বিএনপি ছাড়া এই লড়াই জেতা যাবে তা মনে করি না : মান্না - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৩:২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

বিএনপি ছাড়া এই লড়াই জেতা যাবে তা মনে করি না : মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৩, ২০২২ ৫:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, আগস্ট ৩, ২০২২ ৫:২৩ অপরাহ্ণ

 

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমি বিএনপি করি না, বিএনপি করব এমন কোন কথাও নাই। কিন্তু বিএনপি ছাড়া এই লড়াই জেতা যাবে তা মনে করি না। এটা বাস্তব সত্য।

বুধবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সরকার ইভিএম-এ নির্বাচন করতে চায় কেনো?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় বি‌শেষ অতিথির বক্তব‌্য তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। সভা‌টি আয়োজন করে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম।

আন্দোলনের জন্য বিএনপিকে দরকার উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি সমালোচনা করতে পারি কিন্তু বিএনপি গত তেরো-চৌদ্দ বছর লাগাতার সংগ্রাম করছে। যত নেতা কর্মীর নামে মামলা আছে, অতীতে এত নেতা কর্মীর নামে মামলা ছিল না। এই জালিম সরকারের চোখে কোন পর্দা নেই। তারপরেও তাদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে পারেনি। তারা লড়াই করছে, জীবন দিচ্ছে। সবকিছু মিলেই আমি মনে করি, বিএনপিকে আন্দোলনের জন্য প্রয়োজন। তবে বিরোধী দলগুলোর নিজেদের অনেক ভুলের কারণে ফ্যাসিবাদ শক্তিশালী হচ্ছে, স্থায়ীত্ব পেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মান্না।’

মান্না বলেন, ‘বিএনপি পরাজিত হোক তা আমি চাই না। কারণ আমি মনে করি বিএনপির পরাজয় মানেই আমার পরাজয়। কিন্তু বিএনপির জয় মানেই যে আমার জয় এমনও নয়। বিএনপির কথা আমি শুনি কারণ আমার তাদের দরকার। কিন্তু তাদের কথাই যে আমার কথা এমনটাও নয়।’

তি‌নি ব‌লেন, একবার নির্বাচন বর্জন করার পর গত দুইবছর আমরা নির্বাচন বর্জন করিনি। গত নির্বাচন দিনের ভোট আগের রাতে হয়েছে তা নয়। দিনের ভোট আগের রাতে ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। এই ডাকাতি এবার করতে পারবে না। এটাও বোঝা যাচ্ছে। তাহলে যে সরকার যেকোন প্রকারেই ক্ষমতায় থাকতে চায় তার কাছে বিকল্প কি আছে। যাই করো ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। ছাড়বেই বা কিভাবে? বাঘের পিঠে উঠেছে। নামলে তো বাঘ খেয়ে ফেলবে। অতএব যাই বলেন, লড়াই ছাড়া আমাদের কোন বিকল্প নাই।

আন্তর্জাতিকভাবে দেশের মানসম্মান তারা (আওয়ামী লীগ) নষ্ট করেছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, ‘দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গিয়ে বলেছে একটু বিএনপিকে বোঝান না ইলেকশনে আসুক। মানে এখন বিএনপিকে ছাড়া ইলেকশন আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণ করবে না এটা তারা বুঝে গেছে। সর্বশেষ তারা সব দলকে ডেকেছে যারা বেশিরভাগই সরকারি দল। তাদের সাথে কথা বলে সিইসি বলছেন বেশিরভাগ দলই তো ইভিএমএর পক্ষে না। তাহলে ভোট হবে কি রকম করে? ইভিএম তো হতে পারে না। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ ইভিএম ছেড়ে দিয়েছে। এমেরিকাতে চলে কিন্তু সেখানে পেপার ট্রেইল আছে। সুতরাং কথা খুব সহজ, ইভিএম এর কারি জুরি চলবে না। এই ভোট মানব না। আপনি বললেন কিন্তু ওরা এভাবেই অগ্রসর হবে। সুতরাং কাজ হচ্ছে আন্দোলন করা।

সা‌বেক ঢাকসুর ভি‌পি ব‌লেন,পৃথিবীর বড় বড় দেশের অভ্যুত্থান যদি আমরা হিসাব করি তাহলে সেখানে উত্থান পতন আছে, ভুল আছে আর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে বিজয় ও শক্তি অর্জন করি, চূড়ান্ত বিজয় না আনতে পারলেও করা সম্ভব তা আমরা অনেকেই বুঝি না।

যেই দলে শেখ মুজিবের মতন বড় মাপের একজন নেতা ছিলেন, সেই দলের নামে মানুষ এখন থুতু দেয় বলে মন্তব্য করে মান্না বলেন, ‘তারা ফেয়ার নির্বাচন দেয় না। দেবে কেন, তারা জানে ফেয়ার নির্বাচন হলে তারা জিততে পারবে না। সত্যি কথা হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে এই দল ধসে গেছে।’

‌তি‌নি ব‌লেন,পরিকল্পনা মন্ত্রী বলছেন আমরা যদি সঞ্চয়, রেমিটেন্স আর এক্সপার্ট বাড়াতে পারি তাহলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে। এমন তিনটা জিনিসের কথা তিনি বললেন যার একটাও বাড়ানো সম্ভব হবে না। সরকার নিজের দেশের টাকার মান রাখতে পারছে না। আমাদের দেশের ডলারের সংকটের বড় কারণ মুদ্রা বাজার। প্রত্যেক বছর অন্তত পক্ষে সত্তর হাজার কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন কারা কারা ডলার পাচার করছে তা আমি জানি। তাহলে বলেন না কেন? উনি বলেনও না ধরেনও না। এই অল্প সময়ের মধ্যে সরকার ডলার পাচার বন্ধ করতে পারবে না। সঞ্চয়ও বাড়াতে পারবে না, এক্সপোর্টও বাড়াতে পারবে না।

মান্না ব‌লেন,সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশটাকে বদলানোর লড়াই করতে চাই। এমন কর্মসূচি ঘোষণা করা উচিত যেটা পালন করা সম্ভব হবে। রাজপথ দখলের ঘোষণা মানে সরকার অচল করে দেওয়া, সরকারকে ফেলে দেওয়ার আন্দোলন। আমি মনে করি যারা এই সমাজ বদলাতে চান, গণতন্ত্র চান তারা সবাই এই আন্দোলনের সাথে থাকবেন।

সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস‌্য ড খন্দাকার মোশাররফ হো‌সেন, যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বুলু, শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, ইয়ূথ ফোরামের উপদেষ্টা মো. শুকুর মাহমুদ ববি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বিপ্লব, সহ-সভাপতি আজিজুল হাই সোহাগ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ