বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ, ৩ ইস্যুতে আসতে পারে নতুন সিদ্ধান্ত - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ, ৩ ইস্যুতে আসতে পারে নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত

দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। প্রায় তিন মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন এবং সংসদের উচ্চক্ষ গঠন- এই তিন ইস্যুতে আলোচনা ও নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রায় তিন মাস পর আজ শনিবারের বৈঠককে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, তিন মাস পর এই বৈঠক হওয়ায় এতে দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে আগামী ৬ এপ্রিল সভায় বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই দিনই নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে। কেননা সংরক্ষিত আসনের হিসাব-নিকাশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যেই কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও চিঠি প্রদান করেছে। সে জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।

জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রী ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। তবে ২০০১ সালে যারা সংক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো রাজনীতির মাঠে আছেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ এবারও জায়গা করে নিতে পারেন।

এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন এবং হালনাগাদের বিষয়টিও আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। কেননা দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। ৯ বছরের বেশি সময় ধরে মূল দল বিএনপির কাউন্সিল হয়নি। এ ছাড়া প্রায় সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটির মেয়াদও শেষ। বিএনপি এবং কয়েকটি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন। সংগঠনের পেছনে তাদের সময় দেওয়ার ফুরসত খুব একটা হচ্ছে না। সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এতে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে পদপ্রত্যাশী এবং পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। খুব দ্রুত সংগঠন না গোছালে সাংগঠনিক সংকটে পড়তে পারে বিএনপি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের কারণে আগে ও পরে সবার ব্যস্ততা থাকলেও আমাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। প্রায় ৩ মাস পর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নানা এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে দলের সাংগঠনিক কাজে জোর দেওয়া হতে পারে। মূল দলের কেন্দ্রীয় কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। দলের কাউন্সিল হয় না কয়েক বছর। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কয়েক বছর ধরে অনেক জেলায় নতুন কমিটি নেই। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের পর সরকারের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া সংসদের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। কেননা বৈঠকের এজেন্ডা কাউকে পাঠানো হয় না।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ