালনা করেন, তাদের কে উচ্চ বেতন দেওয়া হয়। আবার পিএটিসি থেকে ট্রেনিং দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু, রাজনীতির মূল ট্রেনিং হলো কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এ সংসদে যে অভিজ্ঞতা পায়, ইউনিটের দায়িত্ব থেকে যে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা লাভ করে: ঐসব নেতাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদবি দেওয়া হলে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে গতিশীলতা আসতে বাধ্য।
লেখক: কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ
জনতার আওয়াজ/আ আ