বিএনপির সাথে একমত ইসলামী ঐক্যজোট ও ডেমোক্রেটিক লীগ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১১:৫৯, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপির সাথে একমত ইসলামী ঐক্যজোট ও ডেমোক্রেটিক লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১১, ২০২২ ১০:১৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১১, ২০২২ ১০:১৩ অপরাহ্ণ

 

প্রথম দফায় ১১টি দলের সাথে আলোচনার পর দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি। আলোচনায় দলগুলো বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে একমত হওয়ার কথা উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে এই সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলবো এবং তাদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।’

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শরীক দুটি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘অনির্বাচিত, গণতন্ত্র হরণকারী লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন ধরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি সংলাপ করছি। ইতোমধ্যে একদফা আলোচনা শেষ করেছি। দ্বিতীয় দফায় মূল দাবিগুলো নিয়ে কথা বলছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ১১টি দলের সঙ্গে কথা বলেছি। আজকে ডেমোক্রেটিক লীগ ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আপনারা জানেন আমাদের মূল দাবিগুলো হলো- গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ রাজনৈতিক কারণে যে ৩৫ লাখ মানুষের নামে মামলা সেই মামলাগুলো প্রত্যাহার।

সর্বোপরি যেটা প্রধান এই অনির্বাচিত সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার অথবা অন্তর্বতীকালীন দল নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সেই নিরপেক্ষ সরকার একটা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে বলে তিনি জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সেই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট গঠন করা হবে। সেই সাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি প্রতিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে এই সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলবো এবং তাদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।

এ সময় ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকিব বলেন, বিএনপি ১০ দফার একটি কর্মসূচি তৈরি করেছে। আমরা ইসলামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছি। আমরা ২০ দলীয় জোটের সৃষ্টি থেকে বিএনপির নেতৃত্বে আছি। বিএনপি কোনো দিন এই দেশের গণমানুষের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেয়নি। গণতন্ত্রবিরোধী কোনো কর্মসূচি নেয়নি। যার কারণে বিএনপির সৃষ্টি থেকে বিএনপির কর্মসূচির সঙ্গে একাত্ম আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো।

তিনি বলেন, আমাদের নেতা (মির্জা ফখরুল) যা বলেছেন সবগুলোর সঙ্গে আমরা একমত। এর সঙ্গে শুধু বলবো, এই দেশের অত্যন্ত নিরীহ আলেম-ওলামা, অনেক সিনিয়র তাদেরকে জেলে রেখেছে। আমি আলেম-ওলামাদের মুক্তির বিষয়টা যোগ করছি। আমরা আশা করি এই দেশে এমন গণআন্দোলন হবে যে মানুষের অভিশাপের কারণে জালেম সরকারের পতন হবে, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।

১০ দফা বিষয়টি পরিষ্কার করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটা জিনিস ক্লিয়ার করে দেই। আমাদের অ্যাডভোকেট রকিব সাহেব ১০ দফার কথা বলেছেন। ১০ দফা বলতে এখন পর্যন্ত কিছু নেই। আমরা সকল দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তারপর দফাগুলো আপনাদের জানাবো।

ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি বলেন, আজকে একটা ঐতিহাসিক দিবস। আজকের দিনে ১৯৯০ সালে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠিত হওয়া আগের দিন। আজকের দিনে শেখ হাসিনার সোনার ছেলে ছাত্রলীগের ছেলে মনির নিহত হয়েছিল এবং মনিরের রক্ত নিয়ে কেয়ার টেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকার গঠিত হয়েছিল। আজকে কেয়ার সরকারের সাথে বেঈমানী করছে, ছাত্রলীগের রক্তের সাথে শেখ হাসিনা বেঈমানী করছে।

তিনি বলেন, আজকে যদি ইতিহাস বলি, ’৯০ সালে শেখ হাসিনা কেয়ার টেকার সরকারের জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল। সেখানে খালেদা জিয়া বলেছিল যেকোনো ফরমেটে কেয়ার টেকার সরকার হোক, আমরা সেই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা ছিলাম। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের ১০ দফা ছিল। কিন্তু ১০ দফা-টফা থাকেনি, ছিল এক দফা। ১৯৯০ সালে এই দিনে স্লোগান উঠেছিল ‘একদফা এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি’, ‘এক দফা এক দাবি, এরশাদ তুই এখন যাবি’।

তিনি আরও বলেন, আজকে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার অপরাধ একটা, সব আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন। গিনেজ বুকে তার নাম ওঠা উচিত। কারণ পৃথিবীর কোথাও নাই এতো জায়গা থেকে নির্বাচিত হওয়া। আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই এবং তারেক রহমানকে স্ব-সম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করবো। আমাদের কোনো দফা নাই। আমাদের ‘একদফা এক দাবি, হাসিনা কখন যাবি’। যাবে না? এরশাদও বলেছিল কোথায় যাবো? কিন্তু পদত্যাগ করতে হয়েছিল। পদত্যাগ তাকে করতেই হবে, এটা আমাদের দাবি।

১২ অক্টোবর থেকে বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রত্যাশা জনগণের একটা অভ্যুত্থান হবে। এই সমাবেশগুলোর মধ্যে দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনগণ আসবে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই আমরা এই সরকারের পতন ঘটাবো।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন কিনা -এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যখন আমাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে তখন আপনাদের সামনে আসবো, তখন দেখতে পাবেন।

সংলাপে বিএনপির পক্ষে অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মওলানা আব্দুর রকিবসহ তার দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম খান, সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আহসান, যুগ্ম-সম্পাদক সামছুল হক, যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান রোকন, প্রচার সম্পাদক আনওয়ার আনসারী, নরসিংদী জেলা সভাপতি নাসির উদ্দীন, কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস রেজা, সদস্য আব্দুল কাদির, মজিবুর রহমান।

ডেমোক্রেটিক লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহতাজ আহসান প্রচার সম্পাদক কাউসার আলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ইয়াহিয়া মুন্না, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ