বিএনপি’র সেমিনার:যে নামেই হোক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৩১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি’র সেমিনার:যে নামেই হোক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২২, ২০২৩ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, জুন ২২, ২০২৩ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ

বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। তারা মনে করছেন পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বিচারপতি খায়রুল হক অবৈধ রায় দিয়েছেন। তিনি অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস পরে রায়ে সই করেছেন, আবারো রায়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। সুতরাং বর্তমান সংবিধানের আলোকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল রয়েছে, আওয়ামী লীগ গায়ের জোরে সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করছে।

বিএনপি নেতারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীনে অতীতের কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষের ভোটাধিকার ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এজন্য আগামীতে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।

গতকাল বিকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর সাংবিধানিকতা: নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখনো সংবিধানসম্মত’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেমিনারে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলেন। সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তবে আজ কেন তত্ত্বাবধায়ক দিতে তার এত আপত্তি।
ফখরুল বলেন, আমরা দেশের জনগণের সঙ্গেই আছি। দেশের সাধারণ মানুষই বলছে যে, শেখ হাসিনার অধীনে ভোট সুষ্ঠু হয় না। হওয়া সম্ভবও না। আমরা নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন চাই। সেই নিরপেক্ষ সরকারকে যে, যে নামেই ডাকুক। আগামীর নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হতে হবে। বিগত সময়ে ৪/৫টি নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে। সেসব নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে দিয়েছে। কারণ আজকে বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য ভিন্নভাবে পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। পরিকল্পিতভাবে তারা দেশকে সে পথে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন একটাই লক্ষ্য আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়কের দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাওয়া। কারণ, নির্বাচন ছাড়া জনগণের প্রতিধিদের ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না। তবে সরকার যতই আপত্তি তুলুক সব রাজনৈতিক দল আজ একই দাবিতে একমত হয়েছি। আমরা সরকারের পদত্যাগ চাই। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলেছি শেখ হাসিনার অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাবো না। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে জনগণকে আমাদের কথাগুলো জানানোর। সেই জন্যই আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র। অথচ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যারা সরকার গঠন করেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম দাবি তারাই তোলে, এরপরে মওদুদ আহমেদ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করেন। অথচ ভোট চুরি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে তত্ত্বাবধায়ক আদায় করে নিতে হবে। রাজনৈতিক সমাধান আদালতের মাধ্যমে হয় না, রাজপথেই হয়। তাই রাজপথ ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই, সবাইকে একসঙ্গে নামতে হবে। ভাগাভাগি, লাভ-লোকসান নিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। অর্জনের আগে ভাগ হয় না। তাই এসি রুমে বসে আওয়াজ তুলে কোনো লাভ নেই। জনগণের দাবি এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ, এই দাবি নিয়ে মাঠে নামতে পারলে কেউ রুখতে পারবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেনিমারে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাঈদ, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপি’র ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপি’র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ঢাবি অধ্যাপক নুরুল আমীন বেপারী, সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম সবুজ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঈসমাইল জবিউল্লাহ, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা হাসনাত কাইয়ুম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ। এ ছাড়াও আইআরআই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএনপি’র মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ